টানা ৯ দিনের ঈদ ছুটিকে ঘিরে প্রস্তুতি থাকলেও বিশৃঙ্খলা, অবৈধ যানবাহন ও সড়ক অবরোধের আশঙ্কায় এবারও ভোগান্তির শঙ্কায় রয়েছেন লক্ষাধিক যাত্রী। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশের সড়ক-মহাসড়কের ৭৫ শতাংশের অবস্থা ভালো হলেও ব্যাটারিচালিত রিকশা, ফিটনেসবিহীন গাড়ি ও শিল্পকর্মীদের বিক্ষোভের কারণে যানজট ও দুর্ভোগ বাড়তে পারে।
ঢাকা থেকে বের হওয়ার প্রধান চার পয়েন্ট—গাবতলী, সায়েদাবাদ, টঙ্গী ও হানিফ ফ্লাইওভারে ইতোমধ্যেই যানবাহনের চাপ বাড়তে শুরু করেছে। গত দুই ঈদে হানিফ ফ্লাইওভারে মারাত্মক যানজটের সৃষ্টি হয়েছিল, এবারও একই পরিস্থিতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়া গাবতলী, সায়েদাবাদ ও টঙ্গীতে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইকের দাপটে বাসের গতি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
যমুনা সেতু সংলগ্ন এলাকায় প্রতিবারের মতো এবারও যানজটের শঙ্কা রয়েছে। গত বছর চন্দ্রা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত ১২ ঘণ্টা লেগেছিল। যদিও এলেঙ্গা থেকে রংপুর পর্যন্ত চার লেনের সড়ক খুলে দেওয়া হয়েছে, সিরাজগঞ্জের ইন্টারচেঞ্জ নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ায় যানজট অবশ্যম্ভাবী। এছাড়া গাড়ি বিকল হয়ে সেতুতে যানজটের ঘটনা আগেও ঘটেছে, এবারও তা পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা রয়েছে।
ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও আশুগঞ্জ-ব্রাহ্মণবাড়িয়া-আখাউড়া সড়কের উন্নয়ন কাজ চলমান থাকায় নরসিংদী ও আশুগঞ্জে যানজটের শঙ্কা রয়েছে। তবে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে তুলনামূলক কম সমস্যার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
শিল্পকারখানার শ্রমিকদের বেতন-ভাতা নিয়ে অসন্তোষ ও রোজার মধ্যে সড়ক অবরোধের ঘটনা ঈদযাত্রাকে ব্যাহত করতে পারে। এছাড়া, পুলিশের সক্রিয়তা কম থাকায় মহাসড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইকের অবাধ চলাচল যানজটের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান জানান, ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল করতে দেওয়া হবে না এবং রুট পারমিট লঙ্ঘনকারী গাড়ির নিবন্ধন বাতিল করা হবে। হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক দেলোয়ার হোসেন মিয়া বলেন, চন্দ্রা ও যমুনা সেতু এলাকায় বিশেষ নজরদারি থাকবে।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) সারাদেশে ১৫৫টি স্থানকে যানজটপ্রবণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৪৮টি, ঢাকা-উত্তরবঙ্গে ৫২টি এবং ঢাকা-সিলেটে ৪১টি স্থানে যানজটের আশঙ্কা রয়েছে।
ঈদ উপলক্ষে বাড়ি ফেরার পথে যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে কর্তৃপক্ষের প্রস্তুতি থাকলেও বাস্তবায়ন ও শৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপই নিশ্চিত করতে পারে সহজ ও নিরাপদ যাত্রা।