বাংলাদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত করে তুলতে যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজন করা হবে টেক অ্যান্ড বিজনেস সিনার্জি সামিট ২০২৫। আগামী ১২ থেকে ১৫ মে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া ও ওয়াশিংটনে এ সামিটের আয়োজন করা হবে। সামিটের মাধ্যমে বাংলাদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মার্কিন বিনিয়োগ পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে মনে করছেন আয়োজকরা।
এ সামিট আয়োজন উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারের বিএসইসি ভবনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে আয়োজক প্রতিষ্ঠান স্টেশন ঢাকা। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে বক্তব্য দেন এটির অন্যতম উদ্যোক্তা মোসাদ্দেক হাসান। তিনি বলেন, ‘বিশে^র বিভিন্ন দেশের কোম্পানি বাংলাদেশ থেকে পণ্য তৈরি করে বিশ্বব্যাপী খুচরা বিক্রি করে। কিন্তু বাংলাদেশের নিজস্ব কোনো খুচরা বিক্রেতা ব্র্যান্ড অথবা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কোনো ই-কমার্স নেই। আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠিত করা। এ ক্ষেত্রে যেসব প্রতিষ্ঠান কাজ করতে চায়, আমরা তাদের সহায়তা দেব।’
যুক্তরাষ্ট্রে সামিট আয়োজনের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, বিশে^র সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। আর সেখান থেকে বিনিয়োগ পাওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। বাংলাদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানের বিজনেস আইডিয়া যদি যুক্তরাষ্ট্রের কোনো বিনিয়োগকারীর নজরে আসে, তাহলে সেই প্রতিষ্ঠানের পক্ষে মার্কিন বিনিয়োগ পাওয়া সহজ হবে।
এ আয়োজনে বাংলাদেশের পাশাপাশি নেপাল ও শ্রীলঙ্কার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও অংশ নেবে বলে উদ্যোক্তারা জানান। তারা জানান, এই সামিট একটি স্বাধীন উদ্যোগ। যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ পরিবেশের সঙ্গে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও নেপালের উদ্যোক্তাদের একটি যোগসূত্র তৈরি হবে। বাংলাদেশের উদ্যোগকে আঞ্চলিক পরিম-লে তুলে ধরতে শ্রীলঙ্কা ও নেপালকেও অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এটি দক্ষিণ এশিয়ার একটি সম্মিলিত উদ্যোক্তাদের উদ্যোগ হিসেবে মার্কিন বিনিয়োগকারীর সামনে উপস্থিত হবে বলে আয়োজকরা জানান।
এবারের সামিট আয়োজনের লক্ষ্য হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন ব্যবসায়িক সংযোগ তৈরি করা, পুঁজি সংগ্রহ, মার্কিন বাজারে প্রবেশগম্য তৈরি ও নীতি সহায়তার প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা এবং বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে একটি উচ্চ প্রযুক্তিসম্পন্ন, উদ্ভাবনী ও বৈশি^ক ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। মূলত বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতের স্টার্টআপ কোম্পানিগুলোকে এ সামিটে অংশগ্রহণের বিষয়ে বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে। কারণ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সম্প্রসারণের সবচেয়ে বড় সম্ভাবনাময় বাজার হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এর বাইরে অন্য যেসব প্রতিষ্ঠান বৈশি^ক অঙ্গনে ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে চায়, তাদেরও সুযোগ করে দেওয়া হবে বলে আয়োজকরা জানান। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের স্টার্টআপ কোম্পানিগুলোকে ১০ হাজার ডলার পর্যন্ত বিদেশে বিনিয়োগের সুযোগ দিয়েছে। এটি বিশ্ববাজারে
বাংলাদেশি ব্র্যান্ডের সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।