৯
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে ‘আওয়ামী লিগ’ নামে নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন চেয়ে আবেদন করা দলের প্রধান উজ্জ্বল রায়ের সম্পর্কে চমকপ্রদ তথ্য পাওয়া গেছে। তার দল গঠন নিয়েও এলাকায় চলছে নানা গুঞ্জন। তাকে এলাকার মানুষ উজ্জ্বল রায় নয়, চেনেন ভিভিড সাহা নামে। তার বাবা-মা দাবি করেছেন, উজ্জ্বল একজন মানসিক রোগী। গত চার-পাঁচ দিন ধরে তিনি বাড়িতে নেই। এখন কোথায় আছেন তাও জানা নেই তাদের।
গত সোমবার উজ্জ্বল রায় (২৬) নামে একজন ‘আওয়ামী লিগ’ নামে নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন চেয়ে ইসির কাছে আবেদন করেন। উজ্জ্বল রায় ওরফে ভিভিড সাহার বাড়ি পার্বতীপুর উপজেলার হাবড়া ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামে। তার বাবার নাম নরেশ চন্দ্র রায়, মা পারুল রানী। তাদের বাড়ি গেটে লেখা রয়েছে ‘সাহা পরিবার’।
গত বুধবার দুপুরে তাদের বাড়িতে গিয়ে কথা হয় উজ্জ্বল রায়ের বাবা-মায়ের সঙ্গে। বাবা নরেশ চন্দ্র বলেন, ‘আমার দুই ছেলে ও এক মেয়ে। বড় ছেলে কনক চন্দ্র ইউএডিপিতে চাকরি করে। মেয়ে প্রতীমা রানীকে বিয়ে দিয়েছি দিনাজপুরে। ছোট ছেলে ভিভিড সাহা চারবার ফেল করে এসএসসি পাস করেছে। সে মানসিক ভারসাম্যহীন।’
তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এমবিবিএস, এফসিপিএস (সার্জারি) এমএস (নিউরো-সার্জারি) নিউরোসার্জন (ব্রেইন অ্যান্ড স্পাইন সার্জন) নিউরো সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. রাজ কুমার রায়ের অধীনে চিকিৎসা নিচ্ছে। জানি না উজ্জ্বল কীভাবে, কেন বা কার পাল্লায় পড়ে এ কাজ করেছে। এলাকার মানুষ হাজার হাজার প্রশ্ন করছেন।’
নরেশ চন্দ্র বলেন, ‘আমার ছেলে উজ্জ্বলের নাম ব্যবহার করে কেউ তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। উজ্জ্বল একজন মানসিক রোগী। ডাক্তারের ব্যবস্থাপত্র আছে। আমি ছেলের হয়ে সবার কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। ও মানসিক রোগী। ভালো-মন্দ বুঝে না। ঠিকমতো খেতেও পারে না।’
উজ্জ্বলের মা পারুল রানী বলেন, ‘বছরখানেক আগে উজ্জ্বল নিরামিষ খাওয়া শুরু করে। একসময় হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম সংগঠন ইসকনে যাতায়াত ছিল। এখন সে যায় না।’
এ বিষয়ে জানতে একাধিক প্রতিবেশীর কাছে গেলেও, কেউ কোনো কথা বলতে রাজি হননি। তবে নাম জানাতে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, ‘উজ্জ্বল রায় নয়, আমরা তাকে ভিভিড সাহা নামে চিনি। নিবন্ধনের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর থেকে সে গা ঢাকা দিয়েছে।’
পার্বতীপুর মডেল থানার ওসি মো. আব্দুস ছালাম বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে কিছুই জানি না। আমাদের কাছে এ ধরনের কোনো তথ্য নেই।’