চট্টগ্রামে বালু মহাল নিয়ে দ্বন্দ্ব, ২ জনকে গুলি করে হত্যা

চট্টগ্রাম নগরে অবৈধ বালুর মহালের আধিপত্যের দ্বন্দ্বে দুইজনকে গুলি করে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষের ‘সন্ত্রাসী’ গ্রুপ। একই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন আরও দুজন। গতকাল শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে নগরের নবাব সিরাজউদ্দৌল্লা সড়কের চন্দনপুরা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

চট্টগ্রাম নগর পুলিশের উত্তর জোনের উপ-কমিশনার আমিরুল ইসলাম ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

নিহত দুজন হলেন— আবদুল্লাহ্ এবং মানিক। গুলিবিদ্ধ একজনের নাম রবিন, অন্যজনের নাম জানা যায়নি। 

পুলিশ জানিয়েছে, গতকাল মধ্যরাত থেকেই কর্ণফুলী শাহ আমানত সেতু এলাকায় বালু মহালের আধিপত্যকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসীদের দুটি গ্রুপ অবস্থান করছিল। এক গ্রুপে ছিল চট্টগ্রামের অন্যতম শীর্ষ সন্ত্রাসী সারোয়ার বাবলার নেতৃত্বে। তার সঙ্গে ছিলেন নিহত মানিক, আবদুল্লাহ, ইমন এবং রবিনসহ ৬ জন। অপর গ্রুপে খোরশেদ হাসানের নেতৃত্বে ছিলেন হাসান, রায়হানসহ আরও কয়েকজন।

প্রত্যক্ষদর্শী এক যুবক সাংবাদিকদের বলেন,‘একটি মোটরসাইকেলে করে তিনজন এসে প্রাইভেটকারকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়েছে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই মোটরসাইকেল আরোহীরা চলে যায়। আমরাও আকস্মিকতায় আরেকটি কুলিং কর্নারে আশ্রয় নিই। এরপর সেখানে দুজনকে মৃত অবস্থায় দেখতে পাই।’

স্থানীয় সূত্র জানায়, বালুর মহালকে কেন্দ্র করে সারোয়ার বাবলার সঙ্গে খোরশেদ, রায়হান ও হাসানের গ্রুপের দ্বন্দ্ব ছিল। গতকাল বাবলা গ্রুপ ৬ জন নিয়ে একটি প্রাইভেটকারে ছিল, আর খোরশেদ গ্রুপ চার-পাঁচটি মোটরসাইকেল নিয়ে তাদের ধাওয়া করে। এতে পারস্পরিক গোলাগুলি হয়, এবং তাদের কাছে ভারী অস্ত্র ছিল।

পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘চন্দনপুরা এলাকায় পুলিশের টহল গাড়ি দেখে সারোয়ার গ্রুপের একজন সাহায্য চাইতে যান। এর মধ্যে মোটরসাইকেলে এসে অন্য গ্রুপ প্রাইভেটকার লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয় এবং গুলিবিদ্ধ হন আরও দুজন। ইমন নামে একজন পুলিশ হেফাজতে আছে। সারোয়ার বাবলা পলাতক।’

কে এই সারোয়ার হোসেন বাবলা?

সারোয়ার হোসেন বাবলা চট্টগ্রামের চাঞ্চল্যকর ৮টি খুনের মামলার আসামি এবং ‘শিবিরক্যাডার’ হিসেবে পরিচিত সাজ্জাদ আলী খানের একসময়ের 'সেকেন্ড ইন কমান্ড'। তিনি নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার খোন্দকার পাড়ার কালা মুন্সির বাড়ির আব্দুল কাদেরের ছেলে। চার বছর জেল খেটে পালিয়ে যান ভারতে, সেখানে ‘বড়ভাই’ সাজ্জাদের দেখভালে ছিলেন দুবছর। ২০২০-এ দেশে ফিরে গ্রেপ্তার হন শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে, পরে বের হয়ে আবারও জড়িয়ে পড়েন পুরোনো অপকর্মে। সর্বশেষ, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে গ্রেপ্তার হন।

পুলিশের তথ্যমতে, সারোয়ার হোসেন বাবলার বিরুদ্ধে নগরের ডবলমুরিং, পাঁচলাইশ ও বায়েজিদ বোস্তামী থানায় হত্যা, চাঁদাবাজি, অস্ত্রবাজি, ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধে মোট ১৮টি মামলা রয়েছে। সবগুলো মামলায় তিনি জামিনে রয়েছেন।