নীলফামারীর জলঢাকায় বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘিরে ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন। এ নিয়ে ঈদের আগের দিন গত রবিবার (৩০ মার্চ) থেকে উপজেলা জুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এমনকি কর্মসূচি ঘিরে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ফলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আজ মঙ্গলবার নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলা শহরে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জায়িদ ইমরুল মোজাক্কিন। এ ঘটনায় জলঢাকা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এলাকাজুড়ে ১৪৪ ধারা জারির ফলে বিপাকে পড়েছেন ঈদে ঘুরতে যাওয়া মানুষ। জলঢাকা শহরের প্রধান সড়ক দিয়ে তিস্তা ব্যারেজ, তিনবিঘা করিডোর, নীলফামারী, রংপুর, দিনাজপুর, পঞ্চগড় জেলার বিভিন্ন বিনোদন ও পার্ক স্পটে যাওয়া যায়। অনেকে মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কার-মাইক্রো ভাড়া করে পরিবার নিয়ে ঘুরতে যাচ্ছেন। কিন্তু পথে পুলিশের ব্যারিকেট চেকপোস্টের কারণে দীর্ঘ সময় পার করতে হচ্ছে তাদের।
অন্যদিকে একাধিক সূত্র জানায়, জলঢাকা উপজেলা বিএনপির পক্ষে রোজার শেষ দিন (৩০ মার্চ) জলঢাকা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ইফতার মহফিল অনুষ্ঠিত হয়। ওই মাঠে ঈদের দিন বিকাল থেকে তিন দিনের জন্য মেলার আয়োজন করে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দল। অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মইনুল ইসলাম ও তার পক্ষের লোকজন মেলা কমিটির আহ্বায়ক জলঢাকা উপজেলা জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আলমগীর হোসেন ও জলঢাকা সরকারি ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবু সাঈদ শাকিলসহ মেলা কমিটির অন্যান্য সদস্যদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা করে মেলা প্রাঙ্গণ ভাঙচুর করেন। এ ঘটনায় প্রতিবাদে মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) জলঢাকায় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল মানববন্ধন ও সমাবেশের আয়োজন করে তারা। অপরদিকে পাল্টা কর্মসূচি হিসেবে উপজেলা ও পৌর বিএনপির পক্ষে অপর গ্রুপের বিরুদ্ধে মেলার নামে চাঁদাবাজি ও মেলা বন্ধের ডাক দেয়। এতে ঈদের দিন বিকাল হতে জলঢাকা শহর জুড়ে টানটান উত্তেজনা দেখা দেয়। তারই আলোকে প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে।
বিএনপির উভয়পক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করা হলে তাদের কারোই মুঠোফোনে যোগাযোগ না হওয়ায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী অফিসার জায়িদ ইমরুল মোজাক্কির দেশ রূপান্তরকে জানান, এলাকায় যেন রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ না হয় এলাকাবাসীদের সার্বিক নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
জলঢাকা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরজু মো. সাজ্জাদ হোসেন দেশ রূপান্তরকে জানান, ১৪৪ ধারা জারি করেছেন ইউএনও। কোনও পক্ষ যাতে কর্মসূচি করতে না পারে সে জন্য জলঢাকা শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, আজ ঈদের দ্বিতীয় দিন, অনেকে পরিবার নিয়ে বিভিন্ন স্থানে ঘুরতে যাচ্ছেন। আমাদের চেকপোস্টগুলিতে চেককিং শেষ করে দ্রুত প্রাইভেট কার-মাইক্রোকার ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে।