ঈদের ছুটিতে খুলনায় আতঙ্ক!

ঈদের ছুটিতে খুলনায় বেপরোয়া ছিল সন্ত্রাসীরা। সময়টিকে উপযুক্ত মনে সাবেক সংসদ সদস্যের বাড়িসহ একাধিক জায়গায় হামলা চালিয়েছে তারা। ঘটেছে যৌথবাহিনীর সঙ্গে সন্ত্রাসীদের গুলি বিনিময়ের ঘটনাও। এ ছাড়া হত্যার উদ্দেশ্যে দুইজনকে লক্ষ্য করে গুলিও ছোঁড়ে তারা। যা নিয়ে আতঙ্কিত ছিল এ জনপদের মানুষ।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার রাতে সন্ত্রাসীরা খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম এম নূরুল ইসলামের বাবুখান রোডের বাড়িতে হামলা চালায়। সন্ত্রাসীরা রাত ১০টার দিকে বাড়ির গেট ভেঙে ভেতর প্রবেশ করে বাসার গ্যারেজে রাখা প্রাইভেটকার কুপিয়ে ফেলে রেখে যায়।

নূরুল ইসলামের ছেলে আরিফুল ইসলাম লুনিক বলেন, রাত ১০টার দিকে মোটরসাইকেলে ৫ থেকে ৬ জন যুবক বাড়ির সামনে এসে চিৎকার করতে থাকে। এক পর্যায়ে তারা গেট ভেঙে ভেতরে ঢুকে প্রাইভেটকারের টায়ার কুপিয়ে নষ্ট করে। এ সময় গুলির শব্দ শোনা যায়।

একই দিন রাতে দিঘলিয়া উপজেলার গাজীরহাট ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মোল্যা মফিজুল ইসলাম ঠান্ডুর বাগমারা গ্রামের বসতবাড়ি ভাঙচুর করে দুর্বৃত্তরা। দিঘলিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ এইচএম শাহীন বলেন, রাত আনুমানিক ১১টার দিকে দুর্বৃত্তরা পলাতক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মোল্লা মফিজুল ইসলাম ঠান্ডুর বাড়ি ভাঙচুর করে। তবে থানায় অভিযোগ করেনি কেউ।

এদিকে ঈদের দিন সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে রূপসা উপজেলার বামণডাঙ্গা বাজারে দোকান লুট ও বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়।

স্থানীয়রা জানান, ঈদের দিন বুড়িগাঙনী গ্রামের এক যুবকের সঙ্গে পাশের বামনডাঙ্গা গ্রামের অপর এক যুবকের ঝগড়া হয়। ঐ ঘটনার জের ধরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে বামনডাঙ্গা গ্রামের ১৫ থেকে ২০ জন দুলাল ফকিরের দোকানে হামলা চালায়। এ সময় সন্ত্রাসীরা দুলাল ফকিরকে কুপিয়ে জখম করে। এ ঘটনায় স্থানীয় থানায় অভিযোগ করা হলে গত মঙ্গলবার সকালে সন্ত্রাসীরা তার বাড়িতে পুনরায় হামলা চালায়।

অন্যদিকে গত রবিবার সন্ধ্যায় রূপসা উপজেলার বাগমারা বাসস্টান্ড সংলগ্ন ব্যাংকের মোড়ে সন্ত্রাসীরা রুবেল নামে এক যুবককে গুলি করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়। এ সময় মাগরিবের নামাজে উপস্থিত মুসল্লিদের উপস্থিতি বেশি দেখে সন্ত্রাসীরা মোটরসাইকেল নিয়ে পলিয়ে যায়। রুবেল ঐ এলাকার মাদক ব্যবসায়ী জানায় স্থানীয়রা।

এ ছাড়া একই রাতে সন্ত্রাসীরা রামনগর এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী রবিউল হক রবিকে গুলি করে। কিন্তু গুলিটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় তার বাম হাতে বিদ্ধ হয়। পুলিশের ভাষ্য মতে মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ঐ গুলির ঘটনা ঘটেছে।

ঐদিন (রবিবার) রাত ১১টার দিকে পুলিশ মহানগরীর জাহিদুর রহমান সড়ক থেকে বিদেশি পিস্তল ও ৫ রাউন্ড গুলিসহ মো. রুবেল খান নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার রুবেল বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জ উপজেলার মো. হান্নান খানের ছেলে।

এ প্রসঙ্গে খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাওলাদার সানোয়ার হুসাইন মাসুম বলেন, নিরালা পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা জাহিদুর রহমান সড়কের চেকপোস্টে ডিউটি করছিলেন। রাত ১১টার দিকে মো. রুবেল খান পুলিশ দেখে অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করে। তার এ আচরণ দেখে পুলিশের সন্দেহ হয়। এ সময়ে পুলিশ তার দেহ তল্লাশি করে কোমর থেকে ইউএসএ’র তৈরি একটি রিভলবার, ৫ রাউন্ড তাজা ও একটি গুলির খোসা উদ্ধার করে।

এর আগে গত শনিবার রাত ১২টার দিকে নগরীর আরামবাগ এলাকায় যৌথবাহিনীর সঙ্গে সন্ত্রাসীদের গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী গুলি বিনিময় চলাকালে একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা পরাজিত হয়। 

এ সময় নগরীর আতঙ্ক শীর্ষ সন্ত্রাসী পলাশ শেখ ও তার অন্যতম সহযোগী কালা লাভলুসহ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৩টি পিস্তল, ৪ রাউন্ড পিস্তলের গুলি, ১টি শটগান, ২৩ রাউন্ড শটগানের গুলি, ২টি চাইনিজ কুড়াল, ১টি চাপাতি, ১টি হাসুয়া, ২টি চাকু, ৪টি মোবাইল ফোন, ৭টি মোটরসাইকেল এবং নগদ ১০ হাজার টাকা উদ্ধার করে।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সোনাডাঙ্গা জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) আজম খান বলেন, গ্রেপ্তার সন্ত্রাসী পলাশ শেখের বিরুদ্ধে খুন, ডাকাতি ও ছিনতাইসহ মোট ১৪টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। তার মধ্যে ২টি হত্যা, ৩টি ডাকাতি, ১টি অস্ত্র, ২ টি চাঁদাবাজি এবং অন্যান্য ৬টি মামলা রয়েছে।

পলাশ শেখের অন্যতম সহযোগী কালা লাভলুর বিরুদ্ধে ১টি ডাকাতি, ১টি অস্ত্র, ১টি চাদাবাজি ও ১টি পুলিশকে আঘাতজনিত মামলাসহ ৬টি মামলার অভিযোগ রয়েছে তার নামে। অপর সহযোগী নুরে আলম সিদ্দিকী ওরফে লিয়ন শরীফের বিরুদ্ধে ২টি এবং ইমরান হোসেন ট্যাটু ওরফে ট্যাটু ইমরানের বিরুদ্ধে ১টি ফজলে রাব্বি রাজনের বিরুদ্ধে ১টি, রিপনের বিরুদ্ধে ১টি ও ইমরানুজ্জামানের বিরুদ্ধে ১টি মামলার রয়েছে।