লিটন না থাকায় কপাল খুলছে অঙ্কনের 

বাংলাদেশের ক্রিকেটে নতুন প্রতিভাদের উঠে আসার পথ সবসময়ই চ্যালেঞ্জিং। ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করেও অনেক ক্রিকেটার জাতীয় দলে সুযোগের অপেক্ষায় থাকেন। মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনও সেই তালিকার একজন, যিনি দীর্ঘদিন ধরেই জাতীয় দলের দরজায় কড়া নাড়ছেন। 

গত বছর চট্টগ্রামে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে হঠাৎ করেই টেস্ট দলে ডাক পান এই উইকেটকিপার-ব্যাটার। তবে সেই ডাক ছিল এক জরুরি পরিস্থিতির ফল। নিয়মিত উইকেটরক্ষক লিটন দাস অসুস্থ হয়ে ছিটকে গেলে এবং জাকের আলি অনিকও চোটের কারণে বাইরে চলে গেলে মাহিদুলকে শেষ মুহূর্তে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। 

গত বছরের ২৮ অক্টোবর ঢাকা বিভাগের হয়ে জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) ম্যাচ খেলতে বিকেএসপির ৩ নম্বর মাঠে ব্যাট করতে নামার অপেক্ষায় ছিলেন মাহিদুল। ঠিক তখনই আসে এক ফোনকল—তাকে চট্টগ্রামে জাতীয় দলে যোগ দিতে হবে। জাতীয় দলের স্বপ্নপূরণের হাতছানি পেয়ে দেরি না করে বিমানে চেপে বসেন এই তরুণ ক্রিকেটার। 

পরদিন জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে মাহিদুলের হাতে ওঠে কাঙ্ক্ষিত টেস্ট ক্যাপ। কিন্তু যে অভিষেকটা স্বপ্নের মতো হওয়ার কথা ছিল, তা রূপ নেয় কঠিন বাস্তবতায়। চাপের মুখে দাঁড়িয়ে প্রথম ম্যাচেই কিছু ক্যাচ মিস করেন, ব্যাট হাতেও দুই ইনিংসে ০ ও ২৯ রানের সংগ্রহ নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। 

প্রথম টেস্টের কঠিন অভিজ্ঞতার পরও মাহিদুল আবারও টেস্ট দলে ফেরার আলোচনায় রয়েছেন। বাংলাদেশ আগামী মাসে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুটি টেস্ট খেলবে, যেখানে লিটন দাস করাচি কিংসের হয়ে পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) খেলায় ব্যস্ত থাকবেন। ফলে উইকেটরক্ষক-ব্যাটারের জায়গাটি খালি থাকবে। 

এবার অবশ্য মাহিদুল আরও আত্মবিশ্বাসী। আগের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে তিনি এখন প্রস্তুত। ‘হ্যাঁ, এবার আমি অনেক ভালোভাবে প্রস্তুত। সুযোগ পেলে সেরাটা দিয়ে দলের জন্য কিছু করতে চাই,’ বুধবার ডেইলি সানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন তিনি। 

প্রথম অভিজ্ঞতা সহজ ছিল না, তবে সেটি থেকে অনেক কিছু শিখেছেন বলে জানান এই তরুণ ক্রিকেটার। ‘সিরিজে আমরা খুব ভালো খেলতে পারিনি, কিন্তু সেটা এখন অতীত। আমাদের সেখান থেকে শিখতে হবে,’ বলেন তিনি। 

এবার যদি সুযোগ আসে, তাহলে নিজেকে প্রমাণ করতে চান মাহিদুল। উইকেটকিপিং কিংবা ব্যাটিং—দুই ক্ষেত্রেই দলের জন্য অবদান রাখতে চান তিনি। ‘আমি আত্মবিশ্বাসী। ছোটবেলা থেকেই কিপিং করে আসছি, ব্যাটিংও করি। আমি দুটোই সামলাতে পারি। সুযোগ পেলে সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব,’ জানান তিনি। 

নতুন সুযোগের সামনে দাঁড়িয়ে মাহিদুল এবার ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন। এখন দেখার অপেক্ষা, নির্বাচকদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কী হয় এবং মাহিদুল জাতীয় দলে জায়গা করে নিতে পারেন কিনা।