নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সিলেট মহানগর শাখার ব্যানারে ১৫-২০ জন তরুণ-যুবক সকালে নগরীতে একটি ঝটিকা মিছিল করেন। এই মিছিলের ভিডিও আওয়ামী লীগের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজসহ অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর সন্ধ্যায় ও রাতে একে একে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, সাবেক এমপি শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের নেতা আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর, ছাত্রলীগ নেতা রুহেল আহমদের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়।
গতকাল বুধবার এ ঘটনা ঘটে। এদিকে মিছিল দেওয়া ও লিফলেট বিতরণের অভিযোগে বুধবার দিনে ও রাতে নগরীতে পৃথক অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ৮ নেতাকর্মীকে আটক করা হয়।
আজ বৃহস্পতিবার তাদের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া অফিসার) সাইফুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি আরও জানান, নিষিদ্ধ সংগঠনের মিছিলে আরও যারা ছিলেন, তাদের সকলকে চিহ্নিত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে। আওয়ামী লীগ নেতাদের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শুনেছি বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা এসব করেছে। তবে পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন নগরীর পাঠানটুলা লন্ডনি রোডের হাফিজ খানের ছেলে শাফায়াত খান, মদিনা মার্কেট এলাকার রাহাত নূরের ছেলে জহিরুল ইসলাম, পাঠানটুলার জালাল আহমদের ছেলে সোহেল আহমদ সানি, টুকেরবাজারের রমনীমোহন করের ছেলে রবিন কর, নাইওরপুল এলাকার ফারুক আহমদের ছেলে ফাহিম আহমদ, বাগবাড়ির নূর মিয়ার ছেলে রাজন আহমদ রমজান, মৃত হাফিজ খানের ছেলে বশির খান লাল ও খাদিমপাড়ার মতিন মিয়ার ছেলে সোয়েব আহমদ।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীসূত্র জানায়, বুধবার সকালে নগরীর ধোপাদিঘিরপাড় এলাকায় মহানগর ছাত্রলীগের ব্যানারে ১৫-২০ জন একটি মিছিল বের করে। তাদের হাতে থাকা ব্যানারে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা শফিউল আলম চৌধুরী নাদেলের ছবি যুক্ত ছিল। তারা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিরুদ্ধে বিভিন্ন শ্লোগান দেন। দ্রুত মিছিল শেষ করে এরা চলে যায়। তবে মিছিলের ভিডিও অনলাইনে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। আওয়ামী লীগের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজেও ভিডিওটি শেয়ার দেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীসূত্র জানায়, বুধবার সন্ধ্যার পর অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেলযোগে শতাধিক তরুণ-যুবক নগরীর পাঠানটুলায় আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর বাসায় গিয়ে হামলা চালান। হামলাকারীরা বাসায় ঢুকে আসবাবপত্র ব্যাপকভাবে ভাঙচুর করেন। বাসার চেয়ার, টেবিল, দরজা-জানালার কাঁচ, ফ্রিজ, টিভি, এসি, সিসি ক্যামেরাসহ সবকিছু ভাঙা হয়। গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের দিনও আনোয়ারুজ্জামানের বাসায় হামলা হয়েছিল। সরকার পতনের পর আনোয়ারুজ্জামানও লন্ডনে চলে যান। এরপর থেকে বাসায় তার পরিবারের কেউ থাকেন না।
একইভাবে বুধবার সন্ধ্যার পরে নগরীর হাউজিং এস্টেটে অবস্থিত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনের সাবেক এমপি শফিউল আলম চৌধুরী নাদেলের বাসায় হামলা চালানো হয়। বহুতল এই ভবন ফ্ল্যাট আকারে বিক্রি করা হয়েছে। ফ্ল্যাট মালিক বা ভাড়া নেওয়া লোকজন এখানে বসবাস করেন। হামলাকারীরা নিচতলায় আসবাবপত্র ভাঙচুর করে চলে যায়। গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে নাদেল ভারতে অবস্থান করছেন।
বুধবার রাতে নগরীর বাগবাড়িতে অবস্থিত আওয়ামী লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ ও মেজরটিলায় অবস্থিত সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রুহেল আহমদের বাড়িতেও হামলা-ভাঙচুর হয়েছে। রুহেল আহমদের বাড়িতে হামলার সময় তার মা ও বোন সেখানে ছিলেন এবং ভয়ে তারা লুকিয়ে পড়েন বলে প্রতিবেশীরা জানান।