গাজায় শরণার্থীশিবির, জাতিসংঘের মেডিকেলে হামলায় নিহত ৭৭

ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলের নির্বিচার হামলায় আরও অন্তত ৭৭ জন নিহত হয়েছে। গত বুধবার সকাল থেকে রাতভর হামলায় এ হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে গাজার মেডিকেল সূত্র নিশ্চিত করেছে। আলজাজিরা।

গত বুধবার রাতে গাজার জাবালিয়া শরণার্থীশিবিরে জাতিসংঘের ইউএনআরডব্লিউএ মেডিকেল স্থাপনাতেও ইসরায়েল হামলা চালিয়েছে। সেখানে নারী ও শিশুসহ অন্তত ২২ জন নিহত হয়েছে।

গাজার সূত্র জানায়, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী খান ইউনিসের কাছে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের অস্থায়ী শিবিরে রাতভর হামলা চালিয়েছে। এতে অন্তত ২৪ ব্যক্তি নিহত হয়।

ইসরায়েলের যুদ্ধবিমান গাজার নগরের সুজাইয়া এলাকাতেও বোমাবর্ষণ করেছে। এতে অন্তত ৩ জন নিহত ও ১৫ জন আহত হয়েছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গাজায় ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলের নির্বিচার ও নৃশংস হামলায় কমপক্ষে ৫০ হাজার ৪২৩ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার ৬৩৮ জন। গাজার জাবালিয়া শরণার্থীশিবিরে ইসরায়েলি হামলায় নিহত কয়েকজনের জানাজা হয়েছে।

তবে সরকারের গণমাধ্যম কার্যালয় থেকে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত ৬১ হাজার ৭০০ জনের বেশি নিহত হয়েছে। তারা বলছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে হাজারো মানুষ চাপা পড়ে আছে। তারা মারা গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাসের হামলায় ইসরায়েলে ১ হাজার ১৩৯ জন নিহত হয়। এ ছাড়া ২০০ জনের বেশি ব্যক্তিকে বন্দি করে গাজায় নিয়ে আসা হয়।

জাতিসংঘের মানবিক সহায়তার উপপ্রধান জয়েস সুয়া নিরাপত্তা পরিষদকে বলেন, ত্রাণ সহায়তাকারীদের জন্য গাজা হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর জায়গা। সেখানে ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত জাতিসংঘের ৪০৮ জন কর্মী নিহত হয়েছেন।

এদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার মধ্যে হাঙ্গেরি সফরে গেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান আইসিসির পরোয়ানাকে উপেক্ষা করে গাজায় যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে হাঙ্গেরিতে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন।