ভোলার ইলিশা ঘাটে কর্মস্থলে ফেরা যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়

ঈদের ছুটি শেষে ভোলা থেকে কর্মস্থলে পরিবার পরিজন নিয়ে ফিরতে শুরু করেছে হাজার হাজার মানুষ। আজ শুক্রবার সকালে ভোলার ইলিশা লঞ্চঘাটে সাধারণ যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে।

ইলিশা-লক্ষ্মীপুর রুটের লঞ্চ ও সী ট্রাকগুলোতে দুই থেকে তিনগুণ অতিরিক্ত যাত্রী ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করে। নৌযানের তুলনায় অতিরিক্ত যাত্রী হওয়াতে অনেকেই লঞ্চঘাটে অপেক্ষা করতে থাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। আবার অনেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অবৈধ ট্রলারে মেঘনা নদী পাড়ি দিচ্ছেন। এছাড়াও ভোলার খেয়া ঘাট লঞ্চ টার্মিনাল, দৌলতখান লঞ্চ ঘাট, বোরহানউদ্দিন উপজেলার হাকিমুদ্দিন লঞ্চঘাট ও চরফ্যাশন উপজেলার বেতুয়া লঞ্চঘাটের একই চিত্র দেখা গেছে।

পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে আসা ঢাকায় চাকরিজীবী মো. সোহেল জানান, সকাল থেকে ইলিশা লঞ্চ ঘাটে অপেক্ষা করেও তিনি আজ ঢাকায় যেতে পারেননি। লঞ্চের কোনো কেবিন বা চেয়ার দূরে থাক দাঁড়ানোর জায়গা পর্যন্ত নেই।

একই ধরনের কথা বলেন ভোলা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. আরাফাত। তিনি বলেন, ঈদের ছুটি শেষে শনিবার থেকে ঢাকায় নিজ কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার কথা। তবে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপে কোনোভাবেই লঞ্চে উঠতে পারেননি।

ভোলা-ঢাকা রুটে বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে প্রতিদিন ১৮টি লঞ্চ চলাচল করলেও তা চাহিদার তুলনায় কম। তাই অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই করেই পাড়ি দিচ্ছেন কেউ কেউ। অপরদিকে ভোলা থেকে চট্টগ্রাম যেতে ভোলা-লক্ষ্মীপুর রুটে ২টি লঞ্চ ও ৪টি সী ট্রাক চলাচল করলেও বর্তমানে যাত্রীর তুলনায় যানবাহনের সংখ্যা খুবই নগণ্য। এতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজের তাগিদে পরিবার পরিজন নিয়ে উত্তাল মেঘনা পারি দিচ্ছে নিরুপায় সাধারণ মানুষ। এমন পরিস্থিতিতে যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। তবে প্রশাসনের সঠিক তদারকি না থাকায় এমন অনিয়ম হচ্ছে বলে দাবি সাধারণ মানুষের।