রিয়াল মাদ্রিদের বর্তমান কোচ কার্লো আনচেলত্তির বিরুদ্ধে স্পেনে কর ফাঁকির অভিযোগে চার বছর নয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। ২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত রিয়ালে তার প্রথম কোচিং অধ্যায়ের সময় এক মিলিয়ন ইউরোর বেশি কর ফাঁকির অভিযোগ আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।
স্পেনের সরকারি কৌঁসুলিদের দাবি, আনচেলত্তি তার চিত্রস্বত্ব থেকে প্রাপ্ত আয় গোপন করেছিলেন এবং শুধুমাত্র ক্লাব থেকে পাওয়া বেতনই কর হিসাবের জন্য দেখিয়েছিলেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি একাধিক ছদ্ম কোম্পানি ব্যবহার করে তার আয় গোপন রেখেছিলেন, যার মাধ্যমে কর ফাঁকির জটিল একটি ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছিল।
গত বুধবার মাদ্রিদের উচ্চ আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন আনচেলত্তি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘আমি কখনো কর ফাঁকি দেওয়ার কথা ভাবিনি।’
তার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি নিজে এই আর্থিক ব্যবস্থাপনা দেখভাল করেননি। রিয়াল মাদ্রিদ কর্তৃপক্ষ এবং তার ব্যক্তিগত অ্যাডভাইজারের পরামর্শেই তিনি কর ব্যবস্থা সাজিয়েছিলেন। তিনি আরও বলেন, ‘ক্লাব যখন এটি সাজানোর পরামর্শ দেয়, আমি আমার অ্যাডভাইজারকে রিয়ালের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দিই। আমি নিজে এসব দেখভাল করিনি, কারণ আমি আগে কখনো এই ধরনের অর্থপ্রাপ্তির অভিজ্ঞতা পাইনি।’
আনচেলত্তি দাবি করেছেন, তিনি কখনো বুঝতেই পারেননি যে এই ব্যবস্থার মাধ্যমে কর ফাঁকি হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘তখনকার সময়ে খেলোয়াড় ও কোচরা সবাই একই পদ্ধতিতে কর দিত। এটি স্বাভাবিক বলে মনে হয়েছিল।’
এছাড়া, তিনি রিয়ালের প্রাক্তন কোচ হোসে মরিনহোর নাম উল্লেখ করে বলেন, মরিনহোও একই ধরনের অর্থপ্রাপ্তির পদ্ধতি অনুসরণ করেছিলেন। আনচেলত্তির বিরুদ্ধে মামলা এখন আদালতের চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষায়। যদি তিনি দোষী সাব্যস্ত হন, তবে চার বছর নয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
আদালতে উপস্থিত ছিলেন আনচেলত্তির স্ত্রী মারিয়ান্ন বারেনা ও ছেলে দাভিদে আনচেলত্তি, যিনি বর্তমানে তার সহকারী কোচ হিসেবে কাজ করছেন। রিয়াল মাদ্রিদের এই কিংবদন্তি কোচের ভাগ্য এখন স্পেনের বিচার বিভাগের হাতে। যদি তিনি দোষী প্রমাণিত হন, তবে এটি ফুটবল বিশ্বে একটি বড় আলোড়ন সৃষ্টি করবে।