কুমিল্লার মুরাদনগরে নেই কোনো বিনোদনকেন্দ্র। তাই বিনোদনের জায়গার অভাবে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে মুরাদনগর উপজেলার সদর ইউনিয়নের নাগের কান্দি এলাকার তিতাস ব্রিজকেই বেছে নিয়েছেন স্থানীয়রা। এ যেন দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানোর মতো। ঈদ উদযাপন করতে আসা বিভিন্ন বয়সের মানুষের ঢলে তিতাস ব্রিজ যেন মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।
ঈদের দিন সকাল থেকেই দর্শনার্থীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে, যা চতুর্থ দিন পর্যন্ত অব্যাহত আছে। বিশেষ করে বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ব্রিজে মানুষের ভিড় এতটাই বেড়ে যায় যে, সেখানে পা ফেলার মতো জায়গাও থাকে না। শুধু মুরাদনগর উপজেলা নয়, আশপাশের উপজেলা থেকেও পরিবার-পরিজন নিয়ে বিভিন্ন বয়সের লোকজন ব্রিজে ঘুরতে আসেন।
ফলে এই তিতাস ব্রিজকে ঘিরে গড়ে উঠেছে বাহারি খাবারের রেস্টুরেন্ট। তৈরি হয়েছে অনেক বেকার যুবকের কর্মসংস্থানও।
ব্রিজ এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বপ্ন বিলাস রেস্টুরেন্টের পরিচালনার দায়িত্বে থাকা শামীম জানান, শুধু ঈদে নয়, শুক্রবার ও বিভিন্ন দিবসগুলোতে পরিবার-পরিজন নিয়ে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ এখানে ঘুরতে আসে। বিশেষ করে বর্ষাকালে নদীতে অনেক পানি থাকে। নৌকা দিয়ে ঘোরার জন্য অনেক লোকজন আসে।
তিতাস ব্রিজে ঈদ উদযাপন করতে আসা উপজেলা সদরের গৃহবধূ সায়ম আক্তার বলেন, ‘মুরাদনগরে তো ঘোরার জন্য ভালো কোনো জায়গা নেই। এখানের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও নির্মল বাতাস ভালো লাগে তাই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘুরতে এসেছি।’
বাবা-মায়ের সঙ্গে ঘুরতে আসা চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী তাহিরা তাবাসসুম বলেন, ‘আমি আব্বু-আম্মুর সঙ্গে ঘুরতে এসেছি। এখানে এসে খুব ভালো লাগছে।’
তিতাস এলাকার সাংবাদিক ফাহাদ রহমান বলেন, ‘এখানে প্রতিদিনই বিকেলবেলা লোকজন ঘুরতে আসেন। তবে দুই ঈদে ও জাতীয় দিবসগুলোতে লোকসমাগম বেশি হয়। এখানে শিশুদের জন্য একটি পার্ক তৈরি হলে আরও ভালো হতো।’
মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহিদুর রহমান জানান, ঈদ উপলক্ষে তিতাস ব্রিজে প্রচুর লোকসমাগম হয়েছে। তাই সেখানে যেন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি রয়েছে।