চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোতে আতলেতিকো মাদ্রিদ ও রিয়াল মাদ্রিদের মধ্যকার ম্যাচে হুলিয়ান আলভারেজের পেনাল্টি বাতিলের ঘটনা ঘিরে নতুন বিতর্কের জন্ম নিয়েছে। আতলেতিকো মাদ্রিদের সমর্থক সংগঠন ‘ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন অব আতলেতিকো দে মাদ্রিদ সাপোর্টার্স ক্লাব’ অভিযোগ তুলেছে, উয়েফা যে ভিডিও দেখিয়ে গোল বাতিলের পক্ষে যুক্তি দিয়েছে, তা নাকি সম্পূর্ণভাবে বিশ্বাসযোগ্য নয়।
বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে চালানো ফরেনসিক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে একাধিক টেকনিক্যাল অসংগতি, যা ভিডিওর অখণ্ডতা নিয়ে গুরুতর সন্দেহের জন্ম দিয়েছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, উয়েফার সরবরাহ করা ভিডিওটি মূল ক্যামেরা ফুটেজ নয়। এতে মেটাডেটায় অস্বাভাবিকতা, ফাইলের অভ্যন্তরীণ গঠনে পরিবর্তন, ডেটার অস্বাভাবিক এনট্রপি, ছবির ক্রমে অসামঞ্জস্য এবং নির্দিষ্ট কিছু স্থানে দৃশ্যমান ক্লোনিংয়ের প্রমাণ মিলেছে। সবচেয়ে বড় কথা, ভিডিওতে কোনো অডিও নেই, যা প্রামাণ্যতার প্রশ্ন আরও জোরালো করেছে।
বিশ্লেষকরা জানান, ‘EVD001’ নামক ভিডিও ফাইলটির মেটাডেটা স্বাভাবিক ক্যামেরা রেকর্ডিংয়ের সঙ্গে মেলে না। ফাইলটি "Lavf61.9.107" এনকোডার দিয়ে প্রক্রিয়াজাত, যা মূলত এডিটিং সফটওয়্যার এফএফএমপিজি-এর পরিচায়ক। ফলে ধারণা করা হচ্ছে, ক্যামেরা থেকে ধারণ করার পর ভিডিওটিতে সম্পাদনা করা হয়েছে।
ফাইলের অভ্যন্তরীণ গঠনে এমপিফোর ব্লকগুলোর সাজানো ধরণও একে প্রাথমিক রেকর্ডিংয়ের পরিবর্তে পরবর্তী সম্পাদনার ইঙ্গিত দেয়। পাশাপাশি 'বিনওয়াক' টুলের মাধ্যমে করা এনট্রপি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ভিডিওর নির্দিষ্ট স্থানে ডেটার অনিয়মিততা রয়েছে, যা সাধারণত কোনো তথ্য মুছে ফেলা বা অতিরিক্ত চাপে সংক্ষেপণের সময় দেখা যায়। লাইভ সম্প্রচারে এ ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়নি।
ফ্রেম-বাই-ফ্রেম বিশ্লেষণে আরও বিস্ময়কর তথ্য উঠে আসে। দেখা গেছে, ভিডিওর ৬০ নম্বর ফ্রেম ছয়বার টানা পুনরাবৃত্ত হয়েছে। অথচ সরাসরি সম্প্রচারে এক-দুই ফ্রেমের হালকা পুনরাবৃত্তি ছাড়া এমন কিছু দেখা যায়নি। এটি ফ্রেম-ফ্রিজিং টেকনিকের ব্যবহার হতে পারে, যা ঘটনার প্রকৃত গতি আড়াল করতে ব্যবহৃত হয়।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হলো, ভিডিওর নির্দিষ্ট অঞ্চলে দৃশ্যমান ক্লোনিংয়ের প্রমাণ। 'সিএমএফডি' ফিল্টার ব্যবহারে দেখা যায়, ৬০ নম্বর ফ্রেমে হুলিয়ান আলভারেজের চেহারার একটি অংশ কপি করে অন্যত্র বসানো হয়েছে। অথচ লাইভ সম্প্রচারে এমন কোনো চিহ্ন ছিল না।
তাছাড়া উয়েফার ভিডিওতে কোনো অডিও না থাকা স্বাভাবিক রেকর্ডিংয়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সাধারণত ক্যামেরা দিয়ে ছবি ও শব্দ একসঙ্গে ধারণ করা হয়।
সমর্থক সংগঠনের প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর উয়েফার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, চ্যাম্পিয়নস লিগের মতো বড় মঞ্চে অডিওভিজুয়াল প্রমাণের বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করা জরুরি। এই ঘটনা ভবিষ্যতে ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় প্রযুক্তির নিরপেক্ষ ব্যবহারের দাবিকে আরও জোরালো করে তুলতে পারে।