একটি যুগের অবসান হতে যাচ্ছে জার্মান ফুটবলে। বায়ার্ন মিউনিখের কিংবদন্তি থমাস মুলার চলতি মৌসুম শেষে ক্লাব ছাড়ছেন। ২৫ বছরের অসামান্য এই পথচলার শেষটা হবে ২০২৪-২৫ মৌসুম শেষে, যখন শেষবারের মতো বায়ার্নের জার্সি গায়ে চাপাবেন তিনি।
৩৫ বছর বয়সী মুলার বায়ার্ন ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা ফুটবলার—মোট ৭৪৩টি ম্যাচ। গোলও করেছেন ২৪৭টি, যা ক্লাবের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় তৃতীয়।
২০০৮ সালে বায়ার্নের একাডেমি থেকে উঠে আসা এই মিডফিল্ডার জিতেছেন ১২টি বুন্দেসলিগা শিরোপা, দুটি চ্যাম্পিয়নস লিগসহ মোট ৩৩টি ট্রফি। জাতীয় দলেও তাঁর অবদান অনস্বীকার্য—জার্মানির হয়ে ১৩১ ম্যাচে ৪৫ গোল, ২০১০ বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট, আর ২০১৪ সালে বিশ্বকাপজয়ী দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন তিনি।
বিদায়ের ঘোষণায় আবেগঘন মুলার বলেন, ‘এই ক্লাবের সঙ্গে আমার যাত্রাটা ছিল অসাধারণ—ভরা স্মৃতি, সাফল্য আর ভালোবাসায়। বায়ার্নের জার্সি গায়ে এতটা দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে পারাটা সত্যিই গর্বের। আমি চাই, বিদায়টা হোক শিরোপা উদ্যাপনের মাধ্যমে। সামনে যা কিছু আছে, আমরা তা জয়ের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’
মুলারের বিদায়কে সম্মান জানিয়ে বায়ার্নের সিইও ইয়ান-ক্রিশ্চিয়ান ড্রেসেন বলেন, ‘থমাস মুলার এই ক্লাবের ইতিহাসের সবচেয়ে মহান চরিত্রদের একজন। তাই বিদায়টা যেন সম্মানজনক হয়, সেটিই আমাদের লক্ষ্য ছিল।’
ক্লাব প্রেসিডেন্ট হারবার্ট হেইনার বলেন, ‘থমাস মুলার—এ যেন বায়ার্নের রূপকথার গল্প। এমন আর একজন কখনও হবে না।’
বর্তমানে বুন্দেসলিগার শীর্ষে থাকা বায়ার্ন মিউনিখ মুলারের জন্য একটি টেস্টিমোনিয়াল ম্যাচের আয়োজন করবে। জুনের ১৫ তারিখে যুক্তরাষ্ট্রে শুরু হতে যাওয়া ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ হতে পারে মুলারের প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে শেষ মঞ্চ।
এমন বিদায়ে যেন পুরো বায়ার্ন পরিবারই আবেগতাড়িত। কারণ, থমাস মুলার শুধু একজন খেলোয়াড় নন—তিনি ছিলেন বায়ার্ন মিউনিখের আত্মা।