গৌরীপুর-হোমনা সড়কে শুকনা গাছ এখন মরণফাঁদ

কুমিল্লার গৌরীপুর-হোমনা সড়কের কয়েকটি স্থানের শুকনা গাছ এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। যে গাছগুলো পথচারীদের যাতায়াতের সময় ছায়া দিত, তার নিচ দিয়ে এখন যানবাহন ও পথচারীরা আতঙ্কের মধ্য দিয়ে চলাচল করছেন। কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও গাফিলতির কারণে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।

জানা যায়, উপজেলার গৌরীপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে গৌরীপুর বাজার এবং তিতাস হয়ে হোমনা উপজেলা পর্যন্ত ১৮ কিলোমিটার রাস্তার দুপাশে কড়ইসহ বিভিন্ন গাছ রোপণ করে একটি সংস্থা। সেই গাছগুলো ধীর ধীরে বড় হয়। কিন্তু কয়েকবছর আগে গৌরীপুর মোড় থেকে বাজার পর্যন্ত সড়কটি প্রশস্ত করা হয়। এতে বেশকিছু গাছের মূলসহ শিকড় পাকা ঢালাইয়ে পড়ে। এতে অধিকাংশ গাছের শিকড় নষ্ট হয়ে প্রায় গাছই মরে গেছে। যখন-তখন মরা গাছগুলোর ডালা পথচারীদের মাথার ওপর উপড়ে পড়তে পারে। তাই পথচারীদের জীবন-প্রাণ হাতে নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

আক্ষেপ করে ফরিদুল ইসলাম নামের স্থানীয় স্কুলশিক্ষক এবং নিরাপদ সড়ক চাই দাউদকান্দি উপজেলার সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন বলেন, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে প্রতিদিন দাউদকান্দি, তিতাস, মেঘনা, হোমনা ও বাঞ্ছারামপুর উপজেলা থেকে হাজার হাজার কর্মজীবী নারী-পুরুষ রাজধানী এবং জেলা শহর কুমিল্লায় যাতায়াত করেন। এমনকি এ সড়ক দিয়ে স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীরাও যাতায়াত করে। তাদের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। দ্রুত রাস্তার দু’পাশের নষ্ট গাছগুলো অপসারণ করার দাবি জানাচ্ছি। তা না হলে যেকোনো সময় ঘটে যেতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।

স্থানীয় অটোরিকশাচালক নুর আলম, সাইফুল ও রকিব উদ্দিনসহ কয়েকজন জানান, প্রতিদিন গৌরীপুর মোড় থেকে বাজারে যাত্রী নিয়ে আসা যাওয়া করি। মাঝে মাঝে গাছের বড় বড় শুকনা ডাল ভেঙে পড়ে। যেকোনও সময় মাথার ওপর গাছ ভেঙে পড়তে পারে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এ গাছগুলো রাস্তার পাশ থেকে সরিয়ে ফেলার দাবি জানান তারা।

সমাজকর্মী ডা. মোজাম্মেল হোসেন বলেন, গৌরীপুর বাসস্ট্যান্ড হতে বাজার পর্যন্ত এক কিলোমিটার অংশে ১০/১২টি  মরা শুকনা গাছ রয়েছে। কয়েক দিন আগে আঙ্গাউড়া মসজিদের সামনে একটি যাত্রীবাহী অটোরিকশার ওপর শুকনা গাছের ডালা ভেঙে পড়ে। তবে এ দুর্ঘটনায় কেউ আহত না হলেও সামনে ঝড় বৃষ্টির দিনে বড় দুর্ঘটনার সম্ভাবনা রযেছে। যত দ্রুত সম্ভব মরা গাছগুলো অপসারণ করতে সংশিষ্ট কতৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাঈমা ইসলাম বলেন, গাছগুলো যেহেতু সড়ক ও জনপথের জায়গায় পড়েছে, আর গাছ কাটার বিষয়েও নিয়ম-নীতি মানতে হয়, তাই বনবিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জনসাধারণের জন্য যেটা সুবিধা হয় আমরা সে ব্যবস্থাই নেব।