বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় আয়তনের বালিয়াটি জমিদার বাড়ি দেখতে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে। এ জমিদার বাড়ির পর্যটকদের ঘিরে তৈরি হয়েছিল শতাধিক ভাসমান বিভিন্ন দোকান। টানা ছুটিতে প্রত্নতত্ত্ব নিদর্শন দেখতে আগ্রহী দেশ-বিদেশের নানা স্থান থেকে পযটকরা ছুটে এসেছেন প্রাচীন ঐতিহ্যপূর্ণ এই জমিদার বাড়িতে।
বিগত বছরগুলোতে ঈদের দিন বন্ধ থাকলেও এবার সোমবার থেকে শনিবার (৫ এপ্রিল) পর্যন্ত বালিয়াটি জমিদার বাড়ি পরিদর্শন করেছেন ১৬ হাজারেরও বেশি পযটক, যা এই ঐতিহাসিক স্থানটির জন্য এক নতুন মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ৬ দিন ধরে চলা এই ঈদের ছুটিতে জমিদার বাড়ির জনপ্রিয়তা বেড়েছে। ফলে এখানে শুধু টিকিটি বিক্রি করে রাজস্ব আাদয় হয়েছে প্রায় ৫ লক্ষ টাকা।
বালিয়াটি জমিদার বাড়িটি মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াটি ইউনিয়নের বালিয়াটি গ্রামে অবস্থিত। শনিবার দুপুর ১টার দিকে গিয়ে দেখা যায় ছুটির শেষ দিনেও বেশ ভিড়। মাত্র ৩০ টাকা দিয়ে টিকিট কেটে পরিবার পরিজন নিয়ে ঘুরতে এসেছেন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে।
ধামরাই উপজেলার জালসা গ্রাম থেকে ঘুরতে আসা সাজিদুর রহমান বলেন, ঈদের ছুটি আজকেই শেষ, তাই শনিবার পরিবারের ৬ সদস্য নিয়ে জমিদার বাড়িতে ঘুরতে এসেছি। ৩০ টাকা করে ৪টি টিকেট কিনেছি। আর ৪ ও ৬ বছরের দুই শিশুর টিকিট লাগেনি।
মির্জাপুর উপজেলার কান্দাপাড়া গ্রামের আব্দুর রহমান বলেন, আমি ধামরাই উপজেলায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করি। রবিবার বাড়ি থেকে গিয়ে অফিস করব। তাই ছুটির শেষ দিন এসে বালিয়াটি জমিদার বাড়িতে বেড়াতে আসলাম।
ঢাকার আমিন বাজারের বাসিন্দা আমিনুর রহমান বলেন, ঢাকায় বিভিন্ন কোলাহল। জনপ্রতি ১০০ টাকা খরচ করে বালিয়াটি জমিদার বাড়িতে বেড়াতে এসেছি বন্ধুদের নিয়ে। ৩০ টাকায় দিনভর ঘুরলাম এ নান্দনিক জমিদার বাড়িতে। জমিদার বাড়ির সামনের হোটেলে গ্রামীণ পরিবেশে অল্প টাকা দুপুরের খাবারও খেলাম।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রালয়ের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের বালিয়াটি প্রসাদ জাদুঘরের সহকারী কাস্টোডিয়ান নিয়াজ মাখদুম বলেন, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সবার আগমনে আমরা খুবই আনন্দিত। দেশের অন্যান্য অঞ্চলের দর্শনার্থীরা এখানে এসে আমাদের ইতিহাস ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে পারছেন। এতে যেমন পর্যটন খাতের উন্নতি হচ্ছে, তেমনি স্থানীয় ব্যবসা এবং কর্মসংস্থানে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।
বালিয়াটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মীর সোহেল আহমেদ চৌধুরী বলেন, সারা বছরই পর্যটকদের ভিড় লক্ষ করা যায় এ জমিদার বাড়িতে। কিন্তু দুই ঈদ, পহেলা বৈশাখ, ১৬ ডিসেম্বর ও ২৬ মার্চসহ বিভিন্ন দিবসে বেড়ে যায় পর্যটকদের। তাছাড়া ঢাকার অত্যন্ত নিকট, যাতায়াত ব্যবস্থা ভালো থাকায় দিন দিন দেশি ও বিদেশি পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে।
সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইকবাল হোসেন বলেন, একদিকে যেখানে ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব রয়েছে, অন্যদিকে পর্যটকদের আকৃষ্ট করার জন্য উন্নত পরিষেবা ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। চলতি মৌসুমেও জমিদার বাড়ির সংস্কার কাজ চলছে। জমিদার বাড়ি পরিদর্শনের জন্য আরও উন্নত সুযোগ-সুবিধা প্রদান করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে পর্যটকদের অভিজ্ঞতা আরও উন্নত হয়। এই ঐতিহাসিক স্থানটির সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়। এ ছাড়া পর্যটকদের আগমন বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হবে বলে জানান কর্মকর্তারা।