টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের দ্রুততম সেঞ্চুরিয়ান পারভেজ হোসেন ইমন এবার লিস্ট 'এ' ক্রিকেটে গড়লেন দ্রুততম হাফসেঞ্চুরির রেকর্ড। আজ বিকেএসপিতে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ ম্যাচে শাইনপুকুর ক্লাবের বিপক্ষে ১৫ বলে হাফসেঞ্চুরিতে পৌছান আবাহনীর এই ওপেনার।
বৃষ্টিতে মাঠ ভেজা থাকায় দেরিতে শুরু হওয়া খেলায় (৩১ ওভারের) শাইনপুকুরকে ৮৮ রানে গুটিয়ে দেয় আবাহনী। পরে দুই ওপেনার পারভেজ ইমন ও জিসান আলম মিলে ৬.৪ ওভারেই ওই রান তুলে টানা ৯ম জয় এনে দেন ধানমন্ডির ক্লাবটিকে। ৮৯ রানের মধ্যে পারভেজ ইমন একাই করেন ৬১। ২৩ বলের অপরাজিত ইনিংসে ছিল ৪ বাউন্ডারি ও ৬ ছক্কা।
লিস্ট 'এ' ক্রিকেটে তো বটেই, স্বীকৃত ক্রিকেটেই এটি বাংলাদেশের দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড। আগের রেকর্ড ছিল শুভাগত হোমের। ২০১৯ সালে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ টি-টোয়েন্টিতে শাইনপুকুরের বিপক্ষেই ১৬ বলে ফিফটি করেছিলেন তিনি।
দেশের ৫০ ওভারের ক্রিকেট সংস্করণে আগে দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড ছিল যৌথভাবে ফরহাদ রেজা ও হাবিবুর রহমান সোহানের। ২০১৯ সালের প্রিমিয়ার লিগে প্রাইম দোলেশ্বরের হয়ে ১৮ বলে ফিফটি করেন ফরহাদ। চার বছর পর বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের লিস্ট 'এ' সংস্করণে হাবিবুরও করেন ১৮ বলে ফিফটি। সেদিন ৬১ বলে ১১৭ রানের ইনিংস খেলার পথে মাত্র ৪৯ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তরুণ ওপেনার। যা এখনও এই সংস্করণে দেশের দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড।
এছাড়া দেশের লিস্ট 'এ' ক্রিকেটে ২০ বলের কমে ফিফটি আছে দুটি। ২০০৬-০৭ মৌসুমের লিগে নাজমুল হোসেন ও ২০১৩-১৪ মৌসুমের লিগে জ্যাকব ওরাম ১৯ বলে স্পর্শ করেছিলেন পঞ্চাশ।
লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে দ্রুততম ফিফটির বিশ্ব রেকর্ডটা কৌশল্য বীরারত্নের। শ্রীলঙ্কার হয়ে ১৫টি ওয়ানডে ও ৫টি টি-টোয়েন্টি খেলা বীরারত্নে ২০০৫ সালে শ্রীলঙ্কার প্রিমিয়ার লিমিটেড ওভার টুর্নামেন্টে কুরুনেগালার বিপক্ষে ১২ বলে ফিফটি করেন রাগামা সিসির হয়ে খেলা বীরারত্নে। ১৯৯৪ সালে ইংল্যান্ডের সাবেক অলরাউন্ডার অ্যাডাম হোলিওকের গড়া ১৫ বলের ফিফটির রেকর্ড ভাঙেন বীরারত্নে।
আজ ৮৮ রান তাড়া করতে নেমে প্রথম চার বলে ১ রান করেন পারভেজ। দ্বিতীয় ওভারে অনিয়মিত অফ স্পিনার রহমতউল্লাহ আলি আক্রমণে আসতেই ঝড় তোলেন তিনি। দ্বিতীয় বলে অল্পের জন্য হয়নি ছক্কা। তবে পরের টানা চার বল ঠিকই সীমানার ওপারে আছড়ে ফেলেন আবাহনী ওপেনার। এক ওভার পর আলি মোহাম্মদের বলে দুটি বাউন্ডারির পর দুটি ছক্কা মারেন পারভেজ। ওই ওভারের দ্বিতীয় ছক্কায় পঞ্চাশ পূর্ণ হয় তার। আরেক ওপেনার জিসান আলম ২ চার ও ১ ছক্কায় ১৭ বলে ১৭ রানে অপরাজিত থাকেন।
৯ ম্যাচে অষ্টম জয়ে শীর্ষস্থান ধরে রাখল আবাহনী। সমান ম্যাচে মাত্র এক জয়ে পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে শাইনপুকুর।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাব: ২৫.৪ ওভারে ৮৮ ( রহমতউল্লাহ ১০, মইনুল ২, অনিক ০, রাফসান ৪, ফারজান ০, মিনহাজুল ৩৮, শরিফুল ৭, কিবরিয়া ১, রাফিউজ্জামান ১, ফাহাদ ৬*, আলি ১৪; রিপন ৫-১-১২-২, রকিবুল ৪.৪-০-৯-২, মোসাদ্দেক ৬-১-৩৬-৪, মৃত্যুঞ্জয় ৪-০-১০-০, মাহফুজুর ৬-০-১৮-১)
আবাহনী লিমিটেড: ৬.৪ ওভারে ৮৯/০ (পারভেজ ৬১*, জিসান ১৭*; ফাহাদ ৩.৪-০-২৮-০, রহমতউল্লাহ ১-০-২৮-০, আলি ২-০-৩৩-০)
ফল: আবাহনী লিমিটেড ১০ উইকেটে জয়ী ম্যান অব দা ম্যাচ: মোসাদ্দেক হোসেন