হামলা, ভাঙচুর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে করা মামলায় আওয়ামীপন্থি ৭৯ আইনজীবীর জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর এবং ১৪ আইনজীবীর জামিন মঞ্জুর করে গতকাল রবিবার মহানগর দায়রা জজ জাকির হোসেন আদেশ দিয়েছেন। জামিনপ্রাপ্তদের মধ্যে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি আবু সাইদ সাগর ছাড়া অন্যরা নারী আইনজীবী। সকালে একই আদালতে আত্মসমর্পণের আগে জামিন চান আওয়ামীপন্থি ৯৩ জন আইনজীবী। কারাগারে যাওয়া আইনজীবীদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা বারের সাবেক সভাপতি সাইদুর রহমান মানিক, গাজী শাহ আলম, মাহবুবুর রহমান, সহসভাপতি মন্জুর এলাহি, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান খান রচি, সাইবার ট্রাইব্যুনালের সাবেক পিপি নজরুল ইসলাম শামীম, এপিপি মাহফুজুল আলম চৌধুরী, জুয়েল আহমেদ প্রমুখ।
দীর্ঘদিন আইন পেশায় নিয়োজিত আছেন এমন আইনজীবীরা বলেন, দেশের ইতিহাসে ফৌজদারি মামলায় একসঙ্গে এত বেশিসংখ্যক আইনজীবী কারাগারে যাওয়ার ঘটনা এর আগে ঘটেনি। গতকাল আইনজীবীদের জামিন শুনানিকালে বিএনপি-জামায়াতপন্থি ও আওয়ামী লীগপন্থি বিপুলসংখ্যক আইনজীবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। জামিন নামঞ্জুরের পর কিছুটা উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে অনাকাক্সিক্ষত কোনো ঘটনা ঘটেনি। জামিন নামঞ্জুরের পর আইনজীবীদের কড়া পুলিশ পাহারায় প্রিজনভ্যানে তোলা হয়। আদালতে ও গাড়িতে তোলার সময় জামিন নামঞ্জুর হওয়া আইনজীবীরা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন।
আদালত প্রাঙ্গণে আইনজীবীদের ওপর হামলা, চেম্বার ভাঙচুর ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় আওয়ামীপন্থি ১৪৪ আইনজীবীর নামে গত ৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য মোহাম্মদ আলী বাবু। মামলার অভিযোগে বলা হয়, ‘২০২৪ সালের ৪ আগস্ট দুপুর ১২টার দিকে আসামিরা ঢাকা আইনজীবী সমিতির সামনে অস্ত্র, লাঠিসোঁটা নিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন। তারা বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে “শেখ হাসিনার ভয় নাই”, “রাজপথ ছাড়ি নাই” স্লোগান দিতে থাকেন।’
অভিযোগে বলা হয়, এ সময় ভুক্তভোগী (বাদী) আইনজীবী মামলার শুনানি শেষ করে ঢাকা বার ভবনের সামনে এলে আসামি আনোয়ার শাহাদাৎ শাওন হেলমেট পরিহিত অবস্থায় পিস্তল দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি তাক করেন। অন্য আসামি ওয়াকিল লোহার রড দিয়ে তাকে হত্যার উদ্দেশে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর জখম হন। এ ছাড়া অন্য আসামিরা স্লোগান দিয়ে বাদীসহ অন্য আইনজীবীদের কিল-ঘুষি মারেন এবং লোহার রড ও লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারাত্মক আঘাত করেন। আসামিরা বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের চেম্বার ভাঙচুর ও লাখ লাখ টাকার মালামাল লুটপাট করে নিয়ে যান। এ ছাড়া আসামিরা প্রাণনাশের হুমকিসহ ঢাকা বার ভবনের গুরুত্বপূর্ণ আসবাব ভাঙচুর করে ১ কোটি টাকার ক্ষতি করেন। ১৪৪ আসামির মধ্যে হাইকোর্ট থেকে আট সপ্তাহের আগাম জামিন নেন ১১৫ জন আইনজীবী। আজ সোমবার (৭ এপ্রিল) তাদের অন্তর্র্বর্তী জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়া কথা।