চাঁদপুরের কচুয়ায় প্রেমিকার সাথে দেখা করতে গিয়ে গণপিটুনির শিকার হয়ে নূর মোহাম্মদ তুষার নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। রোববার রাতে উপজেলার গোহট দক্ষিণ ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত নূর মোহাম্মদ কচুয়া উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে। এ ঘটনায় সোমবার দুপুরে কথিত প্রেমিকা ফিমা (১৮) ও তার মাকে (৪৫) আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানা যায়, নূর উপজেলার মনোরপুর গ্রামের নকড়া বাড়ির মৃত মিজানুর রহমানের ছেলে। একই উপজেলার রাজাপুর গ্রামের আব্দুল মান্নানের মেয়ের সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। অভিযোগ উঠেছে, রোববার রাতে নূর দেখা করতে ফিমার বাড়ি গেলে তাদের পরিবার ও বাড়ির লোকজন তাকে আটক করে গণধোলাই দেয়।
পরে নূরের মাকে খবর দেওয়া হয় ও নূরকে তার হাতে তুলে দেন তারা। রক্তাক্ত অবস্থায় নূরকে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করানো হয়। সোমবার সকাল থেকে অবনতি হলে দুপুরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা রেফার করা হলেও হাসপাতালেই মারা যায় নূর।
নিহতের মা তাসলিমা বেগম বলেন, আমার ছেলে নূর ও ফিমার পরিচয় ফেসবুকে। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। তাদের সম্পর্ক নিয়ে আমি জানতাম। রবিবার রাতে ফিমার বাড়ির এক লোক আমাকে ফোন দিয়ে বলে আমার ছেলেকে তাদের বাড়িতে আটকে রাখা হয়েছে। আমি দ্রুত ওই বাড়িতে গিয়ে ছেলেকে রক্তাক্ত ও অজ্ঞান অবস্থায় দেখতে পাই। পরে ছেলেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করাই। সোমবার দুপুরের দিকে চিকিৎসারত অবস্থায় নূরের মৃত্যু হয়।
কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. জাহিদ হোসাইন জানান, নূরকে যখন হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হয় তখন তিনি অজ্ঞান অবস্থায় ছিলেন। অবস্থার অবনতি দেখে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। কিন্তু রোগীর মা ও লোকজন হাসপাতালে ভর্তি করানোর দাবি করেন। রোগী কোমায় চলে গেছে বলার পরেও চাপ প্রয়োগ করলে আমরা হাসপাতালে ভর্তি করে দেই। সকালে রোগীর অবস্থার আরো অবনতি হলেও স্বজনরা কর্ণপাত করেনি। হেড ইনজুরির কারণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজিজুল ইসলাম বলেন, হত্যাকাণ্ড সন্দেহে ফিমা ও তার মা হাছিনা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের আটক করা হয়েছে। নিহতের লাশ উদ্ধার করে চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য জন্য পাঠানো হয়েছে।