শাহজালালের থার্ড টার্মিনাল ব্যবহার দীর্ঘায়িত হওয়ার শঙ্কা

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পের জন্য তিনজনকে নতুন প্রকল্প পরিচালক (পিডি) হিসেবে প্রস্তাব করে মন্ত্রণালয়ে নাম পাঠিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। প্রস্তাবিত তিনজন হলেন: প্রকৌশলী শুভাশিষ বড়ুয়া, মো. শরিফুল ইসলাম ও এ.এইচ. এমডি. নুরউদ্দিন চৌধুরী।

তবে প্রকল্পের ৯৯.৫% কাজ শেষ হওয়ার পর মাত্র ০.৫% কাজের জন্য নতুন পিডি নিয়োগ কতটা যৌক্তিক—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সংশ্লিষ্টরা। 

বেবিচকের দুর্নীতি বিরোধী সমন্বয় কমিটির প্রধান ড. জোবাইদুল ইসলাম বলেন, সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী উন্নয়ন প্রকল্পের পিডি ঘনঘন পরিবর্তন করা না গেলেও সরকারী এ আইন মানা হচ্ছেনা। এ করনে সরকার আর্থিক ক্ষতির সন্মুখিন হচ্ছে।’

নতুন পিডি নিয়োগ না করে বর্তমান পিডি দ্বারাই প্রকল্পের কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়ার জন্য তিনি দাবি জানান তিনি।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর এ,কে,এম মাকসুদুল ইললামের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল হওয়ার পর পিডি শুন্য হয়ে পড়ে থার্ড টার্মিনাল প্রকল্প।  এ সময় প্রকল্পের কাজে স্থবিরতা দেখা দেয়। নতুন পিডি নিয়োগে বিভিন্ন জটিলতা দেখা দেয়। পিডি নিয়োগের জন্য জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই এবং দুদকের ছাড়পত্রের প্রয়োজন হয়। এ দুটি ছাড়পত্র পেতে দীর্ঘ সময় ব্যয় হয়। পরবর্তীতে প্রায় তিন মাস পর প্রকৌশলী জাকারিয়া হোসেনকে পিডি হিসেবে নিয়োগ করা হয়। বর্তমানে জাকারিয়া হোসেনকে পিডির পাশাপাশি প্রধান প্রকৌশলীর চলতি দ্বায়িত্বও দেয়া হয়েছে। এছাড়াও থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পের পিডি হিসেবে ওই তিনজনকে প্রস্তাব করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। 

নাম প্রকাশ না করা শর্তে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পিডি না থাকার কারণে দীর্ঘ তিন মাস সময়ে প্রকল্পের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। ঠিকাদারের ও পরামর্শকের বিল পরিশোধ বন্ধ থাকে এবং টাকার অভাবে বিদেশ হতে আমদানীকৃত মালামাল পোর্ট হতে ছাড়করণ কাজও বন্ধ হয়ে যায়। এতে চুক্তি অনুযায়ী ঠিকাদারের বিলের উপর বিলম্ব জরিমানা ফি, পোর্ট হতে মালামাল ছাড় করনের বিলম্ব জরিমানা ফি, কাজের সিদ্ধান্ত প্রদানে বিলম্ব জনিত কারণে প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধি প্রভৃতি বাবদ সরকারের প্রায় ১০০ কোটি টাকা লোকশান হয়। 

তারা বলছেন, এ সকল বৈদেশিক সহায়তাপুষ্ঠ প্রকল্পের বার বার পিডি পরিবর্তন হলে নতুন পিডির নমুনা স্বাক্ষর মন্ত্রণালয়, ইআরডি, দাতা সংস্থা জাইকা, অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ নানা প্রতিষ্ঠানের অনুমোদনের জন্য প্রেরণ করতে হয়। এ প্রেরণ ও অনুমোদন প্রক্রিয়া দীর্ঘ সময় স্বাপেক্ষ। এ কারণে গত ২৩ ডিসেম্বর পর হতে আজও বৈদেশিক ঠিকাদারের বিলের একটি অংশ পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি। ফলে সরকারকে বিলম্ব জরিমানা ফি গুনতে হচ্ছে।

বেবিচক সূত্র জানায়, দীর্ঘ প্রায় ৩ মাস সময় পর প্রধান উপদেষ্টার অনুমোদনে নতুন পিডি নিয়োগ হলেও সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ আবারও নতুন পিডি নিয়োগের প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করার বিষয়টি প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছে। কেননা, এ নতুন পিডি নিয়োগ করতে আবারও দীর্ঘ সময়ক্ষেপন হবে এবং প্রকল্প কাজে নানাবিধ জটিলতা সৃষ্টি হবে এবং বিষয়টি অহেতুক সরকারী অর্থের অপচয় হবে। 

এ বিষয়ে বেবিচকের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মঞ্জুর কবীর ভুঁইয়া দেশের বাইরে থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।