ভালুকের শরীরে পচন ধরার ঘটনায় ময়মনসিংহ নগরের জয়নুল আবেদিন উদ্যানের মিনি চিড়িয়াখানা সিলগালা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) বিকালে পরিদর্শন শেষে মিনি চিড়িয়াখানাটি সিলগালা করে ঢাকার বন্যপ্রাণি অপরাধ দমন ইউনিট। এছাড়াও ২৩টি বন্যপ্রাণি জব্দ করা হয়েছে।
মিনি চিড়িয়াখানায় খাঁচায় থাকা দুটি ভালুকের মধ্যে একটির শরীরে পচন ধরেছে। এমনকি প্রাণিটির পায়ের অংশবিশেষ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এমন ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের পর বন্যপ্রাণি অপরাধ দমন ইউনিট এই অভিযান চালায়।
বন্যপ্রাণি অপরাধ দমন ইউনিটের পরিদর্শক নার্গিস সুলতানা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দেশী অথবা বিদেশী যে কোনো পশু পাখির জন্যই এখানকার পরিবেশ খুবই অস্বাস্থ্যকর। এরপরও নিয়ম বহির্ভূতভাবে দেশীয় প্রাণি ছিল চিড়িয়াখানাটিতে। এর মধ্যে ২৩টি আমরা নিয়ে যাচ্ছি। জব্দকৃত প্রাণিগুলোর মধ্যে কিছু প্রাণিকে গাজীপুরের সাফারি পার্কে রাখা হবে। বাকিগুলোকে অবমুক্ত করা হবে। এখন থেকে আর চিড়িয়াখানাটিতে দর্শনার্থী প্রবেশ করতে পারবেন না। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
অভিযানে থাকা বন্যপ্রাণি ও জীব বৈচিত্র্য কর্মকর্তা রথীন্দ্র কুমার বিশ্বাস জানান, আইন অমান্য করে ব্যাক্তির প্রভাব খাটিয়ে অবৈধভাবে চিড়িয়াখানাটি গড়ে তোলা হয়েছিল। খবর পেয়ে প্রাণীগুলোকে উদ্ধার করা হয়। অতিরিক্ত দুর্বলতা থাকায় এই মুহূর্তে ভালুকটিকে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক ভালুকটির নিয়মিত চিকিৎসা করবেন। যখন সুস্থ হবে তখন আমরা নিয়ে যাবো।
জানা যায়, ২০১৩ সালে নগরীর জয়নুল আবেদিন উদ্যানের ভেতরে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় মিনি চিড়িয়াখানা গড়ে তোলা হয়। হরিণ, ভালুক, কুমির, হনুমান, গাধা, অজগরসহ ২৪ প্রজাতির প্রাণি ছিল চিড়িয়াখানাটিতে। তবে মেছো বাঘের মৃত্যুর পর বর্তমানে সেখানে ২৩ প্রজাতির ১১৪টি প্রাণি আছে। ৩০ টাকায় টিকিট কেটে দর্শনার্থীরা চিড়িয়াখানাটিতে ঢুকতে পারতেন।
সাবেক মেয়র ইকরামুল হক টিটুর অনুসারীরা চিড়িয়াখানাটি পরিচালনা করে আসছিল। চিড়িয়াখানাটি ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন থেকে নামমাত্র মূল্যে ইজারা নিয়েছিলেন ফুলবাড়িয়া উপজেলার সাবেক সংসদ সদস্যের পুত্র এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইমদাদুল হক সেলিম। পরে তার কাছ থেকে ৪ নং ওয়ার্ড কমিশনার মাহবুবুর রহমান দুলাল তার শ্যালকের নামে লিজ নিয়ে এটি পরিচালনার দায়িত্ব নেন। তখন থেকে এই চিড়িয়াখানাতে বিভিন্ন প্রাণীকে খাচায় বন্দী করে টিকিট বিক্রির মাধ্যমে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়।