পুলিশের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেনের স্ত্রী শারমীন আক্তার তামান্নার করা মামলা খারিজ করে দিয়েছে চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালত। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে এই আদেশ দেয় আদালত। আদালতের সংশ্লিষ্ট সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে দেশ রূপান্তর। শারীরিক নির্যাতনে গর্ভের সন্তান নষ্টের অভিযোগে গত ১৫ জানুয়ারি চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতে মামলার আবেদন করেছিলেন তামান্না। মামলায় নগরের বায়েজিদ বোস্তামি থানার সাব ইন্সপেক্টর জগৎজ্যোতি দাশ ও মনিরুল ইসলাম, পুলিশের ‘সন্ত্রাসী’ সরোয়ার হোসেন বাবলা, জাবেদ ওরফে ভাগিনা জাবেদ ও আনিকা ইসলামকে আসামি করা হয়।
মামলায় অভিযোগ : গত ৫ ডিসেম্বর ভোরে বাদীর স্বামী সাজ্জাদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করতে নগরের অক্সিজেন মিরপাড়া হাউজিং সোসাইটির ইউনূস টাওয়ারের ভাড়া বাসায় অভিযান চালান ১ থেকে ৩ নং বিবাদী। স্বামীকে না পেয়ে বাদীকে নারী পুলিশ ছাড়া আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় ১ থেকে ৩ নং বিবাদী বাদীকে মারধর করেন। থানা কার্যালয়ে নিয়ে গেলে ৪ ও ৫ নং বিবাদীও বাদীকে মারধর করেন। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আটক ব্যক্তিকে আদালতে হাজির করার বিধান থাকলেও আটকের পর দুই দিনের মাথায় একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করে পুলিশ। কিছুদিন কারাভোগের পর সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পান বাদী। এরপর শারীরিক পরীক্ষা শেষে গর্ভে থাকা তিন মাসের অনাগত শিশু নষ্ট হয়ে গেছে বলে বাদীকে জানান সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক। এ ছাড়া অভিযানের সময় পুলিশ বাদীর ব্যবহৃত আইফোন, পাসপোর্ট জব্দ করলেও তা সিজার লিস্টে রাখা হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, তামান্নার স্বামী নগর পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদকে গত ১৫ মার্চ ঢাকার বসুন্ধরা সিটি শপিং সেন্টার থেকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর চান্দগাঁও এলাকায় সংঘটিত বালু ব্যবসায়ী তাহসীন হত্যা মামলায় দ্বিতীয় দফায় পাঁচ দিনের রিমান্ডে আছে সাজ্জাদ। একই মামলায় এর আগে সাত দিনের রিমান্ড পেরিছে এসেছে সাজ্জাদ।