চেন্নাইয়ের ম্যাচ মানেই লাইমলাইটে থাকবেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। তবে গতকাল আইপিএলে চেন্নাইয়ের বিপক্ষে সব আলো কেড়ে নিলেন পাঞ্জাব কিংসের অচেনা তরুণ প্রিয়াংশ আর্য। ২৩ বছর বয়সী এই তরুণ ৩৯ বলে ৭ চার ও ৯ ছক্কায় সেঞ্চুরি করেছেন, যা আইপিএলে চতুর্থ দ্রুততম। শেষ পর্যন্ত ৪২ বলে ১০৩ রান করে আউট হলেন প্রিয়াংশ। ভারতীয় ক্রিকেটে আবির্ভাব হলো আরও এক প্রতিভার।
প্রিয়াংশ ছাড়া পাঞ্জাবের প্রথম ছয় ব্যাটারের কেউ দুই অঙ্কের রান করতে পারেননি। ৮৩ রানে ৫ উইকেট পড়ে গিয়েছিল। সেখান থেকে দলকে ২১৯ রানের সংগ্রহ এনে দেন প্রিয়ংশ। দিল্লির ছেলে প্রিয়াংশ ভারতীয় ক্রিকেটে ততটা পরিচিত না হলেও নিলামে তাকে নিতে কাড়াকাড়ি হয়েছিল। মুম্বই ইন্ডিয়ান্স ও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর সঙ্গে লড়াই ৩০ লাখ বেইস প্রাইসের প্রিয়াংশকে ৩ কোটি ৮০ লাখ রুপিতে কেনে পাঞ্জাব।
প্রিয়াংশকে নিয়ে এই কাড়াকাড়ির বড় কারণ ঘরোয়া ক্রিকেটে তার পারফর্মেন্স। গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে দিল্লি প্রিমিয়ার লিগে ১০ ম্যাচে ছয় শতাধিক রান করেছিলেন প্রিয়াংশ, যা টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ। সাউথ দিল্লি সুপারস্টার্জেরর হয়ে নর্থ দিল্লি স্ট্রাইকার্সের বিপক্ষে এক ওভারে ৬টি ছক্কাও মেরেছিলেন। সেই ম্যাচে ২০ ওভারে তার দল ৫ উইকেটে করেছিল ৩০৮ রান।
এছাড়া সৈয়দ মুশতাক আলী ট্রফিতে দিল্লির হয়ে সর্বাধিক রান করেছিলেন প্রিয়াংশ। ৭ ম্যাচে ১৬৬.৯১ স্ট্রাইক রেটে করেছিলেন ২২২ রান। এর মধ্যে ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে উত্তরপ্রদেশের বিপক্ষে খেলেছিলেন ৪৩ বলে ৫ চার ও ১০ ছক্কায় ১০২ রানের বিধ্বংসী ইনিংস। এসব কারণেই নিলামে প্রিয়াংশকে নিয়ে কাড়াকাড়ি হয়েছিল। ইনিংস বিরতিতে প্রিয়াংশ বলেন, এটাই তার স্বাভাবিক খেলা।
প্রিয়াংশের ভাষায়, ‘শ্রেয়স ভাই বলেছিল, “নিজের স্বাভাবিক খেলা খেলে যাও। তোমার মনে যা চায় সেটাই কর।” আগের ম্যাচে প্রথম বলে আউট হয়েছিলাম। এই ম্যাচে ঠিক করেছিলাম, নিজের জায়গায় বল পড়লে ছক্কা মারার চেষ্টা করব। সেটাই করেছি। ব্যাটিং উপভোগ করেছি। পাঞ্জাব কর্তৃপক্ষ আমার ওপর আস্থা রেখেছে। সেই আস্থার প্রতিদান দিতে পেরে ভালো লাগছে।’