রংপুরে আবু সাঈদ হত্যা

২৬ জনের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত, দুই মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করার নির্দেশ

গণঅভ্যুত্থানের সময় পুলিশের গুলিতে নিহত রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যায় প্রাথমিকভাবে ২৬ জনের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পেয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। এর মধ্যে বুধবার (৯ এপ্রিল) চারজনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। 

তাদের এ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত ট্রাইব্যুনাল। 

আবু সাঈদ হত্যার চার আসামি হলেন- বরখাস্ত এএসআই (সহকারী উপ- পরিদর্শক) আমির হোসেন, তাজহাট থানার কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম ও বেরোবি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইমরান চৌধুরী। 

আবু সাঈদ হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে দুই মাস সময়ের আরজি জানায় প্রসিকিউশন। আদালত সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে এই সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়। প্রসিকিউশন পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর মো. মিজানুল ইসলাম। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামিম ও আব্দুস সাত্তার পালোয়ান। পরে অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, আবু সাঈদ হত্যায় প্রাথমিকভাবে ২৬ জনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আমরা দুই মাস সময় চেয়েছিলাম। আদালত তা মঞ্জুর করেছেন। 

শহিদুল হক, আছাদুজ্জামান মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি: 

২০১৬ সালের ২৫ জুলাই রাজধানীর কল্যাণপুরে ‘জাহাজ বাড়ি’তে জঙ্গি নাম  দিয়ে ৯ তরুণকে হত্যার অভিযোগের মামলায় পুলিশের তিন শীর্ষ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন।

 আদালতের আদেশ অনুযায়ী, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহিদুল হককে ২১ এপ্রিল, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়াকে ২২ এপ্রিল ও ডিএমপির মিরপুর বিভাগের সাবেক উপ- কমিশনার (ডিসি) মো. জসীম উদ্দীন মোল্লাকে ২৩ এপ্রিল জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এর আগে গত ২৪ মার্চ তিনজনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।