দীর্ঘদিন পর মাঠে ফিরে ব্যাট হাতে ঝলক দেখালেন নাসির হোসেন। ৮৪ বলে ৭৭ রানের ঝকঝকে ইনিংস খেলেন তিনি, সঙ্গে বল হাতে নেন একটি উইকেটও। তবে তার অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের পরও হাসলো না রূপগঞ্জ টাইগার্স ক্রিকেট ক্লাব। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে ধানমন্ডি স্পোর্টস ক্লাবের কাছে পাঁচ রানে হেরে যায় দলটি।
বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চার নম্বর মাঠে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামে রূপগঞ্জ টাইগার্স। শুরুটা ছিল হতাশার। মাত্র ১৬ রানের মধ্যেই ফিরে যান দুই ওপেনার—মঈন খানের দুর্দান্ত ডেলিভারিতে বোল্ড হন আব্দুল মজিদ (১৫ বলে ১০), আর এনামুল হক এনামের বলে চার রান করে বিদায় নেন অমিত মজুমদার।
সেই ধাক্কা সামাল দেন নাসির হোসেন ও আসাদুল্লাহ আল গালিব। দুজন গড়ে তোলেন ১৪০ রানের অনবদ্য জুটি। ব্যাট হাতে নিজের ফিরে আসার জানান দেওয়া নাসির ইনিংসটি সাজান আটটি চার ও তিনটি ছক্কায়। তবে সেঞ্চুরির দোড়গোড়ায় গিয়ে থেমে যান ফজলে রাব্বির গুড লেংথের বলে লং-অফে ধরা পড়ে—৮৪ বলে ৭৭ রান।
গালিবও খেলেন দুর্দান্ত এক ইনিংস। ৮০ বলে ৬৫ রান করেন তিনি। তবে তাকেও থামান সানজামুল ইসলাম। এরপর ইনিংসে ধস নামে। আল আমিন জুনিয়র (১৮) ও মোহাম্মদ ফয়সাল (১০) ফিরেন দ্রুতই।
শেষদিকে ঝড় তোলেন আরিফুল হক। মাত্র ২৮ বলে ছয় ছক্কায় করেন ৪৮ রানের টর্নেডো ইনিংস। সঙ্গে নুহায়েল সান্দিদের ২৬ বলে ৩৪ রানে ভর করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ২৮০ রান সংগ্রহ করে রূপগঞ্জ।
জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে ধানমন্ডি পায় চমৎকার সূচনা। আজমির আহমেদ ও হাবিবুর রহমান গড়েন ৫৮ রানের জুটি। ৩০ বলে ৪০ রান করে মোহাম্মদ জীবনের বলে ফিরে যান আজমির। এরপর হাবিবুরকেও (১৮) এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন নাসির।
৭৫ রানে দুই উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়া ধানমন্ডিকে টেনে তোলেন ফাজলে রাব্বি ও নুরুল হাসান সোহান। ১০৮ রানের জুটিতে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন তারা। তবে সেই পথচলায় বাঁধা হয়ে দাঁড়ান নুহায়েল সান্দিদি। একই ওভারে ফিরিয়ে দেন ফাজলে রাব্বি (৭৭ বলে ৪৭) ও সানজামুল ইসলামকে (০)।
১৮৩ রানে ৪ উইকেট হারানো ধানমন্ডিকে আবারও পথে ফেরান সোহান ও ইয়াসির আলী রাব্বি। দলকে জয়ের একেবারে কিনারায় নিয়ে গিয়ে ৯৫ বলে ৯৭ রান করে বিদায় নেন সোহান। তবে এরপর দায়িত্ব নেন ইয়াসির। মাত্র ৪০ বলে ৫৫ রানের ঝলমলে ইনিংসে দলকে পৌঁছে দেন জয়ের বন্দরে।
মঈন খান পাঁচ রানে অপরাজিত থাকেন। ৪৭.১ ওভারে পাঁচ উইকেট হাতে রেখে জয় তুলে নেয় ধানমন্ডি স্পোর্টস ক্লাব।
অথচ ম্যাচে নায়ক হওয়ার মতো পারফরম্যান্স ছিল নাসির হোসেনের। কিন্তু দিনশেষে জয় হাসে তার প্রতিপক্ষের মুখে।