রাবির ভর্তি পরীক্ষায় 'ভুলক্রমে' ‘বি’ এর পরিবর্তে ‘সি’ ইউনিটের ওএমআর প্রদান

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ভুলক্রমে ‘সি’ ইউনিটের উত্তরপত্র (ওএমআর শিট) প্রদানের ঘটনা ঘটেছে। আজ শনিবার (১২ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রের ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ একাডেমিক ভবনের একটি কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। তবে বিষয়টি জানাজানি হলে পরীক্ষা শুরু পূর্বেই উত্তরপত্র পরিবর্তন করে দেওয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবারেই প্রথমবারের মতো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বাইরে দেশের পাঁচটি বিভাগীয় শহরে রাবির ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তিনটি ইউনিটে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। 

জানা যায়, শনিবার ব্যবসায় শিক্ষা ও ব্যবসা প্রশাসন ইনস্টিটিউটভুক্ত ‘বি’ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এদিন বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত ঘণ্টাব্যাপী নৈর্ব্যক্তিক পদ্ধতিতে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। তবে পরীক্ষা শুরুর পূর্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ একাডেমিক ভবনের ২০৪ নম্বর কক্ষে প্রায় ১০০ জন পরীক্ষার্থীকে ‘বি’ ইউনিটের পরিবর্তে বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘সি’ইউনিটের উত্তরপত্র প্রদান করা হয়। ভুল উত্তরপত্র দেখে হতভম্ব হয়ে পড়েন ভর্তিচ্ছু পরীক্ষার্থীরা। পরে তারা বিষয়টি কক্ষে দায়িত্বরত পরীক্ষককে জানালে, দ্রুত সেগুলো পরিবর্তন করে দেওয়া হয়।

পরীক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আজকে ‘বি’ ইউনিটের পরীক্ষা ছিল। এখানে বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অবাণিজ্য বিভাগের শিক্ষার্থীরাও পরীক্ষার্থী ছিলেন। তাদের জন্য ছিল আলাদা উত্তরপত্র। যেটাতে লেখা ছিল অবাণিজ্য। কিন্তু যারা উত্তরপত্র সরবরাহের দায়িত্বে ছিলেন তারা ভুলে অবাণিজ্যের পরিবর্তে অবিজ্ঞানের উত্তরপত্র সরবরাহ করেন।

শহীদুল্লাহ্ একাডেমিক ভবনের দায়িত্বে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) অধ্যাপক গোলাম আরিফ বলেন, শহীদুল্লাহ্ ভবনের ২০৪ নম্বর কক্ষে ভুলবশত ‘বি’ ইউনিটের ওএমআর শিটের পরিবর্তে ‘সি’ ইউনিটের ওএমআর সরবরাহ করা হয়েছিল। কিন্তু আমরা তা সঙ্গে সঙ্গেই তা পরিবর্তন করে দিয়েছি। ফলে পরীক্ষার্থীদের বড় কোনো সমস্যায় পড়তে হয়নি।

এ বিষয়ে ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার প্রধান সমন্বয়কারী অধ্যাপক এস এম এম কামরুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এ ধরনের একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। তবে ঘটনাটি জানার সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের হাতে থাকা সংরক্ষিত উত্তরপত্র পরীক্ষার্থীদের কাছে প্রদান করি। পরীক্ষা শুরুর পূর্বেই আমরা এ কাজটি করতে সক্ষম হয়েছি। ফলে কোনো পরীক্ষার্থীকে অসুবিধায় পড়তে হয়নি। এটি মূলত যারা আমাদের পরীক্ষার উত্তরপত্র সরবরাহের দায়িত্বে ছিলেন তাদের ভুল।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন খান বলেন, ‘ভর্তি পরীক্ষায় এ ধরনের ভুল করা একদমই অনুচিত। অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে যেহেতু ভুলটা হয়ে গেছে আমরা চিন্তা করছি দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সভা করে আগামী পরীক্ষাগুলোতে এ ধরনের সমস্যা এড়ানোর বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।’