উপাচার্যদের মন্তব্যে কৃষি গুচ্ছের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

আগামী পাঁচ বছর টানা কৃষি গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় নেতৃত্ব দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) উপাচার্য। তবে এই প্রস্তাবে দ্বিমত পোষণ করেছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি), গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গাকৃবি) উপাচার্য ও কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুড়িকৃবি) উপাচার্য গণ। এমতাবস্থায় পরবর্তী বছরে কৃষি গুচ্ছের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

শনিবার (১২ এপ্রিল) দুপুর ৩টায় ৯টি কৃষি প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক প্রথমবর্ষের গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয় গুলো ছাড়াও সারাদেশের ১৩টি উপকেন্দ্রে একযোগে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

পরীক্ষা পরিদর্শন শেষে বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘বাকৃবির নেতৃত্বে আগামী ৫ বছর টানা কৃষিগুচ্ছ পরীক্ষা হলেই কেবল গুচ্ছতে থাকবো, অন্যথায় বাকৃবি স্বতন্ত্র পরীক্ষা নেবে।’

তিনি বলেন, ‘বাকৃবি এ বছরই কৃষি গুচ্ছ থেকে বেরিয়ে আসার সব প্রস্তুতি নিয়েছিল। কিন্তু সরকারের অনুরোধকে সম্মান জানিয়ে এবং দেশের পরিস্থিতিতে বাস্তবতাকে স্বীকার করে বাকৃবি এ বছর কৃষি গুচ্ছের অন্তর্ভুক্ত থেকেছে।’

বাকৃবি উপাচার্যের এমন মন্তব্যকে ভালোভাবে দেখছেন না অন্যান্য কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা। উপাচার্যের এমন মন্তব্যের নিয়ে সমালোচনা করতে দেখা যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। 

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল লতিফ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গুচ্ছ পদ্ধতির মূল উদ্দেশ্য ছিল ভর্তি প্রক্রিয়া সহজ ও সমন্বিত করা। সেটি যদি হারিয়ে যায়, তাহলে গুচ্ছের যৌক্তিকতা আর থাকে না। কৃষি গুচ্ছে রোটেশনাল নেতৃত্ব একটি প্রচলিত রীতি। আগেও এটি হয়েছে, এ বছর বাকৃবি দিয়েছে ভবিষ্যতে অন্যরা দিবে এটাই স্বাভাবিক। এই রীতি না মানলে আমরা গুচ্ছে থাকবো না, অন্য কোনো কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের সঙ্গে যুক্ত হতে চাইলে আমরা আলাদা গুচ্ছ গঠন করতেও প্রস্তুত।’

গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের(গাকৃবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. জি কে এম মোস্তাফিজুর রহমান দেশ রুপান্তরকে বলেন, ‘এখন র‌্যাঙ্কিং এর দিক থেকে আমরা হচ্ছি সবচেয়ে এগিয়ে কাজেই নেতৃত্বের যদি দিতেই হয় তাহলে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় দিতে পারে অন্য কেউ নয়। বাকৃবি চাইলেই তো আর হবে না।’

আর কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়(কুড়িকৃবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মু. রাশেদুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘একক নেতৃত্বে তো গুচ্ছ চলতে পারে না, আমরা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা একসাথে বসবো তখন এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে এই ভিন্নমত কৃষি গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় সৃষ্টি করেছে। সারাদেশের শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির কথা চিন্তা করে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের স্বার্থে দ্রুত সমন্বয় ও আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।