রাজনীতিতে কল্যাণ হাওয়া আসবে

বাংলাদেশ সুস্থ ও গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে ফিরে আসুক, জনগণ মনে-প্রাণে সেটা চায়। কোনোরূপ নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি, বিশৃঙ্খলা ও গড়নড়পৎধপু মানুষ চায় না। অর্থনীতি সমৃদ্ধ সুন্দর শাসন ব্যবস্থাই মানুষের প্রত্যাশিত চাহিদা। যেখানে আইনের শাসন, সততা ও ন্যায়বিচার, সুশিক্ষা, সুস্বাস্থ্য, জননিরাপত্তা, জনগণের মতামত ও অধিকারের প্রতিফলন ঘটবে। দুর্নীতির অশুভ মহড়া থেকে জনগণ বাঁচতে পারবে। নির্ভয়ে মানুষ চলাফেরার সুযোগ পাবে এবং স্বাধীনভাবে নিজের মতামত প্রকাশ করতে পারবে। এক কথায়, একটি সুস্থ ও ভারসাম্যপূর্ণ প্রতিহিংসা বিবর্জিত কল্যাণমূলক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় বাংলাদেশ ফিরে আসুক এটিই দেশবাসীর চাওয়া। দীর্ঘদিন ধরে কখনো সামরিক শাসক, কখনো স্বৈরশাসক আবার কখনো গণতন্ত্রের ছায়া আমরা দেখেছি। কিন্তু ধারাবাহিকভাবে সুস্থ রাজনীতির সংস্কৃতি দেশবাসীর ভাগ্যে এখনো জোটেনি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আমাদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। দীর্ঘ ১৬ বছর একাধারে দেশ শাসন করা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতা এবং দেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়ে ভিনদেশে আশ্রয় নেবে, কেউ তা কল্পনাও করতে পারিনি। এত সহজে, অল্প সময়ের মধ্যে ধরাশায়ী হয়ে তিনি পালিয়ে যাবেন, তা ছিল অপ্রত্যাশিত। স্বাধীনতার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে অনেক উত্থান-পতন ঘটেছে। আমরা সামরিক শাসন দেখেছি, স্বৈরাচারী শাসন দেখেছি আবার নির্বাচিত শাসক দেখেছি। অনেক আন্দোলন দেখেছি। ১৯৯০ সালে স্বতঃস্ফূর্ত গণআন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছি। কিন্তু ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান ছিল সত্যিকার অর্থে একটি ব্যতিক্রমী গণঅভ্যুত্থান। এরপর অর্থনীতিবিদ নোবেল বিজয়ী বিশ্বখ্যাতিসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। জনগণের দাবির প্রেক্ষিতে এই সরকার কয়েকটি সংস্কার কমিশন গঠন করেন এবং প্রত্যেকটি সংস্কার কমিশনের প্রধানগণ ইতোমধ্যে নিজ নিজ বিভাগের সম্ভাব্য সংস্কার বিষয়ে প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে উপস্থাপন করেছেন। এরপর সরকার রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় সংস্কারের কাজ সম্পন্ন করে, একটি নিরপেক্ষ এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করবে। কিন্তু সংস্কার শেষে ঠিক কত দিন পর নির্বাচন হবে, সে ব্যাপারে কোনো রোডম্যাপ তৈরি না হলেও সরকার উপযুক্ত সময়ে তা সম্পন্ন করবেন বলে আশা করা যাচ্ছে। তবে সরকারকে যুক্তিসংগত সময় দেওয়া দরকার। সেই সময়টা দুই বছর, তিন বছর বা পাঁচ বছরও হতে পারে। ইতিমধ্যে দাবি উঠেছে, প্রফেসর ড. ইউনূস সরকার পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাক।

আ’লীগ ক্ষমতাচ্যুত হলে বিএনপি এবং বিএনপি ক্ষমতাচ্যুত হলে আ’লীগ ক্ষমতায় আসবে এমন একটি ধারণা আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এবার কিন্তু আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হলেও বিএনপি ক্ষমতায় বসতে পারেনি। তবে রাষ্ট্র ক্ষমতায় না বসলেও রাষ্ট্রযন্ত্র পরিচালনার অর্গানগুলো তারা অনেকটাই নিজেদের অনুকূলে নিয়েছেন। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার দলনিরপেক্ষ হলেও, বিএনপিসহ অনেকেরই ধারণা-প্রশাসন এখন বিএনপির নিয়ন্ত্রণে। ‘সত্য সমাগত মিথ্যা অপসৃত, মিথ্যার পতন অবশ্যই ঘটবে’ কথাটা চিরন্তন সত্য। তাই সত্যের সঙ্গে বসবাস করলেও কখনো কখনো কোনো বিশেষ সত্য আমাদের চোখে ধরা পড়ে না। একইভাবে রাজনীতি যে ধীরে ধীরে রাজনীতিবিদদের হাত থেকে ব্যবসায়ীদের হাতে চলে গেছে, সেটা হয়তো আমরা এত দিন দেখেও দেখিনি। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন আমাদের দেশ স্বাধীনের প্রথম ধাপে বিজয় দিয়েছিল। সে আন্দোলনে দেশের সব ধরনের শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্পৃক্ততা ছিল। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের প্রায় ৫৫ শতাংশই ছিলেন আইনজীবী আর ব্যবসায়ী ছিলেন মাত্র ৫ শতাংশ। ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে আইনজীবীর সংখ্যা কমে গিয়ে ব্যবসায়ীর সংখ্যা বেড়ে যায় বিপুল সংখ্যায়। ওই পার্লামেন্টে আইনজীবী নেমে আসেন ২৫ এবং ব্যবসায়ী উঠে আসেন ২৬ শতাংশে। ১৯৯১ সালে বিচারপতি শাহাবুদ্দিনের অধীনে নির্বাচনে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে। তখন ছিল আইনজীবী ১৯ শতাংশ এবং ব্যবসায়ী ৫৩ শতাংশ। পরবর্তী পর্যায়ে এটা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশের রাজনীতি বিভিন্ন সময়ে প্রকৃত রাজনীতিবিদদের ছাড়িয়ে ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের দখলে চলে যাচ্ছে। প্রকৃত সত্য হচ্ছে, এটা শুধু আমাদের দেশে না, বিশ্বের অনেক উন্নত দেশেও এমনটি হচ্ছে।

ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনীতি এক সময় প্রতিভাবান ও মেধাসম্পন্ন দেশপ্রেমিক মানুষের দ্বারা অলংকৃত হয়েছিল। গান্ধী, নেহরু, জিন্নাহ, আবুল কালাম আজাদ, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক, সোহরাওয়ার্দী, নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু, ভাসানী তাদের প্রত্যেকেই জনকল্যাণের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ ছিলেন। জনগণকে তারা ভালোবাসায় সিক্ত করেছেন। নিজেরাও জনগণের অফুরন্ত ভালোবাসা অর্জন করেছেন। কারণ তাদের রাজনীতি ছিল কৃত্রিমতা বিবর্জিত। প্রকৃত রাজনীতিই ছিল তাদের উদ্দেশ্য। জ্ঞান ও পাণ্ডিত্যের দিক থেকে তারা ছিলেন প্রথম সারির ব্যক্তিত্ব। তাদের অসাধারণ প্রজ্ঞা, রাজনৈতিক দূরদর্শিতা, অমায়িক ব্যবহার, অফুরান প্রাণশক্তি এবং বুদ্ধিবৃত্তিক কৌশলের কাছে ব্রিটিশরা পরাজিত হয়েছে। সমৃদ্ধশালী ঔপনিবেশিক শাসকগোষ্ঠী উপমহাদেশ থেকে তাদের সাম্রাজ্য গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছিল। এটা সম্ভব হয়েছিল, নিবেদিতপ্রাণ সেসব প্রাজ্ঞ নেতৃত্বের কারণে। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের পর, ভারত ও পাকিস্তান উভয় দেশের রাজনীতিই নিয়ন্ত্রণ করেছেন দক্ষ, সৎ ও মেধাবী রাজনীতিকরা। এরপর আইয়ুব খানের নেতৃত্বে সামরিক বাহিনী দখল করে নেয় পাকিস্তানের শাসনক্ষমতা। ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনীতিতে অরাজনৈতিক অশুভ শক্তির আগমন তখনই শুরু। নেহরুর নেতৃত্বে ভারত যতটা এগিয়ে গেল, আইয়ুবের নেতৃত্বে আরও পিছিয়ে পড়ল তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান অর্থাৎ আজকের বাংলাদেশ। তখন আইয়ুব খানের সামরিকতন্ত্রের বিপরীত স্রোতধারায় পূর্ব বাংলায় সুস্থধারার রাজনীতি গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। সে সময় পেশাদার রাজনীতিবিদ এবং পণ্ডিত ব্যক্তিদের দ্বারা রাজনীতি পরিচালিত হতো। শেরেবাংলা-ভাসানীর রাজনীতি ছিল, বাংলার স্বায়ত্তশাসনকে কেন্দ্র করে জনকল্যাণের নিমিত্তে কাজ করা। শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক নেতা ছিলেন মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী। শেখ মুজিব পরবর্তী সময়ে নেতা হয়েছেন এ কথা জাতি জানে। তার রাজনৈতিক শক্তির উৎস ছিল মূলত ভাসানী ও তাজউদ্দীন আহমদের মতো সাহসী নিরেট সৎ রাজনীতিবিদগণ। এক সময় সোহরাওয়ার্দী-ফজলুল হক না থাকলেও ভাসানী-মণি সিংহ-মোজাফফর আহমদের মতো নিঃস্বার্থ দেশপ্রেমিক রাজনীতিকদের সম্মিলিত ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে।

স্বাধীনতার পর ইতিহাস বিপর্যস্ত হলো। ১৯৭৫ সালে ২৫ জানুয়ারি একদলীয় বাকশাল কায়েম করা হলো। এরপর ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট হলো, পরিবারসহ শেখ মুজিব হত্যার ঘটনা। এরপর আবার রাজনীতির গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে পুনরায় সামরিক শাসন শুরু। খন্দকার মোশতাকের পরেই নতুন করে সামরিক আইন জারি করে ক্ষমতায় বসলেন মেজর জিয়াউর রহমান। তারপর ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থেকে দল গঠনের পালা শুরু হলো। প্রকাশ্যে তিনি ঘোষণা দিলেন ‘Money is no problem’. আরও বললেন, ‘I will make politics difficult for the politicians’. তারপর শুরু হয়ে গেল যেকোনো পন্থায় ‘রাজনীতিবিদ’ জোগাড় করে নতুন দলে ভেড়ানোর সংস্কৃতি। বিভিন্ন পেশা, বিশেষত ব্যবসায়ী জগৎ থেকে লোক জড়ো করে তিনি তাদের সঙ্গে জনগণের পরিচয় করিয়ে দিলেন এই বলে যে, তারা সবাই রাজনীতিবিদ। ভিন্ন দল ও ব্যবসায়ী মহল থেকেও অনেকে এসেছেন বলে জানানো হলো। এভাবেই গড়ে উঠল রাজনীতিতে ব্যবসায়ীদের আগমন। একপর্যায়ে হ্যাঁ-না ভোটের মাধ্যমে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেন। তার স্বল্পতম শাসন ব্যবস্থা জাতির জন্য গৌরবের ছিল বলে জনশ্রুতি আছে। তাই তাকে অনেকেই শ্রদ্ধা করেন। তবে এ কথা মনে রাখা জরুরি যে, জিয়ার প্রতি ভালোবাসার কারণেই পরবর্তীকালে বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসেছে। কিন্তু জিয়ার আমলেও সুস্থ রাজনীতির টেকসই সমাধন হয়নি।

১৯৮১ সালে শহীদ জিয়া হত্যাকান্ডের পর এরশাদের সামরিক শাসন দ্বারা Replacement হলো। তবে সুস্থ রাজনীতি গণতান্ত্রিক চাকায় উঠল না। উল্লেখ্য, বঙ্গবন্ধুর একদলীয় বাকশালের বিপরীতে জিয়া বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তন করেছিলেন। স্বৈরাচারী এরশাদের শাসনামলে বিএনপি এবং ডান-বাম সব সংগঠন গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলন শুরু করে। সব দলের যুগপৎ আন্দোলনের মুখে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর স্বৈরাচারী এরশাদের পতন ঘটে। কিন্তু সমাজের অভ্যন্তরে নৈতিক অবক্ষয়ের যে অসুস্থতা রয়ে গেছে, সেটা সুস্থ করার দায়িত্ব কোনো রাজনৈতিক দল অথবা ক্ষমতাসীন দল গ্রহণ করেনি। সামাজিক শক্তির ভারসাম্য জনগণের পক্ষে থাকলে, যেকোনো স্বৈরাচার হটানো সম্ভব। কিন্তু দেশপ্রেমের বিপরীতে আত্মপ্রেমের অসুস্থতা অন্তরে বাসা বাঁধলে, ঐক্য ও নৈতিক শক্তির চরম অধঃপতন ঘটলে, সেটা রাজনৈতিকভাবে সুস্থ করা কঠিন। অধিকাংশ রাজনৈতিক নেতা দেশপ্রেমের প্রতি দৃষ্টি না দিয়ে আত্মপ্রীতির প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ করলেন। ফলে স্বৈরাচারী এরশাদের পতন ঘটলেও, রাজনীতিতে অসৎ ও  দুর্বৃত্তায়নের ধারার কোনো পতন হয়নি। পরবর্তীকালে পালাক্রমে দুটি দল বিএনপি ও আ’লীগ বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতায় এসেছে। কিন্তু সুস্থ রাজনীতির ধারা গড়ে তোলা তাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি। ফলে রাজনীতিতে হানাহানি আর বিশৃঙ্খলা রয়েই গেছে। বিএনপি এবং আ’লীগের মধ্যে নির্বাচনের মনোনয়ন নিয়ে অর্থের যে হোলি খেলা হয়েছে, তা জনগণ জানে। রাজনৈতিক সততা, ন্যায়নীতি ও যোগ্যতার বিচার-বিশ্লেষণ তাদের বিবেচ্য ছিল না। আভিজাত্যপূর্ণ বিলাসী জীবনযাপন ও ফুর্তিবাজিতে অধিকাংশ রাজনীতিবিদ চেয়েছে টাকা। আর ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের অধিকাংশের চাওয়া রাজনৈতিক ক্ষমতা। এমন মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে, পরিশীলিত রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ফিরে আসা কঠিন। জনগণকে বলি শুধু টাকার জোরে যারা রাজনীতি করতে আসেন, তাদের প্রসঙ্গে একটু ভেবে দেখুন। পার্লামেন্ট যদি ব্যবসায়ীরাই নিয়ন্ত্রণ করেন, তাহলে সেখানে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো জনগণের কল্যাণে না গিয়ে ব্যবসায়ীদের কল্যাণেই যাবে এটা সহজ কথা। 

প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর বিগত আট মাসে বিরাট একটি পরিবর্তনের চিহ্ন পাওয়া যাচ্ছে। স্বল্পতম সময়ের মধ্যে ড. ইউনূসের ইতিবাচক পরিবর্তনগুলোর মধ্যে রয়েছে চীন সফরের সফলতা, বিমসটিকের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়া, শেখ হাসিনার পতনের পর ভারত যেসব বৈরী আচরণ ও আধিপত্যবাদের সূচনা করেছে মোদিকে সে ব্যাপারে ঠান্ডা মাথায় বলা, গণহত্যাকারী হিসেবে শেখ হাসিনার বিচার করার নিমিত্তে তাকে দেশে প্রত্যর্পণের জন্য মোদিকে চাপ দেওয়া, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপের বিষয়ে তিন মাসের জন্য স্থগিতের আবেদন করা ইত্যাদি। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস একজন আন্তর্জাতিক মানের প্রতিভাবান ডাইনামিক লিডার। সুতরাং তিনি প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক সংস্কার কাজ সম্পন্ন ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নিশ্চয়ই বাংলাদেশকে একটি সুস্থ ও গতিশীল রাজনীতির ধারায় ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হবেন। এর ফলে বাংলাদেশের জনগণ একটি টেকসই গণতন্ত্রের সুফল ভোগ করবে। এটিই হচ্ছে আমাদের প্রত্যাশা। সম্ভবত জনগণের চাওয়াটা সেরকমই।

লেখক: শিক্ষাবিদ, গবেষক ও কলামিস্ট

drshahidulislam30@gmail.com