র্যাবের সদস্য পরিচয় দিয়ে নারীদের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলতেন শিহাব হোসেন সাগর (২১)। তারপর সেই নারীদের সাথে অবৈধ সম্পর্ক স্থাপন করে ব্ল্যাকমেইল করতেন নানাভাবে। সেই প্রতারক সাগরকে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১২ বগুড়া ক্যাম্পের সদস্যরা।
রবিবার (এপ্রিল) দুপুর দেড়টার দিকে র্যাব-১২ বগুড়া ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার এম আবুল হাশেম সবুজ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে শনিবার জেলার সদর উপজেলার নুনগোলা ইউনিয়নের দারিয়াল হাজরাদিঘী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার শিহাব হোসেন সাগর র্যাব সদস্য পরিচয়ে নারীদের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক স্থাপন, ব্ল্যাকমেইল ও পর্নোগ্রাফি মামলার প্রধান আসামি। সাগর দারিয়াল হাজরাদিঘী এলাকার আব্দুল হান্নানের ছেলে। গ্রেপ্তারকালে তার কাছথেকে ২টি স্মার্ট ফোন, ২টি বাটন ফোন, ৩টি সিম, ২টি মেমোরি কার্ড, ২টি বার্মিজ চাকু, ১টি কম্পিউটারের সিপিইউ, ১টি হার্ড ডিক্স, ১টি এসএসডি কার্ড, ১টি রাম দা, ৪টি কাঠের ও ষ্টিলের হাতল যুক্ত চাকু, ১টি চাপাতি, ১টি ছোড়া, ২টি ইয়ারগান উদ্ধার করা হয়।
র্যাব জানায়, আসামি সাগর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেকে র্যাব সদস্য পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন নারীদের সাথে অবৈধ সম্পর্ক স্থাপন করতো এবং তাদেরকে বিভিন্ন র্যাব সদস্যদের ছবি প্রেরণ করত। সম্পর্কের একপর্যায়ে আসামি ভিকটিমদের সাথে ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করতো। যার পরিপ্রেক্ষিতে আসামি ভিকটিমদের নিকট হতে তাদের স্পর্শকাতর বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করতো। আর এগুলোর মাধ্যমে আসামি ভিকটিমদের সাথে বিভিন্ন সময়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করতো এবং সেগুলোর ভিডিও ধারণ করে তাদেরকে ব্ল্যাকমেইল করত।
র্যাব-১২ বগুড়া ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার এম আবুল হাশেম সবুজ জানান, গ্রেপ্তার শিহাব হোসেন সাগর র্যাব সদস্য পরিচয়ে নারীদের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক স্থাপন, ব্ল্যাকমেইল ও পর্নোগ্রাফি মামলার প্রধান আসামি। সাগরকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রবিবার সকালে বগুড়া জেলার সদর থানায় হস্থান্তর করা হয়েছে।
সদর থানা পুলিশ জানায়, রবিবার দুপুরে গ্রেপ্তারকৃত আসামি সাগরকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।