প্রাণের উৎসব নববর্ষ

বাংলা বছরের প্রথম দিন, অর্থাৎ বৈশাখের ১ তারিখ, বাংলাদেশে নববর্ষ হিসেবে পালিত হয়। শুধু উৎসব নয়, এটি বাঙালির আত্মপরিচয়ের এক গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক অনুষঙ্গ। বাংলাদেশসহ পৃথিবীর অন্যান্য দেশের নববর্ষ পালন নিয়ে লিখেছেন অনিন্দ্য নাহার হাবীব

বাংলা নববর্ষ উৎসবের কেন্দ্রস্থল ঢাকা শহরের রমনা বটমূল, যেখানে ভোরে ছায়ানটের শিল্পীরা গান গেয়ে নববর্ষকে আহ্বান জানান। একই দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের উদ্যোগে আয়োজিত হয় মঙ্গল শোভাযাত্রা। বাঙালি

সংস্কৃতির চিত্রপট যেন রাস্তায় নেমে আসে। রঙিন মুখোশ, বিশালাকৃতি পশুপাখির প্রতিকৃতি, পুতুল ও ধ্বনির সঙ্গে এগিয়ে চলে হাজারো মানুষ। ২০১৬ সালে ইউনেস্কো এই শোভাযাত্রাকে ঘোষণা করে ‘মানবতার অমূল্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য’। যদিও এ বছর মঙ্গল শোভাযাত্রার নাম বদলে রাখা হয়েছে বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা।  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে, এবার পহেলা বৈশাখে বের হবে ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা’। এবারের শোভাযাত্রার প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘নববর্ষের ঐকতান, ফ্যাসিবাদের অবসান’।

আয়োজকদের ভাষ্যমতে, এই প্রতিপাদ্য ধারণ করে শোভাযাত্রায় তুলে ধরা হবে বাংলার চিরন্তন

সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। পাশাপাশি, গত বছরের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত অভ্যুত্থানের মাধ্যমে যেভাবে ‘ফ্যাসিবাদ’কে বিদায় জানানো হয়েছিল, সে বার্তাও ছড়িয়ে দেওয়া হবে এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে। আয়োজনসংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে এ দেশে আর কখনো যেন ফ্যাসিবাদের উত্থান না ঘটে। পহেলা বৈশাখ আজ শুধুই উৎসব নয় এটি বাঙালির প্রতিরোধ, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য আর উদার মানবিকতার প্রতীক।

ঢাকার রাজপথে মঙ্গল শোভাযাত্রা যেমন এক অনন্য চিত্ররূপ সৃষ্টি করে, ঠিক তেমনি পার্বত্য চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, রাঙামাটি, সিলেট ও দেশের নানা প্রান্তে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর পহেলা বৈশাখ উদযাপনও আমাদের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের নিদর্শন। চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, সাঁওতাল, গারো, হাজং, খাসিয়া এদের প্রত্যেকেরই রয়েছে নিজস্ব নববর্ষ পালনের ঐতিহ্য, যা মূলস্রোত বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে এক আশ্চর্য সুরে মিলে যায়।

চাকমা ও মারমা জনগোষ্ঠী ‘বিজু’ ও ‘সাংগ্রাই’ উৎসবের মধ্য দিয়ে নববর্ষ উদযাপন করে। এই উৎসব তিন দিনের, যার মধ্যে ফুল বিজু, মূল বিজু ও গোজ্যা পোজ্যা (জল খেলা) অন্যতম। বিজুর সময় তাদের ঘরবাড়ি পরিচ্ছন্ন করা, নদীতে ফুল ভাসানো ও পানিতে আনন্দময় খেলা এসব রীতিনীতির মাঝে ফুটে ওঠে প্রকৃতির সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ও সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য।

সাঁওতাল ও গারো জনগোষ্ঠীর মধ্যেও নববর্ষ ঘিরে থাকে নৃত্য, গান ও পিঠাপুলি ভাগাভাগির উৎসব। তাদের উজ্জ্বল পোশাক, তাল-লয়ে নাচ এবং পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময় আমাদের শেখায়, কীভাবে সংস্কৃতি হতে পারে সম্প্রীতির সেতুবন্ধন।

পহেলা বৈশাখের অন্যতম তাৎপর্য হলো এই দিনটি ধর্ম, জাতি, শ্রেণি, ভাষা সব বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে এক ছায়ায় দাঁড় করায়। হোক সে গ্রামবাংলার হাটবাজারে বৈশাখী মেলা, কিংবা নাগরিক ঢাকার চারুকলার রঙে মাখানো মুখোশ মিছিল, কিংবা পাহাড়ের পল্লীতে বিজুর ফুল সব কিছুর মধ্যে আছে মিলনের আহ্বান।

বৈশাখ আমাদের শিখিয়ে দেয়, ‘আমি বাঙালি’ বলা মানে শুধু একটি ভাষা বা ভূখণ্ডের পরিচয় নয়; এটি একটি বহু স্বরময় সংস্কৃতির অংশ হওয়া, যেখানে নানা সুরে গাওয়া হয় এক ঐক্যের গান।

নববর্ষের শোভাযাত্রা

সকালবেলা রমনা পার্কের আকাশে ভেসে ওঠে রঙিন মাছের বিশাল প্রতিকৃতি। ঢাকঢোলের শব্দে জমে ওঠে রাজপথ, চারপাশে মুখোশপরা মানুষ, কেউ বাঘের রূপে, কেউ রাখালের বেশে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ তখন এক মহা শিল্পায়নে রূপ নেয় যেন মানুষ আর রঙ মিশে গেছে এক অবিচ্ছিন্ন ঢেউয়ে।

এটিই মঙ্গল শোভাযাত্রা বাংলা নববর্ষের দিন ঢাকাবাসীর প্রাণের উৎসব। তবে কেবল আনন্দ কিংবা শোভা নয়, এই শোভাযাত্রা আসলে এক প্রতীকী ভাষা যা মুখোশ, মোটিফ ও জনচেতনার ভেতর দিয়ে প্রকাশ করে বাঙালির মনোভূমি।

১৯৮৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা শুরু করেন এই শোভাযাত্রা। সময়টা ছিল উত্তাল সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে মানুষ তখন রাস্তায়। সেই পটভূমিতে মঙ্গল শোভাযাত্রা ছিল এক ধরনের সাংস্কৃতিক প্রতিবাদ, যা নববর্ষের উৎসবের মাধ্যমে দেশীয় সংস্কৃতি ও গণচেতনার প্রকাশ ঘটাতে চেয়েছিল। তখন থেকেই প্রতি বছর ১ বৈশাখে চারুকলার প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয় এই শোভাযাত্রা। ক্রমে এটি পরিণত হয়েছে এক ঐতিহ্যে, যা আজ বাঙালির অসাম্প্রদায়িক, প্রাণবন্ত ও সৃজনশীল মননের প্রতীক। শোভাযাত্রার মুখোশ, কাঠের ঘোড়া, বিশাল মাছ, রঙিন পাখি কিংবা সিংহ-মূর্তি এসব দেখতে যতটা নান্দনিক, ততটাই গভীর এর প্রতীকী তাৎপর্য।

বাঘ : শক্তি ও সাহসের প্রতীক। অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের রূপ। মাছ : গ্রামীণ জীবনের ঐতিহ্য, উর্বরতা ও সমৃদ্ধির প্রতীক।

পাখি : স্বাধীনতা, কল্পনা ও রূপক সৌন্দর্যের বহিঃপ্রকাশ। এই মোটিফগুলো বেছে নেওয়া হয় বাঙালির চেতনার গভীর উৎস থেকে। এখানে মুখোশ মানেই কেবল রঙিন অলঙ্কার নয় এগুলো আমাদের গভীর সাংস্কৃতিক চিহ্ন ও প্রতিরোধের ভাষা। শোভাযাত্রার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর কমিউনিটি আর্ট চরিত্র। শিক্ষার্থী, শিল্পী, আশপাশের বাসিন্দা সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণে নির্মিত হয় মুখোশ ও শিল্পকর্ম। কাগজ, বাঁশ, কাপড়, রঙ সবকিছু ব্যবহার করে তৈরি হয় বিশালাকৃতির কাঠামো। এই প্রক্রিয়ায় শিল্প হয় জনগণের, শিল্প হয়ে ওঠে উৎসবের প্রাণ। এতে যেমন সৃজনশীলতার প্রকাশ ঘটে, তেমনি গড়ে ওঠে পারস্পরিক সহযোগিতা ও শিকড়ের সঙ্গে এক আত্মিক সংযোগ। ২০১৬ সালে ইউনেস্কো মঙ্গল শোভাযাত্রাকে ঘোষণা করে ‘ওহঃধহমরনষব ঈঁষঃঁৎধষ ঐবৎরঃধমব ড়ভ ঐঁসধহরঃু’ হিসেবে। এ ঘোষণার মাধ্যমে বাংলাদেশের এই লোক-শিল্পচর্চা আন্তর্জাতিক মহলে স্বীকৃতি পায়।

এই স্বীকৃতি শুধু এক উৎসবের নয়, বরং এক সাংস্কৃতিক চেতনার, যা সাম্য, সৌন্দর্য ও সম্প্রীতির বার্তা বহন করে।

রমনার বটমূলে ভোর

বাংলা নববর্ষ মানেই এক ভোরবেলা, যেখানে রমনার বটমূলে ছায়ানটের গানে নতুন বছরের সূর্যোদয় ঘটে। ঢাকার কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ঐতিহাসিক রমনা পার্কের বটগাছের নিচে ছায়ানট প্রতি বছর আয়োজন করে প্রভাতী সংগীতানুষ্ঠান যা নববর্ষ উদযাপনের এক অনন্য ও আবেগঘন প্রথা। ১৯৬৭ সালে শুরু হয় এই আয়োজন। পাকিস্তানি শাসনামলে বাঙালি সংস্কৃতিকে নিঃশব্দে দমন করার যে প্রয়াস চলছিল, তারই প্রতিবাদস্বরূপ ছায়ানট এই সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ শুরু করে। রবীন্দ্রসংগীত দিয়ে বর্ষবরণের এই আয়োজন ছিল একটি শান্তিপূর্ণ সাংস্কৃতিক বিপ্লব যেখানে গান হয়ে উঠেছিল অস্ত্র, হয়ে উঠেছিল পরিচয়ের ভাষা।

নতুন বছরের প্রথম প্রভাতে ছায়ানটের শিল্পীরা যখন গেয়ে ওঠেন : ‘এসো হে বৈশাখ, এসো এসো’ তখন হাজারো মানুষের ভিড়ে যেন আবহমান বাংলার আত্মা জেগে ওঠে। গানটি শুধু একটি সংগীত নয় এটি নববর্ষের ডাক, যা পরিশুদ্ধি, আশাবাদ আর নবজীবনের অঙ্গীকার বহন করে। এই গানের মাধ্যমে মানুষ পুরনো গ্লানি ঝেড়ে নতুন সূর্যের নিচে দাঁড়ায় নতুন স্বপ্ন নিয়ে। রমনার বটমূলে এই গান শোনা যেন এক শুদ্ধতর অনুভূতি, এক আধ্যাত্মিক মিলনমেলা। ছায়ানট শুধু গান গায় না, বরং বাঙালি জাতিসত্তার উন্নয়নে জন্য কাজ করে যাচ্ছে ছয় দশক ধরে। রমনার বটমূলে তাদের এই নববর্ষ আয়োজন সেই ভূমিকারই এক জ্যোতির্ময় প্রতিফলন। রমনার বটমূলে বসে নববর্ষের গান শোনার অভিজ্ঞতা আজ অনেকের কাছেই আত্মার পরিশুদ্ধি। এটি যেন এক জাতির চেতনার অভিষেক, যেখানে মাটি, মানুষ, গান আর ইতিহাস মিলে গড়ে তোলে নববর্ষের সত্যিকার ভাষা। বাংলার পহেলা বৈশাখের মতোই পৃথিবীর নানা প্রান্তে মানুষ নিজস্ব সংস্কৃতি আর বিশ্বাসে নববর্ষকে বরণ করে নেয়। কোথাও তা পান্তাভাতে মাটির গন্ধে, কোথাও বা লাল লণ্ঠনের আলোয়, আবার কোথাও শান্ত বসন্ত হাওয়ার পরশে। পার্সিয়ান ‘নওরোজ’-এ আসে নবজাগরণের আহ্বান, চীনের ‘লুনার নিউ ইয়ার’-এ ঝলসে ওঠে রঙিন আতশবাজি। সময়ের হিসাব আলাদা হলেও, প্রত্যেক উৎসবের মূলে থাকে একটাই আশ^াস নতুন শুরুর, নতুন সম্ভাবনার।

গ্রেগরিয়ান নববর্ষ : ৩১ ডিসেম্বর মধ্যরাতে টাইমস স্কয়ারে ‘ক্রিস্টাল বল’ নামিয়ে নববর্ষকে স্বাগত জানায় নিউইয়র্কবাসী। একইভাবে লন্ডনে বিগ বেনের ঘণ্টাধ্বনি আর টেমস নদীর আকাশে আতশবাজির ঝলক সব মিলিয়ে এক বৈশি^ক উদযাপন। বিশে^র প্রথম শহর হিসেবে নতুন বছরকে বরণ করে নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ড, আর ঠিক এরপরই সিডনির হ্যারবার ব্রিজে জমজমাট আতশবাজি দেখতে ভিড় জমায় লাখো মানুষ।

চীনা নববর্ষ : চীনের ‘লুনার নিউ ইয়ার’ বা বসন্ত উৎসব হলো চীনা বর্ষপঞ্জির প্রথম দিনে পালিত একটি ঐতিহ্যবাহী উৎসব। এটি চন্দ্রপঞ্জিকার ওপর নির্ভর করে, তাই প্রতি বছর তারিখ ভিন্ন হয় জানুয়ারির শেষ থেকে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে। এ উৎসবের ব্যপ্তি ১৫ দিন। লাল লণ্ঠন, আগুনের ফুলঝুরি, ড্রাগন নৃত্য, আর ঘরজুড়ে লাল কাগজে সোনালি হরফের শুভকামনা সব মিলিয়ে এটি হয়ে ওঠে এক বিশাল সাংস্কৃতিক উল্লাস। চীনের বাইরে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ফিলিপিন্সেও এই উৎসব ব্যাপকভাবে পালিত হয়।

পার্সিয়ান বসন্তের নতুন সূচনা : ‘নওরোজ’ শব্দের অর্থ ‘নতুন দিন’। প্রায় তিন হাজার বছর ধরে ইরান, আফগানিস্তান এবং মধ্য এশিয়ার বিভিন্ন দেশে পালিত হয় এই বসন্ত উৎসব। ১৩ দিনব্যাপী এই নববর্ষে ইরানিরা ঘর সাজায় ‘হাফট-সিন’ নামক সাতটি প্রতীকী জিনিস দিয়ে যার প্রতিটিই জীবনের শুভকামনার প্রতীক।

২০১০ সালে জাতিসংঘ নওরোজকে ‘আন্তর্জাতিক উৎসব দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

সংক্রান : থাইল্যান্ডে পানির উল্লাস

প্রতি বছর এপ্রিলের ১৩ তারিখ, থাইল্যান্ডের রাস্তায় দেখা যায় অদ্ভুত দৃশ্য সবাই একে অন্যকে পানি ঢেলে ভিজিয়ে দিচ্ছেন। এটিই ‘সংক্রান’ উৎসব থাই নববর্ষ। পানির মাধ্যমে তারা পরিশুদ্ধি, ভালো ফসল এবং শুভ কামনার প্রতীকী বার্তা দেয়। বুদ্ধের মূর্তি ধুয়ে দেওয়া, প্রার্থনা এবং পরিবারে একত্র হওয়া এই উৎসবের অনুষঙ্গ ।

রোশ হাশানাহ : ‘রোশ হাশানাহ’ মানে ‘বছরের শুরু’। হিব্রু ক্যালেন্ডারের তিশরেই মাসের প্রথম দুদিন, সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে ইহুদিরা পালন করে নববর্ষ। এই দিন তারা প্রার্থনা করে, মধু মিশ্রিত আপেল খায় নতুন বছর যেন হয় মিষ্টি ও সমৃদ্ধ।

তামিল নববর্ষ : শ্রীলঙ্কার তামিলরা এপ্রিলের ১৪ তারিখ পালন করে তাদের নববর্ষ, যেটি বাংলার নববর্ষের সঙ্গেই মিলে যায়। এটি সূর্যের মীন রাশি থেকে মেষ রাশিতে স্থানান্তরের সময়কাল। নতুন বছর মানেই নতুন ফসল, পরিবার আর ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা।