বার্সেলোনার বিপক্ষে ‘লিভারপুল’ হতে চায় ডর্টমুন্ড

ইউরোপিয়ান ফুটবলে কিছু মাঠ আছে, যেখানে প্রতিপক্ষ নামলেই গায়ের রোম খাড়া হয়ে যায়। অ্যানফিল্ড যেমন, তেমনই বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের ‘সিগনাল ইদুনা পার্ক’। ‘ইয়েলো ওয়াল’-এর গর্জনে হিমশিম খায় বড় বড় দলও। আজ সেই গর্জন আরও জোরালো হবে—কারণ সামনে বার্সেলোনা, চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের ফিরতি লেগ।

প্রথম লেগে বার্সেলোনার কাছে ২-০ গোলে হারের পর কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ডর্টমুন্ড। তবে আশা হারাচ্ছেন না কোচ নিকো কোভাচ। তার কণ্ঠে ভরসার সুর—'মিরাকল তো সব সময়ই হয়। আমরা লিভারপুলের সেই ম্যাচটা মনে করতে পারি—৩-০ গোলে হেরে ফিরতি লেগে ৪-০ গোলে জিতে ফাইনালে গিয়েছিল দলটা। আমি আজও সেই ম্যাচটা ভুলিনি।'

কোভাচের কথায় স্পষ্ট, আজ ডর্টমুন্ড ‘লিভারপুল’ হতে চায়। আর প্রতিপক্ষ যখন বার্সেলোনা, তখন অনুপ্রেরণার ঘাটতি হওয়ার কথা নয়। কারণ, কামব্যাকের ইতিহাস যেমন বার্সার আছে, তেমনি আছে ব্যর্থতা ভরপুর।

২০১৬-১৭ মৌসুমে পিএসজির বিপক্ষে ৪-০ ব্যবধানে হেরে ৬-১ জিতে ইতিহাস গড়েছিল বার্সা। কিন্তু এরপর থেকে একের পর এক দুঃস্বপ্ন—রোমা, লিভারপুল, সর্বশেষ ২০২৩-২৪ মৌসুমে আবারও পিএসজির কাছে ধাক্কা খেয়ে বিদায়।

তবে কোভাচ জানেন, অতীত দিয়ে বর্তমানকে বিচার করা চলে না। বললেন, 'কিন্তু ওটা ছিল তখন, আর এখন ২০২৪-২৫। আমরা জানি, প্রথম লেগে আমরা ভালো খেলিনি। এখন আমাদের ঘুরে দাঁড়াতে হবে।'

সেই কাজটা কঠিন—কারণ বার্সেলোনা ২০২৫ সালে এখনো কোনো ম্যাচ হারেনি। বড়দিনের আগের দিন সর্বশেষ হারার পর হানসি ফ্লিকের দল ২৪ ম্যাচে অপরাজিত—জিতেছে ২০টি, ড্র করেছে ৪টি। এমন দলের বিপক্ষে ৫-০ গোল নয়, যেকোনো ব্যবধানে জয়ই এখন লক্ষ্য ডর্টমুন্ডের।

কোভাচ জানালেন, 'আমরা কালকে ভিন্ন একটা দল হতে চাই, আমরা জিততে চাই। কত গোলে জিতব, সেটা এখন বলা কঠিন।'

সেই বিশ্বাসটা ফুটে উঠেছে ডর্টমুন্ডের মিডফিল্ডার ফেলিক্স ন্মেচার কণ্ঠেও। বললেন, 'আমাদের সমর্থকরা যদি পাশে থাকে, সবকিছু সম্ভব। আমাদের বিশ্বাস রাখতে হবে, আর আমরা বিশ্বাস রাখি।'

কোভাচ জানুয়ারিতে দায়িত্ব নিয়েছেন ডর্টমুন্ডের তৃতীয় কোচ হিসেবে। অল্প সময়ে দলকে চাঙা করার চেষ্টায় আছেন তিনি। প্রশংসা করেছেন বার্সার আক্রমণভাগের, বিশেষ করে লামিন ইয়ামাল, রাফিনিয়া আর লেভান্ডভস্কির। এই লেভান্ডভস্কিই একসময় ছিলেন ডর্টমুন্ডের মূল ভরসা। জিতেছিলেন বুন্দেসলিগা, খেলেছিলেন ২০১৩ সালের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনাল। এরপর বায়ার্নে কাটিয়েছেন আটটি সফল বছর—যেখানে কোভাচ ছিলেন তার কোচ।

কোভাচের কণ্ঠে লেভান্ডভস্কির প্রতি প্রশংসা ঝরেছে, 'সে একজন অসাধারণ পেশাদার। অনেক ভালো খেলোয়াড় দেখেছি, কিন্তু সে একজন প্রকৃত অ্যাথলেট। ফিট থাকতে যা যা করা দরকার, সব করে।'

আজ তাই ইতিহাসের সামনে দাঁড়িয়ে ডর্টমুন্ড। প্রতিপক্ষ বার্সেলোনা, মঞ্চ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ। কোভাচ চান, ৫ বছর আগের সেই অ্যানফিল্ড যেন জীবন্ত হয় সিগনাল ইদুনা পার্কে—আর অলৌকিক গল্প লিখে দেয় ডর্টমুন্ড।