টেকনাফে অপহৃতের পরিবারে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি

কক্সবাজারের টেকনাফের বাহারছড়ার পাহাড় থেকে ছন আনতে গিয়ে অপহরণের শিকার হয়েছেন মোহাম্মদ দেলোয়ার নামে এক ব্যক্তি। ভুক্তভোগীর স্বজনদের দাবি, মুক্তিপণ হিসেবে ১০ লাখ টাকা দাবি করছে অপহরণকারীরা।

এর আগে সোমবার সকাল ৭টায় এই অপহরণের ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছেন বাহারছড়ার ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ফরিদ উল্লাহ।

ইউপি সদস্য ফরিদ উল্লাহ জানান, সোমবার সকালে একই এলাকার তিনজন বাসিন্দা মোহাম্মদ দেলোয়ার (২৫), আব্দু সালাম (৫০) ও হাসান আহমদ (৪৫) মিলে পাহাড়ে ছন আনতে যায়। ওই সময় সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী তাদেরকে ধাওয়া করে দেলোয়ার নামে একজনকে ধরে নিয়ে যায়। অপর দুজন আব্দু সালাম (৫০) ও হাসান আহমদ (৪৫) কোনো রকম পালিয়ে এসেছেন।

পরে দুপুরের পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কয়েকবার অপহৃত দেলোয়ারের স্ত্রী নুর নাহার বেগমের মুঠোফোনে ফোন করে ১০ লাখ টাকার মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে। মুক্তি টাকা জোগাড় করতে না পারলে স্বামীর লাশ গ্রহণের জন্য প্রস্তুত থাকতে হুমকি দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, পাহাড়ে থাকা সন্ত্রাসীরা এভাবে লোকজন ধরে নিয়ে প্রতিনিয়ত মুক্তিপণ আদায় করছে। মূলত মুক্তিপণ আদায় করার জন্য তাকে অপহরণ করা হয়েছে।

ফেরত আসা দুজন জানান, সন্ত্রাসীদের হাতে ভারি অস্ত্রশস্ত্র রয়েছে। তারা দেলোয়ারকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে গহীন পাহাড়ের দিকে নিয়ে গেছে।

অপহৃত দেলোয়ারের স্ত্রী নুর নাহার বেগম বলেন, দুপুরের পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আমার মোবাইলে কয়েকবার ফোন করে মুক্তিপণ হিসেবে ১০ লাখ টাকা দাবি করা হচ্ছে। কিন্তু তাদের দাবি করা এ টাকা দেওয়া আমার পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব নয়। অপহরণকারীরা মুক্তিপণ আদায় করার জন্য মারধর ও নানা ধরনের নির্যাতন করে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে  আমাদেরকে শোনাচ্ছেন।

বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক শুভ রঞ্জন সাহা বলেন, একজন অপহরণের বিষয়টি শুনেছি। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের অভিযোগ দেওয়া হয়নি। এ ব্যাপারে পুলিশ কাজ শুরু করেছেন।

কক্সবাজার জেলা পুলিশ ও ভুক্তভোগী ব্যক্তিদের তথ্য বলছে, এ নিয়ে গত ১৫ মাসে টেকনাফের বিভিন্ন এলাকা থেকে ২৪৫ জনকে অপহরণের ঘটনা ঘটেছে।