দিনাজপুর জেলার ১৩টি উপজেলার ১ হাজার ৬৩৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিতরণের প্রায় ৮ মাস পর ফেরত নেওয়া হলো প্রজেক্টর ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জামাদি। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস বলছেÑ প্রজেক্টর ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জামাদি বুয়েটে টেস্ট না করেই ভুলবশত বিতরণ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে ও আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তিতে শিক্ষাদানের লক্ষ্যে গত বছরের আগস্ট মাসে দিনাজপুর জেলার ১ হাজার ৬৩৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিতরণ করা হয় প্রজেক্টর, স্ক্রিন, ক্যাবলসহ অন্য সরঞ্জামাদি।
কিন্তু প্রায় ৮ মাস পর হঠাৎ ফেরত নেওয়া হয় প্রজেক্টরসহ এসব সরঞ্জামাদি। এতে হতাশ শিক্ষকরা। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন প্রধান শিক্ষক জানান, মালামাল গ্রহণের সময় কাগজপত্রে স্বাক্ষর নেওয়া হলেও ফেরত নেওয়ার সময় দেওয়া হয়নি কোনো ডকুমেন্ট। প্রজেক্টরসহ অন্যান্য সরঞ্জামাদিগুলো সংশ্লিষ্ট স্কুলগুলোতে সেট করে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছিল। তাই প্রজেক্টরসহ অন্য সরঞ্জামাদিগুলো পুনরায় সেই সব বিদ্যালয়ে ফেরতের প্রদানের দাবি জানান শিক্ষকরা।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিতরণকৃত উপকরণ ফেরত দিতে আসা শিক্ষকদের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক জানান, উপজেলা শিক্ষা অফিসারের মৌখিক নির্দেশে ৪ ধরনের উপকরণ ফেরত প্রদান করছেন। তবে উপকরণ ফেরত প্রাপ্তির কোনো লিখিত কেউ পাননি বলে নিশ্চিত করেন। তাই প্রশ্ন উঠেছে উপকরণগুলো কেন এবং কীসের ভিত্তিতে বিতরণ করা হয়েছিল আবার কেন ফেরত গ্রহণ হচ্ছে? এ প্রকল্পের বড়ধরনের কোনোরকমের দুর্নীতি ধামাচাপা দিতে বিতরণকৃত উপকরণ তড়িঘড়ি করে ফেরত নেওয়া হচ্ছে কি না সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের উচ্চপর্যায়ের তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
তবে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের একটি দায়িত্বশীল সূত্র দেশ রূপান্তরকে জানান, ২০২৪ সালে দুটি কোম্পানি থেকে প্রায় ৪ হাজার পিস প্রজেক্টর ও অন্য সরঞ্জামাদি আসে দিনাজপুরে। কিন্তু দিনাজপুর প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তারা প্রজেক্টর ও অন্য সরঞ্জামাদি বুয়েট টেস্ট না করেই সেগুলো থেকে ১৩টি উপজেলার ১ হাজার ৬৩৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিতরণ করে। পাশাপাশি প্রজেক্টর ও অন্য সরঞ্জামাদিগুলো কোন কোন প্রতিষ্ঠানে বিতরণ করা হবে তারও কোনো নির্দেশনা আসেনি। কোনো ধরনের নির্দেশনা ছাড়াই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তারা প্রজেক্টরসহ অন্য সরঞ্জামাদিগুলো ১ হাজার ৬৩৭টি বিদ্যালয়ে বিতরণ করে দেন।
বোচাগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, ‘প্রজেক্টর ও প্রজেক্টরের সঙ্গে ব্যবহৃত সামগ্রীগুলো অন্য জেলার ছিল। ভুল করে বোচাগঞ্জ উপজেলায় পাঠিয়ে দিয়েছিল এবং আমরা তা বিতরণও করেছিলাম। বিতরণকৃত সব স্কুল থেকে প্রজেক্টর ও প্রজেক্টরের সঙ্গে ব্যবহৃত সামগ্রী তুলে নিয়ে দিনাজপুর জেলা শিক্ষা অফিসারের নির্দেশে ফেরত দেওয়া হয়েছে।
দিনাজপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এএম শাহজাহান সিদ্দিক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘তিনি এই জেলায় যোগদান করার আগে গত বছরের আগস্ট মাসে দিনাজপুর জেলায় ১ হাজার ৬৫৫টি প্রজেক্টর ও অন্য সরঞ্জামাদি আসে। এর মধ্যে ১৭টি পাঠানো হয় প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষার জন্য। বাকি ১ হাজার ৬৩৭টি প্রজেক্টর বিতরণ করা হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী এসব মালামাল বিতরণের আগে টেকনিক্যাল কমিটির যাচাই-বাছাই করার কথা। কিন্তু এসব মালামাল আসার পর তা করা হয়নি। কোন কোন প্রতিষ্ঠানে বিতরণ করা হবে-এমন নির্দেশনা না এলেও তা বিতরণ করা হয়েছে।’ ভুলবশত বিতরণ করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এসব মালামাল বিদ্যালয় থেকে ফেরত নেওয়া হয়েছে। পরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’