কিডনিতে পাথর আমাদের দেশে প্রায়ই দেখা যায়। বিশেষ করে আধুনিক জীবন পদ্ধতি ও খাদ্যাভ্যাসের কারণে কিডনি পাথর রোগ বৃদ্ধি পেয়েছে।
কারণ : পাথর হওয়ার বড় একটা কারণ শরীরে পানিস্বল্পতা। প্রস্রাবে বারবার সংক্রমণ পাথর হওয়ার কারণ মূত্র প্রবাহে বাধা। অতিরিক্ত গরুর মাংস খাওয়া। কিছু মেটাবলিক রোগ যেমন- হাইপার প্যারাথাইরয়েড রেনাল টিউবুলার এসিডোসিস, নেফ্রোক্যালসিনোসিস এবং কিছু জন্মগত ত্রুটিজনিত কারণেও কিডনিতে পাথর হয়। প্রয়োজন ছাড়া বা অতিরিক্ত ভিটামিন সেবন বিশেষ করে ভিটামিন সি ডি, যা অক্সালেট ও ক্যালসিয়ামের ঘনত্ব বৃদ্ধি করে।
লক্ষণ : অনেক ক্ষেত্রেই কিডনিতে পাথরের কোনো লক্ষণ নাও থাকতে পারে। মেরুদ- বা অন্যান্য ব্যথার চেকআপের সময় ধরা পড়ে। কিডনির পাথরের জন্য ব্যথা হলে পেটের ওপরের দিকে অথবা নিচের পিঠের দুপাশে ডানে বা বাঁয়ে মাঝে মৃদু ব্যথা হতে পারে। রক্তবর্ণের লাল প্রস্রাব, ব্যথা, জ¦ালাপোড়া থাকতে পারে। ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া বা অল্প একটু প্রস্রাব হয়েই আর না হওয়া। মাঝে মাঝে প্রস্রাবের সঙ্গে ছোট ছোট পাথর যেতে পারে। কখনো কখনো কাঁপুনি দিয়ে জ¦র হয়। ব্যথার সঙ্গে সঙ্গে বমি বমি ভাব বা বমি হতে পারে। পাথর যদি কিডনি নালি বা ইউরেটারে নেমে আসে তাহলে ওপরের পেট বা পিঠের পাশ থেকে কুঁচকির দিকে বা পেটের নিচের দিকের দুই পাশে বা কোমরে তীব্র বা প্রচ- ব্যথা হয় এবং সঙ্গে বমি বমি ভাব ইত্যাদি থাকে। মূত্রনালি বা ইউরেটারে আটকে গেলে তীব্র ব্যথার সঙ্গে কাঁপুনি দিয়ে জ¦র হতে পারে।
কিডনি পাথরের পরীক্ষা : আলট্রাসনোগ্রাম ও এক্স-রে করে পাথরের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া।
নির্দিষ্ট চিকিৎসা : অনেক রোগীই ওষুধ চান, যা খেলে পাথর গলে বের হয়ে যাবে। সত্যিকার অর্থে এমন কোনো কার্যকর ওষুধ নেই। পাথর ছোট হলে নিজেই বের হয়ে যায়, পাথর বড় হলে অপারেশন করে বের করতে হয়। পাথর কিডনির ভেতর
থাকলে কিডনির ক্ষতি হয়। পাথর অপসারণ করে পুনরায় যেন না হতে পারে সে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
চিকিৎসা : পাথর ১ সেমি. থেকে ছোট হলে ওষুধের মাধ্যমে বেরিয়ে যায়, কোনো রকম অপারেশন লাগে না। বড় পাথরগুলোর জন্য অপারেশনের প্রয়োজন হয়। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের উন্নতির ফলে এখন পেট না কেটে নানাভাবে চিকিৎসা করা যায়। যেমন
শক-ওয়েভ দিয়ে গুঁড়া করে বের করা। পিঠে ছোট ছিদ্র করার মাধ্যমে বের করা। শক-ওয়েভ বা ছিদ্র ছাড়াও প্রস্রাবের রাস্তা দিয়ে জওজঝ-খঅঝঊজ, টজঝ-ওঈচখ, খওঞঐঙখঅচঊঢণ ইত্যাদি পদ্ধতিতে কিডনি, মূত্রনালি ও মূত্রথলির পাথর বের করা যায়।