গাজীপুরের শ্রীপুরে দুই মাসের বকেয়া বেতন আদায়ের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে এক কারখানার বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। সকাল থেকেই বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেই পাওনা বকেয়ার জন্য মহাসড়কে নেমে আসেন ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। শত শত নারী পুরুষ শ্রমিক এ সময় সহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বসে পড়েন। পরে তারা নানা সেøাগান দিতে থাকেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ঢাকা- ময়মনসিংহ মহাসড়কের জৈনাবাজার এলাকায় গাজীপুর ইউনিয়নের এইচডিএফ অ্যাপারেলস পোশাক কারখানার শ্রমিকরা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকেন। এ সময় ওই মহাসড়কের চার লেনেই তীব্র যানজট বাড়তে থাকে। এক সময় বৃষ্টি শুরু হলেও শ্রমিকরা মহাসড়কে ভিজেই তাদের বকেয়া বেতন আদায়ের দাবিতে অনড় থেকে বিক্ষোভ করতে থাকে। ঝড়ো আবহাওয়া বৃষ্টি উপেক্ষা করেই প্রায় চার শতাধিক নারী পুরুষ শ্রমিক বিক্ষোভে অংশ নিয়ে মহাসড়কে অবস্থান নেয়। বিভিন্ন যানবাহনে আটকাপড়া যাত্রীরা পড়েন চরম দুর্ভোগে। বৃষ্টিতে ভিজে ২ মাসের বকেয়া বেতনের দাবিতে ঢাকা- ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। খবর পেয়ে শিল্পপুলিশ, থানা পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে আসেন। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের বুঝানোর চেষ্টা করেন।
শ্রমিকদের দাবি কারখানা কর্তৃপক্ষ নানা টালবাহানা করে তাদের পাওনা টাকা আটকে রেখেছে। গেল ঈদে বেতন না পাওয়ায় তাদের চরম কষ্টে দিন কেটেছে। সামান্য বেতনে তাদের নানাভাবে জীবন চালাতে হয়। আর সে টাকা না পেলে জীবন অতীষ্ঠ হয়ে পড়ে নানা সমস্যায়। তাদের অভিযোগ কারখানা কর্তৃপক্ষ তাদের সব কার্যক্রম ঠিকঠাক চালালেও শ্রমিকদের বেতন দিতে গড়িমসি করেন। শ্রমিকদের কষ্ট উপলব্দি করেন না। তাই নিরুপায় হয়ে ঝড়ো পরিবেশেই রাস্তায় নামতে হয়েছে।
কারখানা কর্তৃপক্ষ বলছেন পাওনা টাকা পরিশোধের কথা চলছিল। কিন্তু শ্রমিকরা অধৈর্য হয়ে মহাসড়কে নেমে পড়েন। নানা কারণে দুই মাসের বকেয়া পড়ে গেছে শ্রমিকদের বেতন ভাতাগুলো।
এইচডিএফ অ্যাপারেলস কারখানার মানবসম্পদ কর্মকর্তা (এইচ আর অ্যাডমিন) শিপু চৌধুরী বলেন, বেতন ভাতা পরিশোধ করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছিল। এরই মধ্যে শ্রমিকরা মহাসড়কে চলে যায়। দ্রুত সময়ে তাদের পাওনা বকেয়া পরিশোধের চেষ্টা চলছে।
শ্রীপুর মডেল থানার ওসি জয়নাল আবেদীন ম-ল বলেন, সকাল থেকেই ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা তাদের পাওনা বেতন আদায়ের দাবিতে মহাসড়কে অবস্থায় নেয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে শিল্পপুলিশ,থানা পুলিশ, হাইওয়ে থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা আসেন। তাদের সঙ্গে কথা বলেন।