কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নে দুই পক্ষের সংঘর্ষে মিজান মিয়া (৩৫) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। তিনি শ্রীনগর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব ছিলেন। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন এবং ভাঙচুর করা হয়েছে একাধিক দোকানপাট।
আজ শুক্রবার সকালে সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবেলায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার ফুয়াদ রূহানী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভৈরব উপজেলার সাদেকপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা তোফাজ্জল হক এবং বর্তমান চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা সরকার সাফায়েত উল্লাহর সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছিল। এর জেরে গত মঙ্গলবার দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে, যাতে অর্ধশতাধিক লোক আহত হন।
সেই সংঘর্ষের রেশ ধরে আজ সকালে মৌটুপী গ্রামের এক শালিস দরবারে বসেন এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। শালিস চলাকালীন তর্কাতর্কির একপর্যায়ে ফের সংঘর্ষ বাঁধে। এ সময় সোলায়মানপুর গ্রামের বাসিন্দা মিজান মিয়া বল্লমবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। পরে তাকে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সংঘর্ষে মৌটুপী এলাকার পাশাপাশি শ্রীনগর ইউনিয়নের ভবানিপুর ও সোলায়মানপুর গ্রামের লোকজনও অংশ নেয়। বর্তমানে এলাকাজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে।