বিএসএফের গুলিতে নিহত হাসিনুরের মরদেহ হস্তান্তর

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত বাংলাদেশি যুবক হাসিনুর রহমান (২৫) মরদেহ অবশেষে ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পাটগ্রাম উপজেলার খারিজা জোংড়া সীমান্তে বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে এই মরদেহ হস্তান্তর হয়। এ সময় সীমান্তে এক হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

বিএসএফের গুলিতে নিহত হাসিনুর হাতীবান্ধা উপজেলার সিঙ্গিমারী ইউনিয়নের পশ্চিম ডাওয়াবাড়ী গ্রামের জাহিদুল ইসলামের ছেলে। বুধবার দুপুরে তিনি কয়েকজনের সঙ্গে সীমান্তের ৮৯৪ নম্বর পিলারের কাছে ঘাস কাটতে গেলে বিএসএফ সদস্যরা বাংলাদেশ সীমান্তে প্রবেশ করে তাদের ধাওয়া করে এবং গুলি ছোড়ে। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসিনুরকে তারা ভারতের ভেতরে নিয়ে যায় এবং পরে কোচবিহার জেলার এমজেএন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। প্রথম দফা পতাকা বৈঠকে বৃহস্পতিবার বিকেলের মধ্যে হাসিনুরের মরদেহ ফেরতের আশ্বাস দিলেও, তা বাস্তবায়ন করেনি বিএসএফ। পরে সন্ধ্যায় বিজিবির কূটনৈতিক চাপ এবং পুনরায় যোগাযোগের ফলে রাত ১১টার দিকে ৬১ বিজিবি তিস্তা ব্যাটালিয়ন সীমান্ত পিলার ৮৮১/১৩ এস সংলগ্ন খারিজাজোংড়া নামক স্থানে দ্বিতীয় দফা বৈঠকে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। পতাকা বৈঠকে ভারতের ১৫৭ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের মহেশমারী ক্যাম্পের কমান্ডার রাজ কুমার, শীতলকুচি থানার ওসি এবং বাংলাদেশের ৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সুবেদার রেজাউল ইসলামসহ উভয়পক্ষের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। হাসিনুরের মরদেহ পৌঁছানোর পর তার গ্রামের বাড়িতে শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। রাত ১টার দিকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়।

পাটগ্রাম থানার ওসি আশরাফুজ্জামান সরকার বলেন, ‘ভারতীয় পুলিশ ও বিএসএফ মরদেহ বাংলাদেশের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতের পরিবারকে মরদেহ বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

হাতীবান্ধা থানার ওসি মাহমুদুন নবী জানান, ‘বিএসএফের গুলিতে নিহত হওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’