চার মাস আগে হঠাৎ করেই বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি) থেকে চাকরিচ্যুত হন ১৬০ জন অস্থায়ী পরিচ্ছন্নতাকর্মী। এরপর থেকেই বেকার জীবন কাটাচ্ছেন এই শ্রমিকরা। শুধু চাকরিচ্যুতিই নয়, তাদের মধ্যে অনেকেই গত দুই মাস ধরে বকেয়া বেতন পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ তুলেছেন। এমন প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার দুপুরে পুনর্বহাল ও বকেয়া পরিশোধসহ দুই দফা দাবিতে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন বরখাস্তকৃত শ্রমিকদের একাংশ।
নগর ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে একপর্যায়ে তারা প্রধান সড়কে বসে পড়েন, ফলে দুপুর ১টা থেকে ২টা পর্যন্ত ওই এলাকায় যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে পড়ে। সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট, ভোগান্তিতে পড়েন পথচারী ও যাত্রীরা।
বরিশাল সিটি করপোরেশন শ্রমিক ইউনিয়নের ব্যানারে এবং হরিজন সম্প্রদায়ের সদস্যদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ বিক্ষোভে শতাধিক শ্রমিক অংশ নেন। তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে নগরবাসীর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব পালন করে আসলেও হঠাৎ করে চাকরি হারিয়ে তারা আজ মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
বিক্ষোভরত শ্রমিক নেতা হোসেন ঢালী বলেন, ‘শ্রমিকদের মধ্যে যারা কর্মক্ষম, যারা প্রতিদিন দায়িত্ব পালন করছিলেন, তাদেরও বিনা নোটিশে ছাঁটাই করা হয়েছে। তার ওপর গত দুই মাসের বেতনও দেয়া হয়নি। এটি চরম অমানবিক ও দায়িত্বহীন সিদ্ধান্ত।’
চাকরি হারানো পরিচ্ছন্নতাকর্মী সেলিম হাওলাদার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা বারবার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি, কিন্তু কোনো সমাধান আসেনি। ঘরে চাল নেই, সন্তানদের স্কুল ফি বাকি—এই অবস্থায় আমরা কীভাবে বাঁচব?’
বিক্ষোভকারীদের দাবি, অবিলম্বে ছাঁটাই হওয়া সব শ্রমিককে পুনর্বহাল করতে হবে এবং বকেয়া বেতন পরিশোধ করতে হবে।
এ বিষয়ে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী বলেন, ‘চাকরি হারানো শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনায় সিদ্ধান্ত হয়েছিল যে, তাদের মধ্য থেকে ৩০ ভাগ শ্রমিকের তালিকা দিয়ে পুনর্বহালের জন্য আবেদন করা হবে। সে অনুযায়ী ৪৮ জনের নাম দেয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো তালিকা দেয়নি তারা। যদি তারা আগামী দুই দিনের মধ্যে তালিকাটি দেয়, তবে নির্ধারিত সংখ্যক শ্রমিককে পুনর্বহাল করা হবে এবং বাকি শ্রমিকদের বকেয়া অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থাও নেয়া হবে।’
শ্রমিকদের বিক্ষোভের কারণে যে অসন্তোষ এবং অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে, তা যেন আর দীর্ঘায়িত না হয়, সে জন্য উভয়পক্ষের মধ্যে দ্রুত সমঝোতা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন সচেতন নাগরিকরা।