প্রকৌশলের মতো গুরুত্বপূর্ণ এবং কঠিন পেশায় থেকেও পাহাড়-পর্বত জয়ের বড্ড নেশা প্রকৌশলী কাওছার রূপকের। সুযোগ পেলেই ছুটে যান নানা উচু পর্বতের চুড়ায়। ইতোমধ্যে বিশ্বের অন্যতম কঠিন ও কৌশলগত শৃঙ্গ মাউন্ট আমা দাবলামসহ (৬৮১৪ মিটার) সহ তিনটি ৬ হাজার মিটার উঁচু হিমালয় শৃঙ্গে সফল আরোহন করেছেন তিনি।
পর্বতারোহী প্রকৌশলী কাওছার রূপক এবার বাংলা মাউন্টেনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাবের তত্ত্বাবধানে হিমালয়ের দুটি পর্বত চুলু ওয়েস্ট (৬৪১৯ মিটার) ও থরং (৬১৪৪ মিটার) জয় করার প্রস্তুতি নিয়েছেন। নেপালের অন্নপর্না হিমালয় অঞ্চলে অবস্থিত এই দুটি পর্বত জয়ের নেশায় বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল) এক মাসের অভিযানে যাচ্ছেন।
এ উপলক্ষে মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (আইইবি) এর শহীদ প্রকৌশলী ভবনে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। যেখানে আইইবির পক্ষ থেকে তার হাতে তুলে দেওয়া হয় জাতীয় পতাকা এবং আইইবির পতাকা। কাওছার রূপকের সঙ্গী হিসেবে নারী পর্বতারোহী নুর নাহার মিম্মি’র হাতেও পতাকা দুটি তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইইবি'র প্রেসিডেন্ট ও রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রিয়াজুল ইসলাম রিজু বলেন, ‘আমাদের এই দুই ভাইবোন যেন চূড়া বিজয় করে, সফল হয়ে ফিরে আসেন দোয়া করি। দেশের মুখ উজ্জ্বল করবেন। পৃথিবীর সর্বোচ্চ চূড়া বিজয় করবে, এই দোয়া করি।’
আইইবি ঢাকা কেন্দ্রের সম্পাদক প্রকৌশলী কে এম আসাদুজ্জামান চুন্নু অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন। তিনি বলেন, ‘এর আগেও বিভিন্ন পর্বতে সফল আরোহনের মাধ্যমে সারা বিশ্বের প্রকৌশলীদের ভাবমূর্তি উজ্জল করেছেন প্রকৌশলী রূপক। আশা করছি সেই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।’
বাংলাদেশে প্রকৌশলীদের এমন অভিযানে যাওয়ার নজীর শোনা যায়নি। সেই কাজটিই করেছেন পর্বতারোহী প্রকৌশলী কাওছার রূপক। এতকিছুর পর লেখালেখিও করেন তিনি। পর্বত বিষয়ক বেশ কয়েকটি বই রয়েছে এই লেখকের। অনুষ্টানে রূপকের অতীতের পর্বত জয়ের কঠিন সেই দৃশ্যের একটি প্রামান্যচিত্র দেখানো হয়।
এবারের অভিযানেও তিনি যেন সফল হন সেই দোয়া চেয়ে প্রকৌশলী রূপক বলেন, ‘একজন প্রকৌশলী হিসেবে আইইবি এবং বাংলা মাউন্টেনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাবের তত্ত্বাবধানে এবং ইউনিটি ল্যাব সলুশন বিডি লিমিটেডের পৃষ্ঠপোষকতায় বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল) নেপালের অন্নপূর্ণা হিমালয় অঞ্চলে অবস্থিত এক সঙ্গে দুটি পর্বত জয়ের পরিকল্পনা করেছি। সবচেয়ে বড় পরিকল্পনাকারী মহান আল্লাহ। তিনি সহায় হলে এবারও সফল অভিযান দেশে দেশে ফিরবো।’
বাংলা মাউন্টেনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাবের সভাপতি দুইবার এভারেস্ট আরোহণকারী এম এ মহিত বলেন, ‘২০১৫ সালে রূপকের সঙ্গে যখন পরিচয় হয় তখন পর্যন্ত তার খেলাধুলা, দৌড়াদৌড়ি কিংবা শারিরিক কোন কসরতের অভিজ্ঞতা ছিলো না। প্রবল ইচ্ছে শক্তির কারণে সেই রূপক একের পর এক পর্বত জয় করছেন। এটা খুবই আনন্দের ও উৎসাহের।’
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন আইইবি’র সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মো. সাব্বির মোস্তফা খান, বাংলা মাউন্টেনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং অ্যান্টার্কটিকা ও সুমেরু অভিযাত্রী ইনাম আল হক, অভিযানের স্পনসর ইউনিটি ল্যাব সলুশন বিডি লিমিটেডের পরিচালক প্রকৌশলী মোল্লা আকিদুল ইসলাম সৈকত প্রমুখ।
উপস্থিত ছিলেন, আইইবি’র ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রকৌশলী খান মনজুর মোরশেদ, প্রকৌশলী শেখ আল আমিন, প্রকৌশলী নিয়াজ উদ্দিন ভূঁইয়া, প্রকৌশলী এটিএম তানবীর-উল হাসান (তমাল) প্রমুখ।