ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু আলোচনা তৃতীয় দফা বৈঠক ২৬ এপ্রিল

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান পরমাণু আলোচনা নতুন গতি পেয়েছে। রোমে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দফার পরোক্ষ আলোচনায় অগ্রগতির কথা জানিয়েছে উভয় পক্ষ। আলোচনার পরিবেশকে ‘গঠনমূলক’ হিসেবে বর্ণনা করেছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

ইতোমধ্যে ঘোষণা এসেছে, আগামী শনিবার ওমানের রাজধানী মাস্কটে অনুষ্ঠিত হবে আলোচনার তৃতীয় পর্ব। বিষয়টি মঙ্গলবার নিশ্চিত করেছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র। 

রোমে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ আলোচনায় ইরানের পক্ষে নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। অপরদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নেন দেশটির মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ। উভয়পক্ষ সরাসরি মুখোমুখি না হয়ে, বার্তা আদান-প্রদান করেছেন ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মাধ্যমে। 

আলোচনায় কিছু মূলনীতি ও লক্ষ্য নিয়ে বোঝাপড়ায় পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন আরাগচি। তিনি বলেন, ‘আমরা আশাবাদী নই, হতাশও নই—বাস্তবতার আলোকে অগ্রসর হচ্ছি।’

যদিও যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি, তবে দেশটির একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আলোচনায় সন্তোষজনক অগ্রগতি হয়েছে এবং তৃতীয় দফা বৈঠক নিশ্চিত।

এছাড়া, আলোচনার ধারাবাহিকতা রক্ষায় আগামী সপ্তাহে কারিগরি বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পরিকল্পনাও রয়েছে। 

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার মূল দ্বন্দ্ব ইরানের শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচিকে ঘিরে। তেহরান বারবার দাবি করে আসছে, তাদের কর্মসূচি পুরোপুরি শান্তিপূর্ণ হলেও পশ্চিমা বিশ্বে এ নিয়ে গভীর সন্দেহ রয়ে গেছে। 

২০১৫ সালে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ঐতিহাসিক পরমাণু চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ওই চুক্তিতে ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম সীমিত করতে সম্মত হয়েছিল, বিনিময়ে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিলের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।

তবে ২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় এসে একতরফাভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে ওই চুক্তি থেকে প্রত্যাহার করে নেন। পরবর্তীতে আবারও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের নীতিতে ফিরে যান তিনি।

গত মার্চে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির উদ্দেশে লেখা এক চিঠিতে নতুন করে আলোচনায় ফিরতে আহ্বান জানান ট্রাম্প। একইসঙ্গে, কূটনৈতিক উদ্যোগ ব্যর্থ হলে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।

চলমান আলোচনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। আগামীর বৈঠকগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।