বিশ্বব্যাংক

বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৩.৩ শতাংশ

বিশ্বব্যাংক আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়ে ৩ দশমিক ৩ শতাংশে নেমে আসতে পারে। 

আজ বুধবার প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের দ্বিবার্ষিক প্রতিবেদন ‘সাউথ এশিয়া ডেভেলপমেন্ট আপডেট: ট্যাক্সিং টাইমস’-এ এই পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও আর্থিক চাপকে এর মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ার সার্বিক প্রবৃদ্ধিও নিম্নমুখী হচ্ছে। ২০২৫ সালে অঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে ৫ দশমিক ৮ শতাংশে দাঁড়াতে পারে, যা গত অক্টোবরে প্রকাশিত পূর্বাভাসের চেয়ে ০.৪ শতাংশ কম। তবে ২০২৬ সালে এই প্রবৃদ্ধি কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়ে ৬ দশমিক ১ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।

প্রতিবেদনে অঞ্চলভিত্তিক পূর্বাভাসে দেখা যায়, ভারত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করলেও পরবর্তী অর্থবছরে তা কিছুটা কমে ৬ দশমিক ৩ শতাংশ হতে পারে। আফগানিস্তানে আন্তর্জাতিক সহায়তা হ্রাসের কারণে প্রবৃদ্ধি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ২০২৫-২৬ সালে ২ দশমিক ২ শতাংশে নেমে আসবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

ভুটানে কৃষি খাতের দুর্বলতার ফলে প্রবৃদ্ধি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৬ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে এলেও, জলবিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির কারণে ২০২৫-২৬ সালে তা ৭ দশমিক ৬ শতাংশে উন্নীত হতে পারে। মালদ্বীপে নতুন বিমানবন্দর টার্মিনাল চালু হওয়ায় ২০২৫ সালে প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছাতে পারে, যদিও বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ নিয়ে উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে।

নেপালে প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাবেও প্রবৃদ্ধি হ্রাস পেতে পারে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা দাঁড়াতে পারে ৪ দশমিক ৫ শতাংশে এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা ৫ দশমিক ২ শতাংশে উন্নীত হতে পারে। পাকিস্তানে দুর্যোগ ও মুদ্রাস্ফীতির চাপ সত্ত্বেও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২ দশমিক ৭ শতাংশ এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৩ দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হতে পারে।

শ্রীলঙ্কার ক্ষেত্রে, ঋণ পুনর্গঠনের অগ্রগতি আগামী বছর প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করতে সহায়ক হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে, যদিও ২০২৬ সালে তা কিছুটা হ্রাস পেয়ে ৩ দশমিক ১ শতাংশ হতে পারে।

প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট মার্টিন রাইজার মন্তব্য করেছেন, ‘গত এক দশকে একাধিক ধাক্কা দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতিকে দুর্বল করে দিয়েছে। এখনই সময় বাণিজ্যের দ্বার উন্মুক্ত করা, কৃষিকে আধুনিকীকরণ এবং বেসরকারি খাতকে আরও সক্রিয় করার মাধ্যমে টেকসই প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার।’

বিশ্বব্যাংক মনে করে, ভবিষ্যতের ঝুঁকি মোকাবিলায় এবং অর্থনীতিকে সহনশীল রাখতে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধিই এখন সবচেয়ে জরুরি। দক্ষিণ এশিয়ায় গড় সরকারি রাজস্ব জিডিপির মাত্র ১৮ শতাংশ, যেখানে অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশে তা ২৪ শতাংশ। কর রাজস্ব জিডিপির তুলনায় এখনো ১ থেকে ৭ শতাংশ কম, যা অপ্রাতিষ্ঠানিক অর্থনীতি ও কৃষির আধিপত্যের ফলে হয়েছে।

সংস্থাটির দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের প্রধান অর্থনীতিবিদ ফ্রানজিস্কা ওন্সর্জ বলেছেন, ‘নিম্ন রাজস্বই দক্ষিণ এশিয়ার আর্থিক দুর্বলতার মূল কারণ এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যে এটি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকিস্বরূপ।’

কর ব্যবস্থায় সংস্কার, কর ফাঁকি প্রতিরোধ, প্রযুক্তিনির্ভর কর আদায়, কর অব্যাহতি কমানো এবং পরিবেশ দূষণের জন্য মূল্য আরোপ—এসব উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে রাজস্ব বৃদ্ধির সুপারিশও করেছে বিশ্বব্যাংক।