সোনারগাঁও জাদুঘরের সুর্বণজয়ন্তী ও বৈশাখী মেলা

বৈশাখী মেলায় নজর কাড়ছে লিটন সাঁপুড়ের ঝাঁপান খেলা

বাংলার হারিয়ে যাওয়া নানা লোকজ ঐতিহ্যকে নতুন আঙ্গিকে দর্শনার্থীদের মধ্যে তুলে ধরার মাধ্যমে সোনারগাঁওয়ে উদযাপিত হচ্ছে বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের (সোনারগাঁ জাদুঘর)সুবর্ণজয়ন্তী ও ১৫ দিনব্যাপী  বৈশাখী মেলা। 

সোমবার (১৪ এপ্রিল) পহেলা বৈশাখে সুর্বণজয়ন্তী ও বৈশাখী মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়েছে। এ উৎসবটি বিগত যে কোন লোকজ উৎসব থেকে একেবারে ভিন্নধর্মী বলে জানিয়েছেন জাদুঘর কর্তৃপক্ষ । বিশেষ করে উৎসবের সাজসজ্জা  থেকে শুরু করে  কারুশিল্পীদের স্টল বরাদ্দ, লোকজ খেলাধুলা ও অন্যান্য অনুষ্ঠানমালায় পরিপূর্ণ লোকজ ধারার সমন্বয় ঘটানো হয়েছে এবার। পরিপাটি ও পরিচ্ছন্ন এ উৎসব ইতিমধ্যে দর্শনার্থীদের কাছে প্রশংসিত হয়েছে। 

এ উৎসবে এবার সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে ঝিনাইদহের  শৈলকুপা থেকে আসা লিটন সাপুড়ের ঝাঁপান খেলা। লিটন সাপুড়ে জানান, তিনি এ উৎসবে নিমন্ত্রণ পেয়ে মোট ৯ টি বিষধর সাপ নিয়ে ঐতিহ্যবাহী ঝাঁপান খেলা দেখাতে এসেছেন। প্রতিদিন তিনি ঢোল ও খঞ্জনির তালে তালে নেচে গেয়ে সাপের ঝাঁপান খেলা দেখান দর্শনার্থীদের। তিনি ৮ টি গোখরা ও একটি দাড়াঁশ সাপ নিয়ে এ খেলা দেখান।

একটি উঁচু চৌকির উপর সাপগুলোকে রেখে তার সামনে তিনি নেচে নেচে মনসা মঙ্গলের গান পরিবেশন করেন। তার সহযোগীরা বাদ্য যন্ত্র বাজায়। এ সময় সাপগুলো  চৌকির উপর ফঁনা তুলে নাচতে থাকে। চমৎকার এ দৃশ্য দেখে উপস্থিত দর্শনার্থীরা শিহরিত হওয়ার পাশাপাশি বেশ আনন্দ উপভোগ করছেন।

লিটন সাঁপুড়ে আরও জানান, তিনি তার পিতার কাছে এ সাপের খেলা শিখেছেন। ঝাঁপান খেলা এ দেশে প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে। কয়েকজন সাঁপুড়ে ঝিনাইদহ এলাকায় এ খেলাটি ধরে রেখেছেন।

বৈশাখী মেলা ও জাদুঘরের সুবর্ণজয়ন্তী উৎসবে ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্পের বৈচিত্রময় কারুপণ্যের সমাহার ঘটেছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের কারুশিল্পীদের উৎসবে আমন্ত্রন জানানো হয়েছে। জামদানি, শতরঞ্জি, নকশি কাঁথা, মৃৎশিল্প, দারুশিল্প, হাতপাখা, কাঠখোদাইশিল্প, পটচিত্র শিল্প, শোলাশিল্প, বাঁশ-বেতশিল্প এবং ক্ষুদ্র-নৃ গোষ্ঠীর কারুশিল্পীদের সৃষ্টিশীল কারুকর্মের উপস্থাপন এবং বিপণনের সুযোগ পাচ্ছেন তারা। এছাড়াও উৎসব চলাকালীন প্রতিদিনই থাকছে বাউল গান ও লোকজ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

এছাড়া রয়েছে বায়স্কোপ, সাপের ঝাঁপান খেলা, নাগরদোলাসহ গ্রামীণ বিনোদনের নানা আয়োজন। রয়েছে হারিয়ে যাওয়া গ্রামীণ খেলা তিন গুটি, সাত গুটি, বাঘবন্দ, কানামাছি, গোল্লাছুট, বউচি ও কপাল টোক্কা। ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন খাবার ও পিঠাপুলির আয়োজনও থাকছে উৎসবে।

উৎসব চলবে আগামী ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ৯ টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত উন্মুক্ত থাকবে উৎসব।