অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের উদ্দেশ্যে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক বলেছেন, নির্বাচন বিলম্বিত হলে সব দায়ভার আপনার ওপর পড়বে। এখন জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী ডিসেম্বরের আগে একটা নির্বাচনের রোডম্যাপ দেন। নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনকে বলে দেন। আমরা আপনার অধীনে একটা সুষ্ঠু নির্বাচনে আশাবাদী।
বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স কাউন্সিল (বিসিআরসি) কর্তৃক 'স্থিতিশীল দেশ বিনির্মাণে চাই দ্রুত জাতীয় নির্বাচন' শীর্ষক আলোচনাসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, সবাই যখন ড. ইউনূসের কাছে যান তখন তিনি বলেন 'কী সাহস পাই আপনাদের সঙ্গে পেলে'। সেই সন্মান ও সাহস আমরা আপনাকে দিচ্ছি। সেই সাহসকে যদি আপনারা সাহসের সাথে মোকাবেলা না করে নির্বাচন বিলম্বিত করেন তাহলে দায়-দায়িত্ব আপনার ওপরেই পড়বে। তাই আমরা নির্বাচন নির্বাচন এইজন্য বলি, আগে একটা স্থিতিশীল সরকার সংসদে বসতে দেন। তারাই মূল দ্বায়িত্ব পালন করবে কোনটা সংস্কার হবে কোনটা হবে না। এখন এমন সংস্কার করেন যাতে আমার ভোট আমি প্রাইমারি স্কুলে গিয়ে আমার পছন্দ মতো প্রার্থীকে দিতে পারি। এটাই আমরা চাই। এটাই তারেক রহমান চান।
ফারুক বলেন, আমি ভয় পেয়েছিলাম ৬ তারিখ (৬ আগস্ট) থেকে কি কি যেন হয়। আমি আমার নির্বাচনী এলাকায় চলে গিয়েছিলাম। কিন্তু একটা আওয়ামী লীগের কর্মীর গায়ের ওপর হাত উঠাতে দেন নাই তারেক রহমান এত অত্যাচারের পরেও। নেতা নির্দেশ দিয়েছে সরকার পরিবর্তন হবে, আইনের আওতায় আনা হবে বিচারের আওতায় আনা হবে। গলায় ছুরি দেওয়া আমাদের দ্বায়িত্ব না। দেখুন সারা বাংলাদেশে বিএনপির হাতে আওয়ামী লীগের কোনও কর্মী মারা গেছে? তাই তারেক রহমানের এখন যে নেতৃত্ব, এই নেতৃত্বকেই দেশে না আনার একটা চক্রান্ত চলছে। এই চক্রান্তকে রুখে দিতে একটা স্থিতিশীল নির্বাচন দরকার। জনপ্রতিনিধির সরকার দরকার।
তিনি বলেন, এখন কেউ যদি ডিজিএফআই এনএসআই দিয়ে নতুন দল তৈরি করার চেষ্টা করেন তাহলে ১/১১ এর মতো বদনামটা আপনাদের (অন্তর্বর্তী সরকার) ঘাড়েও চাপবে। নতুন দল যত হবে ভাববে আপনারাই করছেন।
বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স কাউন্সিলের সভাপতি আলী আশরাফ আখন্দের সভাপতিত্বে আলোচনাসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব প্রমুখ।