মেয়র আতিকের পর এবার বাঁধা কাগুজে প্রক্রিয়া 

রাজধানীর বনানীর ১৮ নম্বর সড়কের জে-ব্লকে তিনটি প্লটে পড়ে থাকা ১৩ হাজার ৯৭০ বর্গফুট জমির ওপর নজর পড়েছিল ঢাকা উত্তরের সাবেক সিটি মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম ও তার মেয়ে হিট অফিসার বুশরা আফরিনের। আর তাই সব উপেক্ষা করে সেই জমিতে পার্ক নির্মাণের কাজও শুরু করে দিয়েছিলেন তারা। এরপর ১৬ জুন ‘কার জমি কে করে পার্ক!’ দেশ রূপান্তরে সংবাদ প্রকাশের পর আদালতের নির্দেশ থাকায় আটকে যায় মেয়র আতিকের পার্ক নির্মাণ কাজ। তবে জায়গা বুঝে পায়নি রাজউকের নথি অনুযায়ী ৩ মালিক মো. আতাউর রহমান, শামসুন্নাহার খান ও শওকত শামীম।

মামলা চলমান থাকায় আদালত বনানীর ১৮ নম্বর সড়কের জে-ব্লকে তিনটি প্লটের জমির তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্ব দেয় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারকে। এরপর মামলা পরিচালনায় দীর্ঘ সময় শেষে চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি জায়গাটি রাজউকের নথিভুক্ত ৩ মালিকের কাছে হস্তান্তর করতে নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট।

আদালতের নির্দেশের পরও জমি হস্তান্তরে পুলিশের দীর্ঘসূত্রিতার অভিযোগ তুলেছেন ৩ মালিক। যার একজন মো. আতাউর রহমান। তিনি বলেন, জায়গা আমাদের অথচ ভোগান্তিতে আমরাই। আদালতের ওপর বিশ্বাস ও আস্থা নিয়ে অপেক্ষা করছিলাম। সব শেষ আমরা আদালতের রায়ে জয়ী। তারপরও পুলিশ আমাদের জায়গা বুঝিয়ে দিচ্ছে না। আদালতের নির্দেশের পরও পুলিশের পক্ষ থেকে দুদকে চিঠি পাঠানো হচ্ছে। কিন্তু কেন? এটা কি আদালতের অবমাননা নয়? আমরা ইতিমধ্যে ডিএমপি কমিশনারকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছি।

আদালতের নির্দেশের পরে জায়গা বুঝিয়ে না দেওয়ার কারণ ও আইনি নোটিশ নিয়ে সংশ্লিষ্ট ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান দেশ রূপান্তরকে বলেন, আদালতকে অবমাননা করার কোনো সুযোগ নেই। আমরা খুব দ্রুতই সঠিক মালিকের কাছে জায়গা হস্তান্তর করবো। আদালত যেভাবে রায় দিয়েছে সেভাবেই আমরা দায়িত্ব পালন করবো। কিছু আইনি প্রক্রিয়া কেবল যাচাই করছি আমরা।

অন্যদিকে ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান স্বাক্ষরিত দুদক চেয়ারম্যানকে দেওয়া একটি চিঠি এসেছে দেশ রূপান্তরের হাতে। যেখানে দুদকের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে আদালতের রায়ের পর তারা আরও কোনো ব্যবস্থা নেবে কিনা। আদালতের রায়ের পর এমন চিঠি পুলিশ দিতে পারে কিনা প্রশ্নে উপ-পুলিশ কমিশনার বলেন, আদালতের আদেশের যেন ব্যত্যয় না হয় সে জন্যই দুদকের কাছে চিঠি দিয়েছিলাম এর বাইরে কোনো উদ্দেশ্য আমাদের নেই। দ্রুতই জমির মালিকের কাছে আদালতের নির্দেশ মেনে জমি হস্তান্তর করা হবে।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর রাজউকের নথি অনুযায়ী ৩ মালিক মো. আতাউর রহমান, শামসুন্নাহার খান ও শওকত শামীমকে জায়গা বুঝিয়ে না দেওয়ায় আদালত অবমাননার অভিযোগ এনে ডিএমপি পুলিশ কমিশনারকে আইনি নোটিশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. একরামুল হক।

রাজউক থেকে আরেক বরাদ্দ গ্রহীতা শওকত শামীম বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে এ প্লট নিয়ে ভোগান্তিতে রয়েছি। আইন অনুযায়ী বনানীর জায়গা যাই হবে সবকিছু রাজউকের মাধ্যমে হতে হবে আগেই বলেছিলাম। এবার আদালতও চূড়ান্ত রায় দিয়েছে। আমরা চাই আদালতের নির্দেশনা মেনে আমাদের জায়গা বুঝিয়ে দেওয়া হোক।’

বনানীর ১৮ নম্বর সড়কের জে-ব্লকে তিনটি প্লটে পড়ে থাকা ১৩ হাজার ৯৭০ বর্গফুট জমির বর্তমান অবস্থা সরেজমিনে দেখা যায়, মেয়র আতিক পার্ক বানাতে না পারলেও নার্সারির সরঞ্জাম এনে দখল চেষ্টা চলছে। তবে কারা করছে দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করেও তার হদিস পাওয়া যায়নি।