কাজে উৎসাহ ফিরিয়ে আনতে কী করবেন

অনেকে আছেন অফিসে এসে কাজে ডুবে থাকলেই সবচেয়ে ভালো থাকেন। আবার এর ঠিক বিপরীত মানুষও আছে। তাদের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা উল্টো। কাজ করতে করতে বেলা পেরোলেই চেপে ববে ক্লান্তি। কাজ করার উৎসাহে ভাটা পড়ে। কখনো-সখনো আসে বিরক্তিও।

কী সমাধান

আমেরিকার ওয়েক ফরেস্ট বিশ্ববিদ্যালয়, ভার্জিনিয়া কমনওয়েলথ বিশ্ববিদ্যালয় এবং নর্থইস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি মিলিত গবেষণায় পাওয়া ওই দুই সমাধান হলো

কাজের মধ্যে ছোট বিরতি নেওয়া : গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, কাজের ফাঁকে ছোট ছোট বিরতি বা ‘মাইক্রোব্রেক’ ওই ধরনের ক্লান্তিবোধ কাটানোর সবচেয়ে সহজ এবং কার্যকরী উপায়। বিশেষ করে কাজের চাপ যদি বেশি থাকে, তবে ওই ধরনের ছোট ছোট বিরতিই উপকারে লাগে।

বসের কাছ থেকে সাহায্য : যিনি আপনার ইমিডিয়েট বস বা ম্যানেজার অথবা সুপারভাইজার, তার তরফে কতটা সাহায্য পাচ্ছেন, তার ওপরও নির্ভর করে বিষয়টি। যদি তিনি আপনার ভালো-মন্দ বোঝেন, প্রয়োজন মতো পাশে দাঁড়ান, তা হলে এই ক্লান্তিবোধ সচরাচর থাকে না। বরং কাজে বাড়তি আগ্রহ পান কর্মী।

গবেষণায় দেখা যায়, দীর্ঘ সময় কাজের ফাঁকে যারা মাঝে মধ্যেই ছোট বিরতি নিয়েছেন, তারা ক্লান্তিবোধ, একঘেয়েমি, কর্মোদ্যমের অভাব কাটিয়ে উঠেছেন। শুধু তা-ই নয়, এতে তাদের রাতের ঘুমের মানও ভালো হয়েছে। পরের দিন কাজে আসতেও তারা বেশি উৎসাহবোধ করেছেন।

কিছু অংশগ্রহণকারীর ওপরে পরীক্ষা করা হয়েছিল ম্যানেজারের সাহায্যের বিষয়টি। দেখা গিয়েছে, যাদের ম্যানেজার তাদের কাজের বিষয়ে সাহায্য করেছেন, সময়ে সময়ে কর্মীর ভালো-মন্দের বিষয়ে খোঁজখবর নিয়েছেন, কাজের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন অথবা কাজের ক্ষেত্রে কর্মীদের দরকার পড়লে পাশে দাঁড়িয়েছেন, সেসব কর্মীরও কাজে উদ্যম বেড়েছে। তারাও অফিসে যাওয়া এবং ভালো কাজ করার ব্যাপারে আগ্রহী হয়েছেন। দ্রুত কাজ শেষ করার ব্যাপারেও উন্নতি করেছেন। কাজের ফাঁকে যারা মাঝে মধ্যেই ছোট বিরতি নিয়েছেন, তারা ক্লান্তিবোধ, একঘেয়েমি, কর্মোদ্যমের অভাব কাটিয়ে উঠেছেন।

যা করবেন

সব অফিসেই, বিশেষ করে করপোরেট ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট পরিমাণে কাজ শেষ করার চাপ থাকেই। যা থেকে ক্লান্তিবোধ আসা অস্বাভাবিক নয়। পছন্দের কাজও কখনো সখনো ওই চাপের মুখে পড়ে অসহ্য মনে হতে পারে। সে ক্ষেত্রে সমাধান হিসেবে আধ ঘণ্টা বা ৪৫ মিনিট অন্তর ছোট ছোট বিরতি নিতে পারেন। সেই বিরতিতে এক কাপ চা বা কফি খেতে পারেন আবার চোখ রাখতে পারেন খবরের কাগজে। অথবা ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হলে তাকে বুঝিয়ে বলতে পারেন আপনার সুবিধা-অসুবিধার কথা।