ত্বকের সঠিক যত্নের অভাব, অত্যধিক তেল-মসলাজাত খাবার খাওয়া, পানি কম খাওয়ার মতো বিভিন্ন কারণে ব্রণ হয়। তৈলাক্ত ত্বকের ক্ষেত্রে ব্রণ বেশি হয়। পাশাপাশি, শরীরে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিনের অভাবে ব্রণ দেখা দেয়। ২০১৬ সালে গবেষণায় দেখা গিয়েছে, শরীরে ভিটামিন ডির অভাবে ব্রণ হয়। যাদের শরীরে ভিটামিন ডি কম, তাদের ব্রণ হওয়ার প্রবণতা বেশি। ব্রণের জন্য দায়ী চ.ধপহবং নামক একটি ব্যাকটেরিয়া। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ভিটামিন ডি এই ব্যাকটেরিয়ার কার্যকলাপ রোধ করে। ফলে ব্রণ হতে পারে না।
ভিটামিন ডি ক্যালসিয়াম শোষণে সাহায্য করে এবং ক্যালসিয়াম হাড়ের স্বাস্থ্য বজায় রাখে। পাশাপাশি ভিটামিন ডি স্নায়ুকোষ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করে। হাড় শক্তিশালী করতে এবং পেশির যত্ন নিতে ভিটামিন ডি অপরিহার্য। গবেষণায় প্রকাশ বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭৬ শতাংশই ভিটামিন ডির অভাবে ভোগেন। তবে এলাকাবেধে এর তারতম্য রয়েছে। শুধু হাড় মজবুত করতেই নয়, অস্থিসংক্রান্ত নানা রোগ, অস্টিয়োপোরেসিসের মতো রোগের ঝুঁকি কমায়। তা ছাড়া রোগ প্রতিরোধেও ভিটামিন ডি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তবে মাথায় রাখবেন, শরীরে ভিটামিন ডির মাত্রা প্রয়োজনের থেকে বেশি হয়ে গেলে কিন্তু নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। অতিরিক্ত ভিটামিন-ডি খেলে রক্তনালিতে ক্যালসিয়াম জমা হওয়ার সমস্যা দেখা দেয়। এই পরিস্থিতিকে ডাক্তারি পরিভাষায় বলে ক্যালসিফিকেশন, যার থেকে দেখা দিতে পারে হাইপারক্যালসিমিয়ার মতো রোগ। এর ফলে হার্টের অসুখ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে।
প্রাকৃতিকভাবে ভিটামিন কে পাওয়া যায় সবুজ শাক, সবজি, ডিমের কুসুম, মাংসের মেটে ও চিজ-এ। আপনাকে সঠিক পরিমাণ ভিটামিন ডি খেতে হবে। বয়স অনুযায়ী ভিটামিন ডি খাওয়ার পরিমাণ বদলে যায়। ইউএস ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথের তথ্য অনুযায়ী, ০-১ বছর বয়সী শিশুদের জন্য দৈনিক ভিটামিন ডি প্রয়োজন ০.০১ মিলিগ্রাম। ১-১৩ বছর বয়সীদের জন্যও দৈনিক ভিটামিন ডি প্রয়োজন ০.০১৫ মিলিগ্রাম। ১৪-১৮ বছর বয়সীদেরও রোজ ০.০১৫ মিলিগ্রাম ভিটামিন ডি প্রয়োজন। ১৯-৭০ বছর বয়সীদের নিয়মিত ০.০১৫ মিলিগ্রাম ভিটামিন ডি খাওয়া প্রয়োজন। ৭১ বছর ও তার বেশি বয়সীদের দৈনিক ০.০২ মিলিগ্রামের বেশি ভিটামিন ডি না খাওয়াই ভালো।