ঘরোয়া ক্রিকেটারদের পাঁচগুণ বেতন বৃদ্ধির দাবি

জাতীয় দলের দুয়ার ছুঁয়ে ফেলার স্বপ্ন নিয়ে, বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে অনেকেই খেলেন বছরের পর বছর। কিন্তু সেই লড়াইয়ের পেছনে যে শ্রম, ঘাম আর সময় খরচ হয়—তার প্রাপ্তি যেন বহু দূরের বাতিঘর। দীর্ঘ বঞ্চনার পর অবশেষে মুখ খুললেন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটাররা। দাবি তাদের একটাই—পরিশ্রমের সঠিক মূল্য।

শুক্রবার বিকেলে মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি ফারুক আহমেদ ও কয়েকজন পরিচালকের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেন তামিমসহ একাধিক সিনিয়র ক্রিকেটার। কয়েক ঘণ্টাব্যাপী এই বৈঠকে ক্রিকেটাররা ঘরোয়া ক্রিকেটের বর্তমান বেতন কাঠামোকে ‘অযৌক্তিক ও অসম্মানজনক’ আখ্যা দিয়ে বড় ধরনের সংস্কারের দাবি জানান।

ক্রিকেটারদের পক্ষ থেকে প্রস্তাব আসে—চুক্তিভুক্ত প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটারদের মাসিক বেতন বাড়িয়ে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা করতে হবে। বর্তমানে ‘ক্যাটাগরি এ’ ক্রিকেটাররা পান ৩৫ হাজার টাকা, ‘ক্যাটাগরি বি’ পান ৩০ হাজার এবং ‘ক্যাটাগরি সি’ পান ২৫ হাজার টাকা। একই সঙ্গে ম্যাচ ফি ৭৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ টাকা করার দাবি তোলেন তারা।

বৈঠকে উপস্থিত এক ক্রিকেটার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, 'প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটার হিসেবে আমরা যে পারিশ্রমিক পাই, তা এক কথায় অসম্মানজনক। এ দিয়ে কোনো পেশাদার খেলোয়াড়ের জীবিকা নির্বাহ সম্ভব নয়। বিষয়টি আমরা বোর্ড সভাপতির কাছে খোলাখুলি বলেছি। তিনি মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং বলেছেন, এই বিষয়টি পরবর্তী বোর্ড সভায় আলোচনায় আসবে।'

সূত্র জানায়, কেবল বেতন-বোনাস নয়, প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে কাঠামোগত উন্নয়ন, সুযোগ-সুবিধা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বৈঠকে। তবে আর্থিক প্রাপ্তি ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

ঘরোয়া ক্রিকেটারদের এই সংগঠিত কণ্ঠস্বর দীর্ঘদিনের অবহেলার বিরুদ্ধে একটি সাহসী পদক্ষেপ। পেশাদারিত্বের দাবিতে এই আন্দোলন যদি বাস্তব রূপ পায়, তাহলে দেশের ক্রিকেট কাঠামো আরও শক্ত ভিত পাবে—যেখানে জাতীয় দলে ঢোকার আগে ঘরোয়া মঞ্চে গড়ে উঠবে সত্যিকারের প্রতিযোগিতা ও মর্যাদা।