ইজারা নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, আহত ২৫

গাজীপুরের শ্রীপুরে মহাসড়কের ইজারার দাবি নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২৫ জন কর্মী-সমর্থক আহত হয়েছেন বলে দাবি তাদের। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয় সংঘর্ষস্থল এলাকায়।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে পৌর শহরের মাওনা চৌরাস্তায় দুই পক্ষের মধ্যে এ সংঘর্ষ ঘটে। উপজেলা শ্রমিক দলের আহ্বায়ক কাজল ফকির ও বাংলাদেশ শ্রমিকদল কল্যাণ ফেডারেশনের শ্রীপুর পৌর শাখার জাহিদ হোসেনের কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে এ সংঘর্ষ হয়।

গুরুতর আহতদের মধ্যে পাঁচজনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বেশ কিছু আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে মহাসড়কে কোনও ইজারা দেওয়া যাবে না মর্মে গত ফ্রেব্রয়ারিতে একটি নোটিশ জারি করেছিল গাজীপুর সড়ক ও জনপদ বিভাগ। তারপরও পৌর কর্তৃপক্ষের আদেশ অমান্য করে ঢাকা-ময়মননিংহ মহাসড়কের মাওনা এলাকা ইজারা দেন। এতেই বিএনপির দুই পক্ষ বিবাদে জড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার ছুটির দিনে মাওনা চৌরাস্তা এলাকা ছিল লোকের ভিড় ছিল প্রচুর। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মাওনা ফ্লাইওভারে পশ্চিম পাশে হঠাৎ দুইটি পক্ষের মধ্যে লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মারামারি বাধে। ঘটে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষ ব্যাপক সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা জানান, মহাসড়কে চাঁদা তোলা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে এ ঘটনা ঘটেছে। পৌরসভা নিয়ম না মেনেই এ এলাকা ইজারা দিয়েছে। এতেই তাদের মধ্যে বিবাদ সুষ্টি হয়।

বাংলাদেশ শ্রমিক দল কল্যাণ ফেডারেশনের শ্রীপুর পৌর এলাকার ৮ নম্বর ওয়ার্ড শাখা সভাপতি জাহিদ হোসেন অভিযোগ করেন, মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় চাঁদাবাজি হয়। এর প্রতিবাদে আমরা বৃহস্পতিবার মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছিলাম। এর জের ধরে কাজল ফকির ওতার লোক নিয়ে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এতে তার বেশ কিছু কর্মী-সমর্থক আহত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

শ্রীপুর উপজেলা শ্রমিক দলের আহ্বায়ক কাজল ফকির বলেন, মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় অস্থায়ী বাজারের আমি বৈধ ইজারাদার। আমার লোকজন সরকারি নিয়ম মেনে খাজনা আদায়কালে বৃহস্পতিবার একজনকে মারধর করে জাহিদসহ তার লোকজন। শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে খাজনা আদায়কালে জাহিদসহ তার লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমার লোকদের ওপর ফের হামলা চালান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শ্রীপুর পৌরসভার নির্বাহী কর্মকতা (সচিব) মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ইজারা নিয়ে মারামারি ও সওজ নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে আমার জানা নাই।

সড়ক ও জনপদের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলীর নাম্বারে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়ানি।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন মণ্ডল বলেন, দুই পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরিস্থিতি এখন পুরোপুরি স্বাভাবিক। অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে অতিরিক্তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।