৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

শাসক বদলালেও শ্রেণিচরিত্র পরিবর্তন হয়নি: ছাত্র ইউনিয়ন সভাপতি

‘কোথাও আঘাত ছাড়া অগ্রসর সূর্যালোক নেই ’ এই স্লোগান নিয়ে ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করেছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন।  দিনটি উপলক্ষে শনিবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবেশ ও শোভাযাত্রা বের করে সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। সন্ধ্যায় সংগঠনের প্রাক্তনদের নিয়ে হয় পুনর্মিলনী।

সমাবেশে ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মাহির শাহরিয়ার রেজা বলেন,গত ৫৪ বছরে বাংলার শাসকেরা মানুষের স্বপ্ন ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করেছে। স্বৈরাচার পতনের পর গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের স্বপ্ন জন্ম নিলেও বর্তমান সরকার সেই চেতনার পরিপন্থী পথে হাঁটছে।

তিনি বলেন, আমরা গত জুলাই-আগস্টে পরাক্রান্ত স্বৈরাচার শেখ হাসিনাকে পরাভূত করেছি। আমাদের স্বপ্ন ছিল স্বৈরাচার পতনের মধ্য দিয়ে একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের রূপান্তর ঘটবে। একটি শোষণ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশের পথে আমাদের যে যাত্রা, সেই যাত্রা আমরা শুরু করতে পারব। কিন্তু ৫ আগস্টের পর থেকে আমরা দেখতে পেয়েছি, বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের পরে যেমন বিপরীত পথে চলা শুরু করেছিল, ঠিক একইভাবে জুলাই অভ্যুত্থানের পরেও তার চেতনার পরিপন্থী পথে চলা শুরু করেছে।

তিনি বলেন, অভ্যুত্থানের পর থেকে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা হয়েছে, মাজারে হামলা হয়েছে, মন্দিরে হামলা হয়েছে, মসজিদে হামলা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়েছে আগস্টের ৮ তারিখ। আগস্টের ১২ তারিখ সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে তোফাজ্জল নামের একজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাবেক ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সাবেক এক ছাত্রলীগ নেতাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমরা বলতে চাই, যদি তারা অপরাধী হয়ে থাকে, তাহলে তাদের বিচার করতে হবে আইনের মাধ্যমে। বিচার না করে মব ভায়োলেন্সের মাধ্যমে পিটিয়ে হত্যা করা কোনোভাবেই এই বাংলাদেশে চলতে পারে না।

মাহির শাহরিয়ার রেজা বলেন, অভ্যুত্থানের পর থেকে বাংলাদেশকে একটি অযাচিত যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। ভারতকে নিয়মিত উসকানি দেওয়া হচ্ছে, অধিক মাত্রায় ভারতবিদ্বেষী মনোভাব তৈরি করা হচ্ছে। সেই মনোভাব ঘিরে যুদ্ধংদেহী একটি পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, আমরা দেখেছি, আওয়ামী লীগের বড় বড় কর্মীদের নিরাপদে দেশত্যাগের সুযোগ করে দেওয়ার পর ডেভিল হান্টের নামে একটি অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে। ৫ আগস্টের পরে মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য ভেঙে ফেলা হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধের ম্যুরাল ঢেকে দেওয়া হয়েছে। আমরা বলতে চাই, শাসক বদল হলেও শাসকের শ্রেণিচরিত্র বদল হয়নি।

মুখে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের কথা বলা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত ৮ মাসে কার্যকর কোনো সংস্কারের রূপরেখা আমাদের সামনে উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। শিক্ষা সংস্কার নিয়েও কোনো ধরনের রূপরেখা আমাদের সামনে উপস্থাপন করতে পারেনি। তারা শুধু পেরেছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সাম্প্রদায়িক মনোভাবসম্পন্ন প্রশাসক নিয়োগ ও ছাত্র রাজনীতি বন্ধের নামে নানা ধরনের উসকানি দিতে। এটি হচ্ছে সরকারের তথাকথিত সংস্কার।

এই ছাত্রনেতা বলেন, কুয়েটের শিক্ষার্থী বন্ধুরা দীর্ঘদিন অনশন করার পরে উপাচার্যকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তাহলে পূর্ববর্তী সরকারের সঙ্গে এই সরকারের পার্থক্য কোথায়? আওয়ামী লীগ সরকার মুখে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলত, কথায় কথায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে কর্তৃত্ববাদ স্থাপনের চেষ্টা করত। আর এখন আমরা দেখছি, অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে বিক্রি করে তাদের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার চেষ্টা করছেন।

মাহির শাহরিয়ার রেজা বলেন,  সরকার অভ্যুত্থানের বিপরীত পথে হাঁটা শুরু করেছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পথে হাঁটা শুরু করেনি। তাকে আঘাত না করে একটি শোষণমুক্ত, বৈষম্যহীন, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা সম্ভব হবে না। সেই জন্য আমরা স্লোগান নির্ধারণ করেছি: কোথাও আঘাত ছাড়া অগ্রসর সূর্যালোক নেই।