বরিশাল পোর্ট রোডের শহীদ জিয়া পাইকারি মৎস্য অবতারণ কেন্দ্রের ইজারার সর্বনিম্ন মূল্য দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছেন স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ীরা। রবিবার বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটি (বিআরইউ) কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তারা বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানান। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক মো. জহির সিকদার।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২৪ সালে ঘাটটির ইজারার সর্বনিম্ন দর ছিল ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা এবং সর্বোচ্চ দরদাতা ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকায় ইজারা লাভ করেন। তবে ২০২৫ সালের জন্য বিআইডব্লিউটিএ হঠাৎ করে সর্বনিম্ন দর নির্ধারণ করেছে ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কোনো আলোচনা ছাড়াই, একতরফাভাবে। তারা আশঙ্কা করছেন, দ্বিগুণ ইজারা মূল্যের কারণে ঘাটে মাছের আনয়ন কমবে, যার ফলে বরিশালের বাজারে মাছের সরবরাহ সংকট দেখা দেবে এবং মাছের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাবে।
তাদের অভিযোগ আরও গুরুতর হয়ে ওঠে ইজারা পরবর্তী অবৈধ অর্থ আদায়ের প্রসঙ্গে। ব্যবসায়ীরা জানান, ২০২৪ সালে সরকারি নির্ধারিত রেট সিট অনুযায়ী টনপ্রতি ৩৪ টাকা ৫০ পয়সা, অর্থাৎ মণপ্রতি প্রায় দেড় টাকা হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তাদের কাছ থেকে মণপ্রতি ১০০ টাকা আদায় করা হয়, যা পুরোপুরি অবৈধ এবং অনৈতিক।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইজারা মূল্যের এই ধরনের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি কেবল ইজারাদার কিংবা কর্তৃপক্ষের আর্থিক লাভের পথ সুগম করে না, বরং পুরো খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থার উপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বরিশাল তথা দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই পাইকারি মৎস্য অবতারণ কেন্দ্র থেকে সরাসরি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাছ সরবরাহ হয়। ঘাটের খরচ বেড়ে গেলে ব্যবসায়ীরা বাধ্য হবেন অতিরিক্ত ব্যয় ভোক্তার ওপর চাপাতে। এতে মাছের দাম বাড়বে, বাজারে সংকট দেখা দেবে এবং শেষ পর্যন্ত সাধারণ ক্রেতার জীবনযাত্রায় প্রভাব পড়বে।
এ ছাড়া ব্যবসায়ীরা ইঙ্গিত দিয়েছেন, অতিরিক্ত টোলের কারণে তারা বিকল্প ঘাট ব্যবহারের কথা বিবেচনা করতে পারেন, যা শহীদ জিয়া মৎস্য অবতারণ কেন্দ্রের ঐতিহ্য এবং স্থানীয় অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের ধাক্কা হতে পারে।
এ বিষয়ে বরিশাল নদী বন্দর কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ সেলিম রেজা জানান, ‘দরপত্রের মূল্য নির্ধারণ করা হয় বিআইডব্লিউটিএ প্রধান কার্যালয় থেকে। স্থানীয় পর্যায়ে কোনো ভূমিকা নেই। পাশাপাশি ইজারাদারদের মধ্যে প্রতিযোগিতার কারণে ইজারা মূল্য বেড়ে যেতে পারে।’
তবে ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, মূল সমস্যা কেবল মূল্য বৃদ্ধিতে নয়, বরং যথাযথ নীতিমালা ও স্বচ্ছতার অভাবে। তারা দাবি করেছেন, ঘাট ইজারার ক্ষেত্রে সরকারি নির্ধারিত রেট সিটের কঠোর অনুসরণ নিশ্চিত করতে হবে এবং ব্যবসায়ীদের সাথে আলোচনা করে বাস্তবসম্মত ইজারা মূল্য নির্ধারণ করতে হবে।
পোর্ট রোডের শহীদ জিয়া পাইকারি মৎস্য অবতারণ কেন্দ্রের এই সংকট যদি দ্রুত সমাধান না হয়, তাহলে তা শুধু স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ক্ষতিগ্রস্ত করবে না, বরং এর ব্যাপক প্রভাব পড়বে বরিশালসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সামগ্রিক মাছের বাজার এবং সাধারণ ভোক্তাদের ওপরও। তাই বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ ব্যবসায়ীদের এই যৌক্তিক প্রতিবাদের প্রতি কতটা দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখে সেটাই এখন দেখার বিষয় বলে মনে করেন অনেকে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, ব্যবসায়ী কবির কাজী, আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।